আমরা সবাই রাজা আমাদের এই সুইজারল্যান্ডে!

সুইজারল্যান্ডের নাম শুনলেই সম্ভবত আমাদের সবার আগে সুইস ব্যাংকের কথা মনে আছে। আবার হয়তো, কেউ কেউ সুইস আল্পসের কথা বলবেন। জানা শোনারা জেনেভা ক্যাম্পের কথা বলবেন। চকলেটের কথা, বিশ্বের সবচেয়ে খাঁটি দুধের কথাও বলবেন কেউ। তবে, এখন আমরা তেমন কিছু তথ্যের কথা জানাতে যাচ্ছি আগে আপনারা কোথাও শোনেননি।

  • রাজধানী নেই, নেই রাষ্ট্রপতি

সুইজারল্যান্ডের কোনো রাষ্ট্রপতি নেই, নেই কোনো রাষ্ট্রপতি। তবে, চারটি  আনুষ্ঠানিক ভাষা আছে। দেশটিতে নাগরিকরা যেকোনি আইনে অনাস্থা প্রকাশ করে চাইলে সেটা বাতিল করে দিতে পারেন। সেখানো বর্ণবাদী বিরোধও নেই।

  • বন্দুকের স্বর্গরাজ্য

দেশটিতে ১৮ বছর বয়স থেকে সামরিক বাহিনীতে সার্ভিস দেওয়া বাধ্যতামূলক। পুরুষদের বড় একটা অংশ সামরিক প্রশিক্ষণ পাওয়া। তাই, প্রতেক্যের কাছে অস্ত্র থাকায় অবাক হওয়ার কিছু নেই। ১০০ জন পুরষের মধ্যে ৫০ জনের কাছেই বন্দুক থাকে। আট মিলিয়ন জনসংখ্যার মধ্যে চার মিলিয়ন বন্দুকধারী। যদিও, সেখানে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পৃথিবীর অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে কম। রাত ১০ টার পর কোনো রকম অ্যালকোহল বিক্রি করা হয় না।

  • ঘুষে নেই মানা

ঘুষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ২০১৭ সালে সুইজারল্যান্ড তৃতীয় অবস্থানে ছিল। সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হল দেশটিতে ঘুষ নেওয়াকে ‘লিগাল’ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। যেকোনো কাজের জন্য তাঁদের বিশেষ একটা সার্ভিস চার্জ দেওয়ার বিধান জারি করা হয়েছে। এটাকে তাঁরা ঘুষ ঠেকাতে দারুণ একটা হাতিয়ার বলে মনে করছে।

  • আয়ের ওপর জরিমানা

জোরে গাড়ি চালানোর জন্য দেশটিতে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জরিমানা দেওয়া লাগতে পারে। একজন সাধারণ গাড়ি চালক ঘণ্টায় ১৮০ মাইল গতিতে গাড়ি চালানোর দায়ে ৬৫০ ইউরো জরিমানা গুণেছিলেন।

ব্যাপার হল, দেশটিতে এই ধরণের জরিমানার পরিমান নির্দিষ্ট করা নেই। এটা নির্ভর করে ওই ব্যক্তির আয়ের ‍উপর। বেশি আয় করলে বেশি জরিমানা দিতে হবে। এমনটাই সুইজারল্যান্ডের আইনে বলা আছে।

  • চলকেট রফতানি

বার্নে প্রতিবছর সাত মিলিয়ন টোবলেরন চকলেটের বার বানানো হয়। সেটাও খুব বেশি আগের কথা নয় যখন, রুবি চকলেট নামে নতুন একটা চকলেট বাজারে আসে।

ভ্যালকাম্বি নামের একটি সুইস প্রতিষ্ঠান ‘কোম্বিবার’ নামের এক ধরণের সোনার বার বানায়। এদের আকার চকলেট বারের মত। এটা খুব সহজে ভাঙা যায়। ছোট ছোট টুকরো করে এই সোনাগুলোকে অর্থের পরিবর্তে ব্যবহার করা যায়। প্রতিটি টুকরোতে থাকে এক গ্রাম স্বর্ণ।

  • ছাদহীন হোটেল

সুইস আল্পসে দুই জমজ ভাই ফ্র্যাঙ্ক ও প্যাট্রিক রিকরিন ‘নাল স্টার্ন’ নামের একটি হোটেল নির্মান করেছেন। এর বিশেষত্ব হল, এই হোটেলে কোনো ছাদ নেই। এখানে প্রতিটি ঘরে রাত কাটাতে খরচ হবে ৩০০ ডলার। এই অভিনব হোটেলটি সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে চার হাজার ফিট উঁচুতে অবস্থিত। ডাবল বেডের সাথে সেখানে একটা টেবিল, এমনকি একটা টেলিভিশনও থাকে।

সবচেয়ে আর্কষণীয় ব্যাপার হল, এই বেডে শুয়ে থেকেই অতিথিরা সুইজারল্যান্ডের পুরোটা এক ঝলক দেখে ফেলতে পারেন। এই দুই ভাই এই হোটেল নির্মানের আগেই আরো কয়েকটি ব্যাতিক্রমী হোটেল বানিয়েছিলেন। এর একটি আগে ছিল বোম শেল্টার, আরেকটি নিউক্লিয়ার বাঙ্কার।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।