অনবদ্য মালায়ালাম যুবরাজ

২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময়। পরিচিত হলাম মালায়ালাম সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি সাথে। তাদের বেশকিছু সিনেমা দেখে বিমোহিত হলাম। এই সিনেমাগুলি দেখার ফলে একজনের বেশ ভক্ত হয়ে উঠি, সে বর্তমান সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় তারকা, তরুণদের আইকন দুলকার সালমান।

বাবা ম্যামুট্টি মালায়ালাম সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির কিংবদন্তি নায়ক। তাঁরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন সালমান। কথিত আছে, জনপ্রিয় তারকার সন্তানরা চলচ্চিত্রে খুব বেশি ছাপ ফেলতে পারে না, বাবাদের ছাড়িয়ে যেতে পারেন না। দুলকার সালমান নিজে ছাড়িয়ে যেতে পারবেন কিনা, সেটা ভবিষ্যৎই বলে দেবে, তবে এই মুহুর্তে তিনি প্রতিনিয়ত নিজেকে একটু একটু করে ওপরের দিকে নিয়ে চলেছেন। তাঁর মত সফল ‘স্টারকিড’ গোটা ভারতেই খুব বেশি নেই বললেই চলে।

প্রতিশ্রুতিশীল নায়ক হয়ে একের পর এক জনপ্রিয় সিনেমায় অনবদ্য অভিনয় করে নিজেকে নিয়ে যাচ্ছেন অনন্য স্থানে। ২০১২ সালে ‘সেকেন্ড শো’ সিনেমা দিয়ে সিনেমা জগতে অভিষেক। সেই সিনেমা দিয়ে তিনি মালায়লাম ইন্ডাস্ট্রিতে নজর কাড়েন। একই বছর মুক্তিপ্রাপ্ত আলোচিত সিনেমা ‘উস্তাদ হোটেল’ এর বদলৌতে হয়ে উঠেন আলোচিত মুখ।

এরপর ‘হান্ড্রেড ডেইজ অব লাভ’, ‘ব্যাঙ্গালোর ডেয়জ’, ‘চার্লি’, ‘কালি’ সহ আরো বেশকিছু সিনেমায় অনবদ্য অভিনয় করে নিজেকেই নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন। গড়ে তুলেছেন নিজের আলাদা ভক্ত মহল। মালায়লাম ইন্ডাস্ট্রি থেকে কেবল এই সালমানই একবার ভারতের সবচেয়ে আবেদন পুরুষের ১০০ জনের তালিকায় জায়গা পেয়েছেন। জিকিউ ম্যাগাজিনের বিবেচনায় ২০১৪ সালে তিনি ছিলেন এই তালিকার ৪৫ তম অবস্থানে।

তাঁর বিখ্যাত সিনেমা ‘চার্লি’ দেখে মনে পড়েন হুমায়ূন আহমেদের সেই বিখ্যাত ‘হিমু’ চরিত্রটির কথা। ‘ব্যাঙ্গালোর ডেয়জ’ বলে দেয় অকৃত্রিম বন্ধুত্বের কথা। ‘ও কাধাল কানমনি’ দিয়ে তামিল সিনেমায় তিনি কাজ করেছেন মনি রত্নমের মত কিংবদন্তিতুল্য পরিচালকের অধীনে। সিনেমাটি ২০১৭ সালে হিন্দিতে রিমেক হয়েছেন ‘ওকে জানু’ নামে। বলিউডে তাঁর অভিনীত ‘কারওয়ান’-এ পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছেন প্রয়াত ইরফান খানের সাথে।

মুক্তির অপেক্ষায় আছে বেশ কিছু চলচ্চিত্র, বর্তমানে পারিশ্রমিক ও বেশ। সিনেমা বাছাইয়ে বেশ সুনির্বচনীয় হিসেবেও খ্যাতি রয়েছে। এজন্যই তো ক্যারিয়ারের অধিকাংশ সিনেমাই তাঁর ব্যবসায়িক সাফল্য পেয়েছে। বলিউডে অচিরেই মুক্তি পাবে ‘কারওয়ান’, সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে নিজেকে মেলে ধরবেন সেই আশায় রইলাম।

এখন পর্যন্ত ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পেয়েছেন তিনটি। কেরালা স্টেট ফিল্ম পুরস্কারও পেয়েছেন। দক্ষিনী চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ আরো বেশকিছু বেসরকারি পুরস্কার পেয়েছেন। অপেক্ষা এবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের। নিজেকে এভাবে ধরে রাখতে পারলে এই অধরা পুরস্কারটিও একদিন ঠিকই চলে আসবে হাতের মুঠোয়।

জন্ম তার ১৯৮৬ সালের ২৮ জুলাই। বানিজ্য নিয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পারডিউ বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০১১ সালের ২২ ডিসেম্বর স্থপতি অমল সুফিয়াকে বিয়ে করেন। এক সন্তানের জনকের প্রথম সিনেমা ‘সেকেন্ড শো’ মুক্তি পায় এরও ৪৪ দিন পর। ক্যারিয়ার ও সাফল্যমন্ডিত ব্যক্তিগত জীবন বাদে সামাজিক জীবনেও তিনি বেশ সরব। ব্যাঙ্গালোরের মাদারহুড হাসপাতালের একজন পরিচালক তিনি।

যদিও, কখনোই নায়ক হতে চাইতেন না দুলকার সালমান। সিনেমায় আসার আগে তিনি ছিলেন সফল এক উদ্যোক্তা। গাড়ি বেচাকেনার একটা ওয়েব পোর্টাল চালাতেন। এখনো চেন্নাইয়ে তাঁর ব্যবসা আছে। তবে, সব কিছু ছাপিয়ে এখন অভিনয়টাই মুখ্য।

দুলকার সালমান কেবল মালায়ালাম ইন্ডাস্ট্রিতেই নয়, গোটা ভারত বর্ষেই নিজের আলাদা একটা ক্ষেত্র তৈরি করেছেন। কেবল তাঁকে ঘিরেই গল্প লেখা হয়, ছবি বানানো হয়। তিনি একটা ঐহিত্যের ধারক, বলা উচিৎ তিনি মালায়ালাম স্টোরি টেলিংয়ের একালের যুবরাজ। আর তাঁর রাজত্বের পরিসীমা যেন ক্রমেই বাড়ছে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।