পতনের দুয়ারে খান সাম্রাজ্য?

২০০০ থেকে ২০০৬ সাল – এই সময়ের মধ্যে চার বার ঘটেছে এই ঘটনা। ২০০০, ২০০১, ২০০৩ ও ২০০৬ – এই চারবার বছরের সবচেয়ে ব্যবসায়িক সাফল্য পাওয়া সিনেমার তালিকায় ছিল না তিন খানের কোনো সিনেমা। এই চার বছরের সেরা বানিজ্যিক সিনেমা ছিল যথাক্রমে ‘কাহো না প্যায়ার হ্যায়’, ‘গাদার’, ‘কোয়ি মিল গ্যায়া’ ও ‘ধুম ২’।

২০০৭ সালের পর থেকে ২০১৭ – এই ১১ টা বছর পুরোপুরি রাজত্ব করেছেন খানরা। এই সময়ে আমির খানের পাঁচটি, সালমান খানের পাঁচটি ও শাহরুখ খানের একটি ছবি বছরের সেরা বানিজ্যিক সিনেমার আসনে বসে। ব্যতিক্রম ঘটলো ২০১৮ সালে এসে।

এবার তিন খানের একটি করে সিনেমা মুক্তি পেলেও কোনোটাই আশানুরূপ ফলাফল আনতে পারেনি। ব্যবসাফল্য তুলনামূলক কম তো বটেই, সালমান খানের ‘রেস ৩’, আমির খানের ‘ঠাগস অব হিন্দোস্তান’ ও শাহরুখ খানের ‘জিরো’ – তিনটি সিনেমাই কনটেন্টহীনতার দোষে দুষ্ট।

২০০০ সাল থেকে বলিউডের সেরা বানিজ্যিক সিনেমা

  • ২০০০ সাল: কাহো না প্যায়ার হ্যায় (৪৪ কোটি রুপি)
  • ২০০১ সাল: গাদার (৭৬ কোটি রুপি)
  • ২০০২ সাল: দেবদাস (৪১ কোটি রুপি)
  • ২০০৩ সাল: কোয়ি মিল গ্যায়া (৪৭ কোটি রুপি)
  • ২০০৪ সাল: বীর-জারা (৪১ কোটি রুপি)
  • ২০০৫ সাল: নো এন্ট্রি (৪৪ কোটি রুপি)
  • ২০০৬ সাল: ধুম ২ (৮১ কোটি রুপি)
  • ২০০৭ সাল: ওম শান্তি ওম (৭৮ কোটি রুপি)
  • ২০০৮ সাল: গজনি (১১৪ কোটি রুপি)
  • ২০০৯ সাল: থ্রি ইডিয়টস (২০১ কোটি রুপি)
  • ২০১০ সাল: দাবাঙ (১৪১ কোটি রুপি)
  • ২০১১ সাল: বডিগার্ড (১৪৪ কোটি রুপি)
  • ২০১২ সাল: এক থা টাইগার (১৮৬ কোটি রুপি)
  • ২০১৩ সাল: ধুম ৩ (২৬০ কোটি রুপি)
  • ২০১৪ সাল: পিকে (৩৩৭ কোটি রুপি)
  • ২০১৫ সাল: বাজরাঙ্গি ভাইজান (৩১৫ কোটি রুপি)
  • ২০১৬ সাল: দাঙ্গাল (৩৭৪ কোটি রুপি)
  • ২০১৭ সাল: টাইগার জিন্দা হ্যায় (৩৩৯ কোটি রুপি)
  • ২০১৮ সাল: সাঞ্জু (৩৩৪ কোটি রুপি)

খানরা নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে না পারলেও, কনটেন্ট নির্ভর সিনেমা করে আয়ুষ্মান খুড়ানা (বাধাই হো এবং আন্ধাধুন), রাজকুমার রাও (স্ত্রী) ও ভিকি কৌশলের (রাজি) মত অভিনেতারা সফল হয়েছেন। এসব কারণেই একটা প্রশ্ন উঠছে – তাহলে কি খানদের সাম্রাজ্যের পতন ঘটতে চলেছে?

সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছেন সালমান খান। আগের বছরেই যিনি ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’-এর মত সিনেমা করে দর্শক ও সমালোচক – দু’পক্ষের মনই জয় করেছেন, সেখানে এবছরে তাঁর করা রেস ৩ চূড়ান্ত ব্যর্থতার মুখ দেখেছে। অর্থহীন গল্প, ভিত্তিহীন টুইস্ট, আজগুবি ডায়লোগ – সব মিলিয়ে সিনেমাটির কোনো আগামাথা ছিল না। হ্যা, যদিও স্রেফ সালমান খান বলেই সিনেমাটি শতকোটির ঘরে নাম লিখিয়েছে।

তবে, সালমান খানের চেয়ে একটু এগিয়ে থাকবেন আমির ও শাহরুখ। কারণ দু’জনই ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা করেছেন। যদিও, ঠাগস অব হিন্দোস্তান আর জিরো – দু’টোর স্ক্রিপ্টই ছিল বেসামাল। গল্প আর দর্শকের চাহিদা একই মোহনায় মিলতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে, দর্শকদের সাথে স্টারদের সংযোগটা পরিপূর্ণ হয়নি। সেখানে অনেক ছোট বাজেটের সিনেমা বেশ ভাল ভাবেই চমকে দিতে পেরেছে কনটেন্ট থাকার কারণে।

খানদের চেয়ে ২০১৮ সালে সফল ছিলেন কাপুর আর কুমাররা। রণবীর কাপুর এই বছরের সবচেয়ে বেশি ব্যবসা করা সাঞ্জু সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রটা করেছেন। অক্ষয় কুমারের কথা নতুন করে বলার কিই বা আছে। এ বছর তাঁর অভিনীত তিনটি সিনেমা ‘প্যাডম্যান’, ‘গোল্ড’ ও ‘২.০’ বড় ধরণের ব্যবসায়িক সাফল্য পেয়েছে।

ভারতীয় বাজারে এখন বলিউডের সিনেমাগুলো ছাড়াও দেদারসে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ওয়েব সিরিজগুলো। ‘স্যাকরেড গেমস’, ‘ঘউল’ কিংবা ‘মির্জাপুর’-এর সাফল্য সেটাই প্রমাণ করে। এর সবগুলোতেই একটা জিনিস ‘কমন’ – আর সেটা হল দারুণ একটা স্ক্রিপ্ট, আর এটাই আপাতত খানরা পাচ্ছেন না।

বলা হয়ে থাকে, সব ভাল কিছুরই সমাপ্তি আছে। একটা সময় বলিউডে রাজত্ব করেছেন দিলীপ কুমার, কখনো রাজেশ খান্না, কখনো ধর্মেন্দ্র, কখনো অমিতাভ বচ্চন, কখনো কাপুররাও করেছেন। তবে, সেই সাফল্যের দৌড় একটা সময় থেমে গেছে। হয়তো, একটা সময় থেমে যেতে হবে খানদেরও। অন্তত, বয়স তো আর কারো থেমে থাকে না, তিনজনের বয়সই ৫০ পেড়িয়ে গেছে।

এখন হয়তো নিজেদের বদলানোটা শিখে ফেলাটা জরুরী, যেমনটা করতে পেরেছিলেন অমিতাভ বচ্চন। সেজন্যই বিগ ‘বি’ এখনো টিকে আছেন বক্স অফিসে, এই ৭০-এর বেশি বয়স নিয়েও। খানরা কি হতে পারবেন লম্বা দৌঁড়ের ঘোড়া, নাকি সাবেক হয়ে যাওয়া সুপারস্টারদের মত ঝরে পড়বেন? – উত্তরটা জানার জন্য সময়ের অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।