ঝিলিক ছড়াক পূর্ণিমা

কথা ছিল তাকে দেখা যাবে এক সাহসী সাংবাদিকের ভূমিকায়। বাংলা চলচ্চিত্রপ্রেমীরা নড়েচড়ে বসেছিলেন সংবাদ শুনে। তাদের আশায় গুড়েবালি হতে সময় লাগলো না। তিনি জানিয়ে দিলেন সাংবাদিক হয়ে সংবাদ সংগ্রহ করা তার হচ্ছেনা। আবার প্রতীক্ষা। কবে তিনি নতুন চলচ্চিত্রের ঘোষণা দেবেন।

শেষ পর্যন্ত খবর পাওয়া গেল। আসছেন তিনি, নায়িকা হয়েই আসছেন; পার্শ্বচরিত্রে নয়। জুটি বাঁধবেন তার প্রিয় সহকর্মী, নায়কের সাথে। কাজ করবেন তার আরেক প্রিয় নায়কের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানে। পাঠক, নিশ্চয়ই ধরে ফেলেছেন কার কথা বলছি। তিনি প্রিয়দর্শিনী মৌসুমীর পর মিষ্টি চেহারার জন্য সমাদৃত অভিনেত্রী পূর্ণিমা। প্রায় অর্ধযুগ পর চলচ্চিত্রে ফিরছেন তিনি।

সোহানুর রহমান সোহানের চলচ্চিত্রে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল তাকে ২০১২ সালে। মাঝে ২০১৭ সালে একটি চলচ্চিত্র মুক্তি পেলেও সেটিকে নিজের বলতে পারেননি পূর্ণিমা। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী এ অভিনেত্রীর এমন অনুপস্থিতি ব্যথিত করে দর্শকদের।

পূর্ণিমা এ সময়ে সংসারকে আপন করে নিয়েছেন। স্বামী, কন্যাকে সময় দিয়েছেন। পবিত্র বাঁধনে বেঁধেছেন তার ছোট সংসার। এরমাঝেও পূর্ণিমা নাটকে, উপস্থাপনায়, বিজ্ঞাপনে সময় দিয়েছেন। টুকটাক কাজ করে মিডিয়ায় যুক্ত ছিলেন। তবুও দর্শকের মাঝে একটি আক্ষেপ ছিল, সিনেমার নায়িকাকে সিনেমাতেই মানায়; ছোটপর্দায় নয়। তা ভেবেই হয়তো পূর্ণিমা নিয়মিত সোশাল মিডিয়ায় ছবি আপলোড করে যাচ্ছেন, কিন্তু তাতে কী আর দর্শক তৃপ্ত হয়? দর্শক যে তাকে নায়িকারূপে চায়!

পূর্ণিমা কী বসেছিলেন? নাহ, তিনি পছন্দসই কিছু পাচ্ছিলেন না। টিভি নাটক পাওয়া যতোটা সহজ সিনেমা ততোটা নয়। তাই তো সিনেমার মেয়ে পূর্ণিমাকে সিনেমায় পাওয়া যাচ্ছিল না। তিনি আবার উপস্থাপনা করে চমকে দিয়েছেন গোটা মিডিয়াকে। অন্যের স্বর নকল করার অসাধারণ এক প্রতিভা তার রয়েছে, রয়েছে দারুণ সেন্স অব হিউমার। তাই তো বিতর্কিত হলেও সফলভাবে উপস্থাপনা চালিয়ে যাচ্ছেন ইদানিংকালে।

চিত্রনায়ক মান্না ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের একটি অধ্যায়। তিনি বলতে গেলে একক প্রচেষ্টায় ঢালিউডকে সামলেছিলেন প্রায় এক দশক। তিনি দেশের সকল শীর্ষস্থানীয় নায়িকার সঙ্গে কাজ করেছিলেন। তার সময়ে অপেক্ষাকৃত নতুন নায়িকা পূর্ণিমাও কাজ করেছিলেন মান্নার সঙ্গে। মান্নার প্রযোজনা সংস্থার তিনটি চলচ্চিত্রে নায়িকারূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন পূর্ণিমা।

দীর্ঘকাল পর পূর্ণিমার চলচ্চিত্রে প্রত্যাবর্তনেও জড়িয়ে গেল মান্নার নাম। প্রয়াত মান্নার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবার আসছেন পূর্ণিমা। এবার তাকে চলচ্চিত্রে নিলেন মান্নার স্ত্রী শেলী মান্না, বিপরীতে চিত্রনায়ক ফেরদৌস।

প্রয়াত সাংবাদিক আহমেদ জামান চৌধুরীর একটি ভাবনা ছিল, তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন। গল্পের নাম, কলাকুশলী কারা হবে ভেবে রেখেছিলেন। স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার আগেই সব এলোমেলো হয়ে গেল। তার ভাবনার নায়ক হারিয়ে গেলেন পৃথিবী হতে, স্বপ্নটাও তাই যেন মাটিচাপা পড়লো। তার সেই গল্পের নাম ছিল “জ্যাম”, কলাকুশলী ছিলেন মান্না ও পূর্ণিমা। এতকাল পর, হঠাৎ করেই যেন আহমেদ জামান চৌধুরী আবার আলোচনায় এলেন। শেলী মান্না সেই স্বপ্নটিকেই বাস্তবে রূপ দিতে চলেছেন। সব ঠিক আছে, শুধু মান্না নেই। তার স্থলে এসেছেন ফেরদৌস।

শেলী মান্না বিচ্ছিন্ন সে গল্পকে সাজিয়ে নিয়েছেন। পান্থ শাহরিয়ার রচনা করেছেন সংলাপ ও চিত্রনাট্য। চলচ্চিত্রটি নির্মান করবেন নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামূল। গান লেখার মানুষটিও ঠিক হয়ে গেছে, আমীনূর রহমান। ঠিক যেমন গল্প চেয়েছিলেন পূর্ণিমা, সেরকম গল্প পেয়েই তিনি চলচ্চিত্রে ফিরছেন। আশান্বিত হচ্ছেন সেসব সিনেমাপ্রেমী, যারা পূর্ণিমার আলো পেতে সিনেমাহলে ভিড় জমাতেন।

নিত্যনতুন চোখ ধাঁধানো স্থিরচিত্র দিয়ে পূর্ণিমা আলোচিত হচ্ছেন, আলোড়িত করছেন তরুণদের প্রেমিক হৃদয়; এবার চলচ্চিত্রকে তিনি পূর্ণিমার ঝিলিকে আলোকিত করবেন হারিয়ে যাওয়া দিনের মতো এ প্রত্যাশা নিশ্চয়ই অমূলক নয়!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।