অনলাইন ক্লাসের বাস্তবতা ও একজন ভৌমিক স্যার

করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতিতে দিশেহারা জীবন কি করে তার জয়গানের স্বপ্ন তাল মিলিয়ে জয় করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় করোনাজয়ী গল্পের সমাহারে আচ্ছাদিত গল্পগাঁথার পরিবেশনের প্রচেষ্টা।

ভৌমিক স্যার দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে সবচেয়ে দক্ষ শিক্ষকদের একজন। একমাত্র কন্যা তনুশ্রী পড়ালিখার জন্য বাবার কাছ থেকে দূরে চট্টগ্রামে থাকে। বিশ্বব্যাপী করোনার প্রাদুর্ভাব আমাদের দেশেও ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ ছুটির জের ও গণপরিবহন বন্ধ আটকে যায় তনুশ্রীও চট্টগ্রামে।

অন্যদিকে ভৌমিক স্যারের ঘরকোণা হয়ে যাওয়া একদম নাভিশ্বাস করে তোলে তাঁর মুক্ত বাতাসে শিক্ষকতার পেশাকে উপভোগ করতে না পারায়। স্কুল থেকে জানানো হয় ঘরে বসেই করাতে হবে অনলাইন ক্লাস। ভৌমিক স্যার যান্ত্রিকতাময় জীবনের সাথে যদিও অভ্যস্ত নয় তবুও দায়িত্বের জন্য যান্ত্রিকমুখী হয় তাঁকে। যার কারণে রীতিমতো হিমশিম খেয়ে বসেন তিনি। একে তো নিজে বুঝছেন না কিছুই। অন্যদিকে কেউ তাকে যান্ত্রিকতায় অভ্যস্ত হতে সাহায্য করছে না।

পরিচালক আশফাক নিপুণ মূল চরিত্রের ভৌমিকের মধ্য দিয়ে সমাজের চিত্রটি পেশ করেছেন সুনিপুণ কায়দায়। যার প্রতিটি স্তবকে চরিত্রগুলোর মধ্য দিয়ে তিনি সমাজের মানুষগুলোর সাথে মিশে গিয়েছেন বাস্তবতার চিত্র রূপে। তিনি শিক্ষক সমাজের চিত্রটি যেভাবে দেখিয়েছেন তেমনি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের চিত্রটিও সংলাপের মধ্য দিয়ে জানান দিয়েছেন। যাদের শিক্ষার সুযোগ হলেও যান্ত্রিক হয়ে পড়া ভার্চুয়ালের স্বাদ হয়ে দুঃসাধ্য ব্যাপার।

সোলাইমান খোকার মতো প্রতিভাবান অভিনেতাকে ক্যামেরার সামনে আনার জন্য অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখেন পরিচালক মহোদয়। সোলাইমান খোকা পুরো গল্পের প্রাণ। কি ন্যাচারাল তার অভিনয়। সত্যি মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে। যেন তিনি অভিনয় করছেন না, বাস্তব কোন মানুষের পিছে ছুটে চলছে ক্যামেরা। সাবিলা নূরের চরিত্রের পরিসর অনুযায়ী যথেষ্ট ভালো কাজ করছে।

খবরের পাতায় শিশুর স্মার্ট ফোনে ক্লাস করতে না পেরে আত্মহত্যার করুণ ঘটনার জানান দেয়। শিক্ষকদের অনলাইন ক্লাস নিয়ে রীতিমতো হাসি তামাশায় মেতে উঠে শিক্ষার্থীরা। অনেকেই বয়োজ্যেষ্ঠ হলেও পরোয়া করছে না কিভাবে আচরণ করা উচিৎ শিক্ষকদের সাথে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে সত্যি আমরা কতটা অসহায় হয়ে পড়ি ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। তবুও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও কিছু মানুষের মনুষ্যত্ব টিকিয়ে রাখছে আমাদের। যার কারণে আমরা আজো বাঁচতে ভালোবাসি প্রিয় জন্মভূমির মধ্যে।

জীবনের গল্পের শেষটা সবসময় হয়তো সুন্দর হয় না। কিন্তু তবুও আমরা হাসতে ভালোবাসি। ভালোবাসি অন্যের মুখে হাসি ফোটাতে। এই মানসিকতা যতদিন বেঁচে থাকবে আমাদের মাঝে। ততদিন আমরা সবাই মিলে জয় করে যাবো সকল কঠিন পরিস্থিতিকে।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।