তাঁরা চিত্তানন্দের চার

তাঁরা চিত্তানন্দের চার

ব্যাটে তাদের রঙ খেলে, শত রঙের সমাহার।

তাঁরা যেন মালী-

ব্যাটে ফোটান ফুল,

সে ফুলের সৌরভে সুরভিত মাঠে উঠে দাঁড়ায় ভক্তকূল।

তাঁরা বুঝি চিত্রকর-

ব্যাটকে বানান তুলি,

আপন খেয়ালে সবুজ গালিচার বিশাল ক্যানভাসে খেলেন রঙকেলি।

তাঁরা হয়তো সুর তুলেন ব্যাটে-

ক্রিকেটের রবিশঙ্কর, বিটোফেন হয়ে মাতাল করে তুলেন সবুজ নন্দন,

সুরেরও ছন্দে, মৌতাত গন্ধে ভরে উঠে সে প্রাঙ্গন।

হয়তো তাঁরা কবি-

ব্যাটে তাদের বুলি ফোটে,

কবিতা হয়ে ছুটে মাঠের চারদিকে।

তাঁরা চমৎকার, তাঁরা চিত্তানন্দের চার,

তাদের ব্যাটে যেন ব্যাটিং-সাম্রাজ্যের সব সৌন্দর্য্যের সমাহার।

__________

সময়টা এখন তাদের। চার তরুণের। সময়কে জয় করে, যুগশ্রেষ্ঠ’র তকমা লেপে, সেরাদের সেরা হওয়ার লক্ষ্যে ক্লান্তিহীন সম্মুখ যাত্রা তাদের চলছেই।

মাত্র বছর দুয়েকের ব্যবধানে ধরাধামে এসেছিলেন তাঁরা। পৃথিবীর চার প্রান্তে চারজন। সবার আগে কোহলি, সবার শেষে রুট। মাঝে স্মিথ ও উইলিয়ামসন। আন্তর্জাতিক আঙিনায় পদার্পণেও অব্যহত ছিল সে ধারা। সবার আগে কোহলি, তারপর স্মিথ, পরে উইলিয়ামসন এবং সবশেষে জো রুট পা রেখেছিলেন বিশ্বক্রিকেটের বিশাল উঠোনে।

চারজনের মধ্যে দারুণ একটা মিল লক্ষ্য করা যায়। প্রথমে প্রত্যেককেই বেছে নিতে হয়েছে সংগ্রামের পথ। দলে থিতু হতে লড়তে হয়েছে। যদিও পরিশ্রম, অধ্যবসায় আর অবিচল লক্ষ্য তাদেরকে কক্ষচ্যুত হতে দেয়নি কখনোই।

একই রকম রান-ক্ষুধা, একই রকম নিবেদন তাদেরকে আজ পরিণত করেছে বিশ্বের অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় ক্রিকেট চরিত্রে।

__________

স্টিভ স্মিথের আবির্ভাব শেন ওয়ার্নের উত্তরসূরী হয়ে। উদীয়মান লেগ স্পিনার হিসেবেই দলে জায়গা পেয়েছিলেন। তবে যাঁর ব্যাটে রানের অমন ফল্গুধারা, লেগ স্পিনের চাদরে তা লুকিয়ে থাকে সাধ্য কি! ধীরে ধীরে তাঁর রুপান্তর ঘটল একজন ব্যাটসম্যান-এ, যিনি মাঝে মধ্যে এক-আধটু লেগ স্পিন করেন। ২০১৩তে মোটামুটি রানের মধ্য থাকলেও, ২০১৪তে নিজেকে মেলে ধরলেন পুরোপুরি। পালাবদলের মধ্য দিয়ে যাওয়া অজি ক্রিকেট হাঁপ ছাড়ল একজন এমন ধারাবাহিকতার প্রতিমূর্তি পেয়ে।

উইলিয়ামসনের ফিরে পাওয়ার গল্পটাও স্মিথের মতোই। বয়সভিত্তিক দল থেকেই বিবেচিত হচ্ছিলেন, কিউই ক্রিকেটের সেরা প্রতিভারুপে। অনেকে বলছিলেন, মার্টিন ক্রোর পর এত ভালো ব্যাটসম্যান আর পায়নি নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের ভার একদিন যে, উইলিয়ামসনের কাঁধেই উঠছে, এও ছিল অনেকটাই নিশ্চিত। কিন্তু সমস্যা হচ্ছিল যে, উইলিয়ামসন যে নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারছিলেন না। অবশেষে এলো ২০১৩, উইলিয়ামসন ফিরে পেলেন নিজেকে। তিনিও ২০১৪তে এসে বিকশিত হলেন পূর্ণরুপে। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটও হাঁপ ছেড়ে বাঁচল যেন!

জো রুটের শুরুটা খুব বেশী আগের নয়। সে হিসেবে স্মিথ-উইলিয়ামসনের তুলনায় বেশ দ্রুতই নিজেকে প্রমাণ করতে পেরেছিলেন, কিশোর-গোছের এই তরুণ। শুরুটা আহামরি না হলেও, ধীরে ধীরে নিজেকে ফিরে পেয়েছিলেন। তিনিও নিজেকে পুরোপুরি মেলে ধরার জন্য বেছে নিয়েছিলেন ২০১৪-কেই

বিরাট কোহলির গল্পটা অবশ্য কিছুটা ভিন্ন। রঙিন আঙিনায় নিজের অপরিহার্যতা প্রমাণ করলেও, কেন যেন শ্বেত পোষাকে সব ক্লিক করছিল না। শচীন টেন্ডুলকারের উত্তরসূরী বলা হয় তাঁকে; সেজন্যেই কি শচীনের অবসরের পরই লাল বলের ক্রিকেটটা পুরো আত্মস্থ হয়ে গেল তাঁর? ২০১৩তে দারুণ একটা সময় কাটানোর পর, ২০১৪তেও ছিলেন বেশ সপ্রতিভ। তারপর তো সময় যত গেছে ভিরাট ততই ‘বিরাট’ হয়ে ধরা দিয়েছেন বিশ্বলোকে।

__________

ঠিক ২০১৩-২০১৪’র এই সময়টাতে বিশ্বক্রিকেট নড়ে চড়ে বসে। অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করে, চার প্রান্তের চার তরুণ অবিশ্বাস্য প্রতিভায় বলীয়ান হয়ে, রান করাটাকে কত্ত সহজই না করে নিয়েছে! কি লাল বল, কি সাদা বল, কি শ্বেত ক্রিকেট, কি রঙিন ক্রিকেট, তাদের রান করাতে বুঝি কোনো ক্লান্তি নেই! কি এক অমানুষিক মানসিকতায় তাঁরা কঠিন সব বিরুদ্ধ পরিস্থিতিও অনুকূলে নিয়ে আসেন।

আমরা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাই, ব্যাটিং-কাননের সুন্দরতম পুষ্পের সমাহার ওই ছোট্ট কাষ্ঠ টুকরোই কীভাবে জমা হয়! ব্যাটিং এতটা সুন্দরও কি করে হতে পারে?

__________

পরিসংখ্যান বলছে, গত চার বছরে এই চারজনের চেয়ে বেশি রান করতে পারেননি আর কেউই। কেবল সাঙ্গাকারা ও ডি ভিলিয়ার্সই কেবল এই চারজনের মতো পঞ্চাশোর্ধ গড় রাখতে সক্ষম ছিলেন।

সেঞ্চুরিকে ডালভাত বানিয়ে ফেলা বিরাট কোহলি যে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি করবেন, এ তো জানা কথা। তবে ডেভিড ওয়ার্নার ২৮টি ও হাশিম আমলা ২২ টি সেঞ্চুরি নিয়ে এই চারজনের মাঝে ঢুকে গেছেন। একইভাবে ঢুকে পড়েছেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস ৪০টি ও ফাফ ডু প্লেসিস ৩৮ টি ফিফটি করে।

এই চার তরুণ অন্যদের চেয়ে কতটা এগিয়ে সেটাই যেন জানান দিচ্ছে এই পরিসংখ্যান।

টেস্ট ক্রিকেটে চারজনই পাঁচ হাজারী ক্লাবে আছেন এখনো। স্মিথের গড় অন্যদের তুলনায় খানিকটা বেশি হলেও, রানের বিচারে সবাই খুব কাছাকাছিই অবস্থান করছেন। আবার একদিনের ও টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে বিরাট কোহলি অনেক বেশী এগিয়ে রয়েছেন। যেখানে তিনি ওডিয়াই ক্রিকেটে দশ হাজারি ক্লাবে প্রবেশ করার প্রহর গুণছেন, সেখানে অন্যদের কেউই পেরোতে পারেননি পাঁচ হাজারের চৌকাঠ। তবে এটাও সত্যি যে, কোহলি ম্যাচও অনেক বেশি খেলেছেন। এই চারজনের মধ্যে একমাত্র কোহলিই ক্রিকেটের তিনটি আঙিনাতেই পঞ্চাশোর্ধ গড় রাখতে সক্ষম হয়েছেন। চিত্তানন্দের অন্য তিন কিন্তু রঙিন পোষাকে অনেক খানি পিছিয়ে আছেন সে হিসেবে।

অবশ্য নেতৃত্বের পরীক্ষায় চারজনই আবার একই সমান্তরালে। প্রত্যেকেই যে জাত-নেতা তার প্রমাণ দিতে একদমই সময় নেননি। স্মিথের ব্যাপারটাই দেখুন, অধিনায়কত্ব পেয়ে তাঁর ব্যাটিং গড় ছুঁয়েছে ৭০ এর কোটা! যেখানে তাঁর সাধারন গড় ছিল ৫১। আবার উইলিয়ামসনের ক্ষেত্রে দেখুন, ৪৮ গড়টাই অধিনায়কত্ব পেয়ে কেমন ৬০ এর কোটায় পৌঁছে গেছে! ভিরাট কোহলি তো অধিনায়কত্ব পেয়ে যেন বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছেন। তাঁর গড়পড়তা ৪১ গড়টাই অধিনায়কত্ব পেয়ে হয়ে গেছে ৬৭! সে হিসেবে রুটের খুব বেশী পরিবর্তন হয়নি। ৫২ গড়টাই অধিনায়কত্বের পর পৌঁছেছে ৫৪তে। কিন্তু নেতৃত্ব যে কোনো চাপই না, সেটা যেন স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

জো রুট এখনো ইংলিশ ক্রিকেটের পুরো সাম্রাজ্যের ভার পাননি, কেবলি সবচেয়ে বড় রাজত্বটার অধিপতি হয়েছেন। তাই রঙিন ক্রিকেটের নেতৃত্ব যদি আলোচনা না-ও করি, তাহলেও তাঁরা প্রত্যেকে যে স্বভাব নেতা সে নিয়ে খুব একটা সংশয় নেই।

একদিনের ক্রিকেটে অধিনায়ক-কোহলি আরো বেশী দুর্দান্ত হয়ে দেখা দিয়েছেন। স্মিথ ও উইলিয়ামসনের সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়ার প্রবণতাও লক্ষণীয় কিন্তু! সময়ই বলে দেবে, সাদা বলের ক্রিকেটেও অধিনায়ক-রুট এই তিনের সাথে একই সমান্তরালে হাঁটতে পারবেন কি না!

*পরিসংখ্যান ডিসেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত

কোহলি যদি হন আগ্রাসনের অন্য নাম, তবে উইলিয়ামসন হয়তো শান্ত, সৌম্য ও নম্রতার অনুপম এক উপমা। আবার স্মিথ যদি ব্যকরণ না মেনে সৃষ্টিছাড়া উল্লাসে মাতেন, তাহলে রুট হয়তো গাইবেন শুদ্ধ ব্যাটিংয়ের জয়গান। চারজনের চার ধরণের ব্যক্তিত্ব।

রুটের মধ্যে আপনি এখনো খুঁজে পাবেন, উচ্ছল এক কিশোর। যে ২২ গজের আয়তক্ষেত্রে গিয়েই ছটফট করতে থাকে। তিনি এত বেশী ইনিংস রোটেট করেন যে, ১/২ নিয়ে তাঁর চেয়ে বেশি রান বোধহয় আর কোনো ব্যাটসম্যান করেননি।

স্মিথেরও ছটফটানি বড্ড বেশি। তবে সেটা নিয়মভঙ্গের জন্য, ব্যাটিং-ব্যকরণকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাতে। স্বনামধন্য ক্রিকেট লিখিয়ে জেরর্ড কিম্বার যেমন বলেছেন, ‘ব্যাটিং যদি একটা কোড হয়, তাহলে স্মিথ হচ্ছেন একজন হ্যাকার।’ সিধে ব্যাটিং তাঁর আসে না, তিনি উলটো রথেই চলবেন। কঠিন কাজটাই যেন তাঁর কাছে ভীষণ সহজ!

উইলিয়ামসন আবার উলটো কাজে যাবেনই না। যা শিখেছেন তা-ই যেন ভীষণ মনোযোগী ছাত্রের মতো একধ্যানে করে যাবেন। তিনি হয়তো ব্যর্থ হবেন, কিন্তু আপনি নিশ্চিত বুঝবেন, ব্যর্থতা তাঁর প্রাপ্য ছিল না।

নিবেদন ও পরিশ্রমের ব্যাপারগুলোকে অন্য মাত্রা দিয়েছেন বিরাট কোহলি। নিজেকে নিশ্ছিদ্র ও অটুট করে তুলতে দিনকে দিন কমিয়ে আনছেন তাঁর ভুলের পরিমাণ। এতটাই ত্রুটিমুক্ত হয়ে যাচ্ছেন যে, বোলার বুঝি তাঁর উইকেটের জন্য ভাগ্য ছাড়া আর কোনো কিছুর আশা করতে পারবেন না! জেরর্ড কিম্বার যথার্থই বলেছেন, ‘আপনি যখন কোহলিকে বল করবেন, আপনি রাজা হতে পারে এমন কাউকে বল করছেন এমনটা মোটেও ভাববেন না। বরং নিশ্চিত জানবেন, আপনি যাঁকে বলছেন করছেন তিনি নিজেকে রাজা-ই মনে করে!’

আমরা হয়তো ভাবতে পারি, কোহলি হয়তো যুগশ্রেষ্ঠ হবেন। কিন্তু আসলে কোহলি নিজের মধ্যে অনেক আগেই শ্রেষ্ঠত্বের বীজ বপন করে নিয়েছেন। সেই বীজই উত্তরোত্তর মহীরুহ হচ্ছে কেবল!

__________

ব্যক্তিত্বের কথা যখন এসেই গেল, ব্যক্তিগত জীবন আর বাকী থাকে কেন?

কারও সঙ্গে গাঁটছাড়া না বাধলেও, চারজনের কেউই কিন্তু সুবোধ বালকটি নন। আমাদের উপমহাদেশে বিরাট-আনুশকা জুটির কথা কম-বেশী সবাই জানেন। এ দ্বার, সে দ্বার ঘুরে বেশ কয়েক বছর ধরেই ভারতীয় ক্রিকেট রাজকুমার বিরাট কোহলি থিতু হয়েছেন আনুশকাতে। মাস কয়েক আগে বিয়েটাও সেরে ফেলেছেন তাঁরা।

বিয়ে সেরে ফেলতে পারেন রুট-ক্যারীও। বছর দুয়েক ধরেই পরস্পরের প্রতি দায়বদ্ধ তাঁরা। প্রায় দুই বছর আগে নাকি ইংলিশ ক্রিকেটের যুবরাজ রুটই বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ক্যারী কোটেরেলকে।

স্মিথও স্থির আছেন ডেনিয়েলে। অজি-ক্রিকেটের রাজপুত্র হওয়ার অনেক আগে থেকেই, আইনের ছাত্রী ডেনিয়েলে উইলিস-এ মজেছেন স্মিথ। এতদিন চেপে রাখলেও এখন প্রকাশ্যেই স্বীকার করেন সম্পর্কের কথা।

তাসমান পাড়ের আরেক রাজপুত্র কেন উইলিয়ামসন কিন্তু প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি, সারাহ রহীমের সাথে সম্পর্কের কথা। এই নার্সের সাথে তাঁর রহস্যঘেরা সম্পর্ক নিয়ে ভালোই ধন্ধে আছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট।

তবে ব্যক্তি জীবনে প্রত্যেকের এই কোনো না কোনো খুঁটিতে আবদ্ধ থাকা, এই দায়বদ্ধতা কিন্তু ইঙ্গিত দেয় তাদের শৃংখলিত জীবন ব্যবস্থারও। হয়তো এই খুঁটিবদ্ধ জীবনও ভূমিকা রেখেছে তাদের অমন সাফল্যমন্ডিত ক্যারিয়ারে!

__________

পালাবদলের মধ্য দিয়ে যাওয়া অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট কিছুটা নির্ভার হয়েছে স্টিভ স্মিথকে পেয়ে। সেই স্মিথকে নেতৃত্বের পূর্ণ দায়িত্ব সঁপে দিয়ে আপাতত অজি ক্রিকেটে বইছে স্থিতির সুবাতাস। উইলিয়ামসনের উপর দায়িত্ব দিয়ে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট হয়তো আগামী এক দশকের জন্যেই নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে। খুব বড় অঘটন ছাড়া কিউই ক্রিকেটে নেতৃত্বের পট পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

রুট এখনও পূর্ণ দায়িত্ব না পেলেও, তিনিই যে ইংলিশ ক্রিকেটের দিশারী হবেন তা মোটামুটি নিশ্চিতই বলা যায়। ভিরাট কোহলি বনে গেছেন ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বেসর্বা। তিনি যেভাবে নিজের ছাপ রাখতে শুরু করেছেন অদূর ভবিষ্যতে যে, ভারতের ক্রীড়া ক্ষেত্রেই বিশাল কোনো ভূমিকা রাখবেন না, সে কল্পনাও উড়িয়ে দেয়ার জো নেই! ভিরাটের ব্যক্তিত্ব বলছে, তিনি বিশ্বক্রিকেটেরও মুখপাত্র হয়ে উঠার প্রবল সম্ভাবনা রাখেন।

__________

অনাদিকাল থেকে ক্রিকেটের এই সুদীর্ঘ সময়কালে কখনোই একই সাথে এমন চারজন প্রতিভাশালী ব্যাটিং-চরিত্র দেখা যায়নি। এই চতুষ্টেয়’র সঙ্গে কিছুটা তুলনায় আসতে পারেন, উইন্ডিজের সেই পেস-চতুষ্টেয় কিংবা ভারতের স্পিন-চতুষ্টেয়। অথবা আশির দশকের চার-অলরাউন্ডারকেই হয়তো তুলনা করা যেতে পারে, এই ব্যাটিং-চতুষ্টেয়’র সাথে।

তাঁরা শুধু ধারাবাহিক দারুণ ক্রিকেটই খেলছেন না, একই সাথে হৃদয় জয় করা ক্রিকেটও উপহার দিচ্ছেন। তাদের সুনিপুণ নেতৃত্ব ও কূশলী ক্রিকেট দিয়ে, আমাদের বিমোহিত করে চলেছেন বারংবার।

তাঁরা চিত্তানন্দের চার –

তাদের ওই কাষ্ঠখন্ডের কারুকাজ আমাদের মুগ্ধ করে বারবার।

আরো অনেক দিন,

এক দশক কিংবা এক যুগ-

আমাদের চিত্ত উদ্বেলিত হোক তাদের অবিশ্বাস্য কর্মকান্ডে;

চার মানবের অতিমানবীয় সৃষ্টিশীলতার উচ্ছ্বাসে,

আমরা ভেসে যেতে চাই,

বিমুগ্ধ সৌন্দর্য্যের মহাসাগরে।

এই মুগ্ধতা, এই অপার বিস্ময়,

আমাদের এই শিশুর মতো তাজ্জব বনে যাওয়া,

আমাদের বড় ভালো লাগে,

আমরা তাই বিস্মিত হতে চাই অনেক অনেক বার।

হে, চিত্তানন্দের চার!

আমাদের আনন্দিত করো বারবার।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।