পা চাটা সংস্কৃতি ও একজন উচ্চশিক্ষিত বেকার!

আজ আপনাদের একজন মেধাবী উচ্চশিক্ষিত বেকুবের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া যাক।

এই উচ্চ শিক্ষিত বেকুবের নাম এমদাদুল হক। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে স্নাতকে সিজিপিএ ৩.৮৮ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৯৬ পেয়েছিলেন। এখানেই শেষ নয়, এই মেধাবী বেকুব মেধার স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৫ সালে খোদ প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে সংগ্রহ করেন সর্বোচ্চ সম্মান ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’।

তিনি যেহেতু শিক্ষায় মেধাবী তো উনার ধারণা জন্ম নিল তিনি শিক্ষতা পেশায় নিয়োজিত হবেন। আগেই বলছি তিনি বেকুব, তাই এমন চিন্তা তিনি করতেই পারেন। তিনি গিয়েছিলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এমদাদুল হক শিক্ষক নিয়োগ মৌখিক পরীক্ষা দিতে।

কিন্তু বোকা এমদাদুল হক জানতেন না এই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধার যোগ্যতায় আর শিক্ষক নিয়োগ হয় না, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বত্র রাজনীতি আর ক্ষমতার খেলা।

এমদাদুল হক সারাজীবন পড়াশোনায় মাস্টার হলেও দালালী বিদ্যা আর রাজনীতিতে তিনি শিশু। শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার আগে তিনি কারো পা চাটেননি, গোলামী করেননি, রাজনীতি করেননি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সোনার ছেলেরা তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করেছিল তিনি সেটি দিতেও তাদের অস্বীকৃতি জানান।

ফলাফল যা হবার তাই, এমদাদুলকে নিজ নির্মমভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণেই পেটানো হয়, পরীক্ষার কেন্দ্রের সামনে থেকে জোর পুর্বক তুলে আটকে রাখা হয়, তাঁর মোবাইল অর্থ ছিনিয়ে নেয়া হয় এবং শেষে শিবির তকমা লাগিয়ে পুলিশে দেয়া হয়! পুলিশ তদন্ত করে কোন কিছুই পায় না। এমদাদুলকে ছেড়ে দেয়া হয়।

জ্বি, ততক্ষণে পরীক্ষার সময় শেষ। এমদাদুলের শিক্ষক হবার স্বপ্নও শেষ। চবি সুমহান উপাচার্য ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীকে সব জানিয়ে প্রতিকার চাইলে তিনি বলেন, ‘পুনরায় শিক্ষক নিয়োগের সাক্ষাৎকার নেওয়া সম্ভব নয়।’

এমদাদুল হক একজন বোকা মানুষ। সে মনপ্রাণ দিয়ে কেবল পড়াশোনা শিখেছিলেন, পা চাটার রাজনীতি শিখতে পারেননি। অথচ পড়াশোনা না করে, কেবল রাজনীতি আর ক্ষমতা প্র্যাকটিস করলে এতদিনে এমদাদুল হক নিশ্চিত বড় কোন পজিশনে থাকতেন।

বাংলাদেশের এমদাদুল হকের মতো মেধাবীদের ভবিষ্যৎ নেই। এই দেশ ছেড়ে এরপর যদি কোন মেধাবী চলে যেতে চায় তাকে দোষ দিবেন না, বরং পিঠ চাপড়ে বলুন, ‘সাব্বাস, তুমি আপোষ করো নি!’

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।