ঈদে নাটকের হিড়িক: মানসম্মত নির্মানের জন্য হাহাকার!

এবারের ঈদে ভালো নাটকের সংখ্যা খুবই কম। যেটা আমাদের সমৃদ্ধ নাটক ইন্ডাস্ট্রির জন্য একেবারেই হতাশাজনক। শৈল্পিক নাটক যেমন নগন্য, তেমনি সুপারহিট নাটকের ও তেমন এখনো দেখা মিলেনি। ধীরে ধীরে গুণী নাট্যনির্মাতারা নাটক বানানো কমিয়ে দিচ্ছিলেন যার খুব বড় প্রভাব পড়েছে এই বছর।

হুমায়ূন আআহমেদের মৃত্যুর পর উনার গল্প নিয়ে শাওন কিছু নাটক বানিয়েছিলেন তবে সেগুলো দদুর্বল নির্মানের কারনে সমালোচিত হত। একটা সময় পর তিনি নিজেই নাটক বানানো বন্ধ করে দিলেন। মুস্তফা সরোয়ার ফারুকী, নুরুল আলম আতিক, গিয়াসউদ্দিন সেলিম, মেজবাউর রহমান সুমনরা অনেক বছর আগেই নাটক বানানো বন্ধ করে দিয়েছেন।

রেদোয়ান রনি, ইফতেখার আহমেদ ফাহমি যাও দুয়েকটা বানাতেন এই ঈদে তাঁরা অনুপস্থিত। আদনান আল রাজীব ও নাটক বানানো ছেড়ে দিয়েছেন, বিজ্ঞাপনে বেশি নিয়মিত এই ঈদে দারুণ একটি বিজ্ঞাপন অবশ্য বানিয়েছেন। অনিমেষ আইচ, সুমন আনোয়ার, সালাউদ্দিন লাভলুরা নাটক বানান ঠিকই কিন্তু আগের মত প্রশংসিত বা আলোচিত হন না। দিন দিন তাদের মেধা ম্লান হচ্ছে। মুস্তফা কামাল রাজ তো ছবিয়ালের হতাশাজনক নির্মাতা হিসেবে দিন দিন পরিনত হয়েছেন, তাঁর অবশ্য নাটক বানানো বন্ধ নেই।

আশফাক নিপুণ বানিয়েছেন মিস শিউলী।

সিনেমা নির্মানের ঘোষনা দেয়ার কারণে ভেবেছিলাম আশফাক নিপুণ বুঝি নাটক বানাবেনই না। তাঁর ফেসবুক আইডিতেও নাটক নিয়ে লিখতে দেখিনি। হুট করে একদিন জানালেন মাত্র একটি নাটক বানাচ্ছেন। তাঁর নির্মিত এই একটি নাটকই এখন পর্যন্ত সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। চয়নিকা চৌধুরীর ও নির্দিষ্ট দর্শক আছেন, কিন্তু সিনেমা নির্মানের কারণে নাটক বানিয়েছেন মাত্র দুটি, একটি প্রশংসিত হয়েছে। শিহাব শাহিন বানিয়েছেন একাধিক, তবে আহামরি কিছু হয় নি।

প্রতি ঈদে অন্তত একটি নাটক বানিয়েও সারাবছর আলোচনায় থাকেন শাফায়েত মনসুর রানা। দু:খের বিষয় এই ঈদে তিনিও নেই। অমিতাভ রেজা, মাসুদ হাসান উজ্জ্বল, আশুতোষ সুজন, শরাফ আহমেদ জীবন কারোরই এই ঈদে কোনো নাটক ছিল না। অভিনেতা থেকে নির্মাতা হয়ে প্রশংসিত হওয়া মাহফুজ আহমেদ গত বছর থেকেই নাটক নির্মানে নেই।

অস্থির সময়ে স্তস্থির গল্প ও ভাই-বেরাদার সিরিজ মিলিয়ে বেশ কয়েকজন প্রতিশ্রুতিশীল নির্মাতার আবির্ভাব হয়েছিল। দু:খের বিষয় পুরস্কার,প্রশংসা সব পেয়েও তাদের কেউই আর নাটক নির্মানে নিয়মিত হননি। শুধু নুহাশ হুমায়ূন বিজ্ঞাপন, মিউজিক ভিডিও দিয়ে আলোচিত-সমালোচিত হচ্ছেন।

মিজানুর রহমান আরিয়ানের ‘বাইশে এপ্রিল’ এবারের ঈদে আলোচিত নাটকগুলোর একটি।

এখন নাটক নির্মানে যারা বেশি আলোচিত তাদের মধ্যে প্রথমজন মিজানুর রহমান আরিয়ান। তাঁর এবারের ঈদে নাটকের সংখ্যা চারটি। তিনি তাঁর ভক্তকূল কে সন্তুষ্টি দিয়েছেন বোঝা যায়, তবে আরো উত্তরণ আবশ্যক। তবে তাঁর নাটক দেখে কারো বিরক্তির উদ্রেগ হয় না, দর্শকরা ভালোভাবেই দেখেন, গোছানো কাজ করার চেষ্টা করেন।

আরেকজন মাবরুর রশিদ বান্নাহ। নাটক বানানোই তিনি প্রতি ঈদে রেকর্ড করেন, এবারেও তাই। তবে ভালো দিক হলো অনেকগুলো নাটকের ভিতর দুয়েকটা নাটক দর্শকপ্রিয়তা পেয়ে যায়, এবারেও হয়েছে। সঙ্গে আছে তাঁর প্রযোজনায় অনলাইনে প্রচারিত তৌহিদ আশরাফের নাটক!

এই নাটকগুলো নিয়ে দর্শকমহলে দু’ভাগ দেখা যায়। তাদের ভক্তকূলের বাইরে কেউ পছন্দ করেছে সেভাবে শোনা যায় না। এই বছর এইধারার নাটকে আরেকজন যুক্ত হয়েছেন কাজল আরেফিন অমি, এই ঈদে তিনি প্রচুর নাটক বানিয়েছেন। তবে কটা আলোচনায় আসবে দেখা যাক! পুরনো নির্মাতা হলেও সাগর জাহান এখনো নির্মানে ব্যস্ত,অবশ্য তিনি ঈদ ধারাবাহিকে মনোযোগী বেশি। একক নাটকে মনোযোগী হলে দর্শকদের জন্য ভালো হতো।

প্রতি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটা

কিছু কিছু নির্মাতাদের নাটক নির্মানের হিড়িক দেখলে মনে হয় নাটকের ইন্ডাস্ট্রি বুঝি ভালোই আছে। অন্যদিকে যখন প্রতিষ্ঠিত গুনী নির্মাতাদের নানা সমস্যা নিয়ে আক্ষেপ শুনি তখন সত্যিই মনে হয় নাটক ইন্ডাস্ট্রি দিন দিন ম্লান হচ্ছে।

এর থেকে উত্তরণ হওয়া জরুরী। টিভির অনুষ্ঠান প্রধান, বিজ্ঞাপন সংস্থা, নাট্যপ্রযোজক থেকে নির্মাতা, কলাকুশলী যারা আছে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে পুরনো সেই নাটকের সুন্দর অতীত ফিরিয়ে আনতে। নাটক নির্মান থেকে যারা বিমুখ হয়েছেন তাদের ফিরিয়ে আনতে বদ্ধ পরিকর হন।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।