ঈদ নাটক: পরিমানে অনেক, ‘মান’-এর হাহাকার ঘুচবে কী?

এই ঈদের জন্য দেশীয় চ্যানেলের ঈদের সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠানমালার জন্য নির্মাণ হচ্ছে প্রায় ছয় শতাধিক টিভি নাটক। ঈদ আয়োজনে প্রতিদিন প্রতিটি চ্যানেলে চারটির মতো নাটক প্রচার হবে। সেই হিসেবে ২০ টি চ্যানেল ধরা হলে সাতদিনের আয়োজনে ঈদের নাটকের সংখ্যা দাঁড়াবে ৫৬০টি।

কোনো কোনো টিভি চ্যানেলে আট থেকে দশদিন পর্যন্ত ঈদ অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে। সেক্ষেত্রে নাটক প্রচারের সংখ্যা আরো বেড়ে যাবে। প্রশ্ন থেকে যায়, এত নাটক দর্শকরা দেখবে কীভাবে?

এদিকে টিভির বাইরে এখন নাটক নির্মাণ হচ্ছে বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলের জন্যও। টিভি চ্যানেলের মতো ইউটিউব চ্যানেলের সংখ্যাও কম নয়। ইউটিউবের দর্শকদের জন্যও এখন আলাদাভাবে নাটক নির্মান করা হচ্ছে।

এত নাটক নির্মাণের কারণে শিল্পী-নির্মাতাদের অনেকেই মধ্যরাত-কিংবা ভোররাত পর্যন্ত শুটিং করছেন। যার কারণে তারা চাইলেও পুরোপুরিভাবে নিজেদের দক্ষতার পুরোটা দিতে পারছেন না। অন্যভাবে বলতে গেলে শিল্পীরা নাটকের চরিত্রে ভালোভাবে প্রবেশ করতে পারছেন না। তাই নাটকও মান হারাচ্ছে। এ কারণেই অনেকের প্রশ্ন, এসব সমস্যার পরেও কেন একটি ঈদেই এত নাটক নির্মাণ করতে হবে?

দর্শকরা কি সত্যি এত নাটক দেখে? এছাড়া কিছু নাটকের গল্প, সংলাপ, দৃশ্যয়ন, অভিনেতা-অভিনেত্রীদের অভিনয় দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। একই রকম কাহিনী, পাশ্চাত্য সংস্কৃতির নানা দিক এখন অনেক নাটকে লক্ষ্য করা যায়, যা ড্রয়িংরুমে ফ্যামিলির সাথে বসে দেখার যোগ্য নয় বলেও অভিমত দিয়েছেন অনেকে।

এ ছাড়া এত নাটকের মধ্যে কয়টি নাটক ভালো মানের হচ্ছে সেটিও দেখার বিষয়। ঘুরে-ফিরে প্রতিটি চ্যানেলে নির্দিষ্ট কয়েকজন শিল্পীকে দেখা যায়। তারাই নিয়মিত ভাবে বিশেষ দিবস উপলক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। এত কম সময়ের মধ্যে এত কাজ করার কারনে একজন শিল্পীর কাছ থেকেও কন্টিনিউস ভাবে ভালো কাজ আশা করা যায় না।

এত নাটকের মাঝে হয়তো হাতেগোনা কিছু নাটক সবার মন জয় করবে। কিন্তু সেটিই কি শেষ কথা হতে পারে! তাহলে প্রশ্ন হলো শুধু নাটকের সংখ্যার উপর ভিত্তি করেই কি এখন জনপ্রিয়তা বা সাফল্য পরিমাপ করা হচ্ছে। আর এছাড়া ঈদে বিনোদনের জন্য শুধু নাটকের উপর নির্ভর করে সবাই বসে থাকবে এমনটা ভাবাও ভুল। যেমন করে ইউটিউব ভিউয়ার সংখ্যার উপর নির্ভর করে নাটকের মান যাচাই করা ভুল।

কেবল সংখ্যা না বাড়িয়ে ঈদে যদি ভালো মানের নাটকের সংখ্যা বাড়ানো যায় সেটি আমাদের সংস্কৃতি এবং মিডিয়া জগতের জন্য ইতিবাচক কিছু নিয়ে আসতে পারে। যতটুকু বুঝি, টিভি চ্যানেল গুলো এবং যারা নাটক প্রযোজনা করছেন তাদের উৎসব কেন্দ্রিক আইডিয়া থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

শুধু ঈদের সময় নাটক নির্মাণ না করে বছরের অন্য সময়েও ভালো বাজেটের নাটক নির্মাণের জন্য এগিয়ে আসার বিকল্প নাই। দর্শকদের আবারো আমাদের দেশের নাটক এর প্রতি আগ্রহী করার জন্য কাজ করতে হবে সবাইকে।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।