ফেসবুক চ্যাটিং: মনের কথা বনাম মুখের কথা

(ফ্রেন্ডলিস্টের টপ সুন্দরী তুমিই এখন চ্যাটে আছো। সো, নক দিলাম। প্রচুর লাইন মারব।)

– হাই

(হালা ছ্যাচড়া। মাইয়া দেখলেই নক দিতে ইচ্ছা করে। ভদ্র বলে কিছু বললাম না। বললে তখন বলবি মেয়ে খারাপ।)

– হ্যালো

(তুমি ভালো না খারাপ আছো এটা নিয়ে আমার কোনো টেনশন নাই। মইরা গেলেও কিছু যায় আসে না। বাট চ্যাটিং তো আগে বাড়াইতে হবে, তাই জিজ্ঞেস করলাম।)

– কেমন আছো?

(হেহে, শুধু আমারটা বলবো। তোরটা জিগাবো না। তার মানে আর মেসেজ দিয়ে ডিস্টার্ব করবি না। মাথায় ঘিলু থাকলে বুঝে নিবি।)

– ভালো।

(সুন্দরী বইলা ভাব নিলি। অবশ্য আমিও হাল ছাড়ার পাত্র না। প্রেম করতে গেলে এতো সহজে হাল ছাড়লে চলে না।)

– কি করো?

(কি ছ্যাঁচড়া রে বাবা। এতো সহজে রেহাই দিবে না। এক মিনিটে প্রোফাইলে গিয়ে ছবি দেখে আসি। বাহ দেখতে খারাপ না। তার উপ্রে লাইক কমেন্টও পায় স্ট্যাটাসে ভালোই। হুম, চ্যাট করাই যায়।)

– কিছুনা, ইউ?

(ইয়েস ফাইনালি প্রশ্ন করলো। তারমানে পটে গেছে। ইয়াহু। কিন্তু এখন যে বাথরুমে বসে এক নাম্বার করতে করতে ফোনে চ্যাট করছি এটা তো বলা যাবে না। বললে ফাউল ভাববে।)

– মুভি দেখি আর চ্যাট করি তোমার সাথে। ফরেস্ট গাম্প মুভি।

(হুমম, আমার জন্য কোনো প্রশ্ন নাই। একটা লাইক দিয়ে দেই।)

–  (লাইকের ইমো)

(ধুর তারমানে ভুল ভাবছিলাম। প্রেমে পড়েনাই। তাইলে তো লাইক দিত না। কোনো প্রশ্ন করত। লাইক মানে তো ইগনোর। আচ্ছা আমিই আবার জিগাই।)

– খাইছ?

(তুই আমার বাপ না মা? এতোকিছু দিয়ে কি করবি?)

– হ্যা, আপনি?

(ইয়েস আবার প্রশ্ন করেছে। চালায় যাওয়া উচিত আমার।)

– হুম, কি খাইছ?

(পালং শাক আর মুলা দিয়ে পুটি মাছের ঝোল খাইছি এটা বললে ভাববে গরীব।)

– মুরগীর মাংস, ইলিশ মাছ, মাসকলাইয়ের ডাল, ডিম ভুনা। আপনি?

(খালি আলু ভর্তা আর ডাউলের কথা বলা যায় নাকি? মেসে থাকি বলে তো আর সবসময় এগুলা খাই না। তাছাড়া কে আর এসে দেখে যাচ্ছে।)

– কাচ্চি বিরিয়ানী খাইলাম।

(আমার জন্য কোনো প্রশ্ন নাই। আর আমি যেহেতু সুন্দরী মেয়ে সেহেতু নিজে থেকে কোনো প্রশ্নও করব না। এটা সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। আর রিপ্লাই দিব না। আচ্ছা একটা ইমো দিয়ে রাখি।)

– (যেকোন ইমো)

(যাক, লাইক থেকে ইমোতে উন্নতি হইছে। এটা অবশ্যই সুসংবাদ। মেয়েরা লাজুক বলে প্রশ্ন করতে পারে না, কিন্তু ইমো দিয়ে বুঝাইলো চ্যাট করতে ইচ্ছুক। পরিচয় জেনে নেই। আমার বড় না ছোট।)

– কিসে পড়ো?

(আসছে ইন্টার্ভিউ নিতে। নিজেরে কি অফিসের বস ভাবিস? সবাইরে একই প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে বিরক্ত আমি।)

– অনার্স ফার্স্ট ইয়ার।

(ইয়েস, ভালোই ছোট। একদম পারফেক্ট। বর বউএর মধ্যে ৫ বছরের গ্যাপ থাকাই ভালো। এবার তাইলে ইম্পর্টেন্ট জিনিসটা জেনে নিই। বাট সরাসরি না, একটু বুদ্ধি করে। সরাসরি জিগাইলে ছ্যাচড়া ভাববে।)

– এতো রাতে অন্য ছেলের সাথে চ্যাট করছ, বয়ফ্রেন্ড মাইন্ড করবে না?

(হালা ছ্যাচড়া। তুমি যে কি জানতে চাও তা তো আর আমি বুঝিনা। দুধ খাই এখনো।)

– বয়ফ্রেন্ড নাই আমার।

(ইয়েস, লাইন একদম ক্লিয়ার। এতো খুশি লাগতেছে। কি বলবো বুঝতেছিনা। যা খুশি কিছু একটা জিগাই।)

– নাই কেন?

(দাড়া মজা নেই। হাল্কা একটা ছ্যাকা দিব। হাহা, ভাবতেই হাসি আসছে। মুখটা যদি দেখতে পারতাম এখন, ইশ।)

– বয়ফ্রেন্ড থাকলে আমার হাজবেন্ড মাইন্ড করবে, সেজন্য নাই।

(শিট শিট শিট। এই ছিল আমার কপালে। শিট। এটাও হইলো না, ধুর। আচ্ছা এটা বাদ। নতুন কাউকে খুজে বের করতে হবে সুন্দরী দেখে।)

– ওকে আপু, ঘুম আসছে। যাই। গুড নাইট।

(হাহা, ছ্যাচড়া শালা। যা ভাগ। তোর মত পোলা লাগবো না। আমার কি অভাব আছে। ইনবক্স ভরা হাই হ্যালো। দেখি আরেকটারে রিপ্লাই দিয়ে একই সিস্টেমে ছ্যাকা দেই। সেই মজা। হাহাহা।)

– ওকে ভাইয়া, শুভ রাত্রি।

__________

নিছক কল্পনাপ্রসুত লেখা রম্য। এর সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নাও থাকতে পারে।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।