ঋতুপর্ণা কি ‘দৃষ্টিকোণ’ ছবির ভিলেন?

‘এতবার আসা যাওয়া একই পথ দিয়ে, কই তোমার তো চোখে পড়ে না,

তাহলে কি আমি কেউ নই!

যেন অজানা ভাষায় লেখা বই!’

চুমু খাবার সময় কোনদিনে তাকান স্পাউসের,

তার ঠোঁট না চোখ?

কোন চুমু বেশী প্রাণের?

প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে ‘দৃষ্টিকোণ’ এ চুমু খেয়েছেন প্রসেনজিৎ ঋতুপর্ণা।কিন্তু যে চুম্বন ওষ্ঠচুম্বনের চেয়েও হয়ে উঠেছে বেশী দৃষ্টিচুম্বন।

জীয়ন মিত্র (প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়) ও শ্রীমতী সেন (ঋতুপর্না সেনগুপ্ত ) কে নিয়ে কাহিনী আবর্তিত। জীয়ন পেশায় উকিল। যার দুটো চোখ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল যদিও অপারেশান করে একটা চোখ ফিরে পেলেও বাঁ চোখটা সম্পূর্ন বিকল। জীয়ন যখন দু চোখে অন্ধ ছিল দশ এগারো বছর, চোখে ইনফেকশনের কারনে,তখন তাঁর স্ত্রী রুমকি জীয়নের জীয়ন কাঠি হয়েছিলেন। যার অবদান জীয়নের জীবনে অসীম। জীয়নের স্ত্রী রুমকি(চূর্ণী বন্দ্যোপাধ্যায় গঙ্গোপাধ্যায় ) যিনি এক সময় উকিল থাকলেও এখন পুরোদস্তুর গৃহবধূ।

যিনি বলেন শ্রীমতীর কাছে নিজেকে শ্রীহীন ভেবে, ‘যখন ল কলেজে পড়তাম সুন্দরী ছিলাম জীয়নের সঙ্গে লাভ ম্যারেজ হয়ে গেল।’ …শ্রীমতী রুমকি কে বলেন ‘আপনি এখনও সুন্দর… সত্যি।’

জীয়ন কে ভরসা দিয়ে পাশে থেকে এক চোখ অপারেশন করিয়ে আবার ওকালতির পীঠস্থানে জীয়নকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় রুমকি।

এহেন উকিলের কাছে স্বামী পলাশ সেনের(কৌশিক সেন) মৃত্যুর রহস্যভেদ করতে হাজির হন শ্রীমতী সেন ঋতুপর্ণা।

উত্তম-সুচিত্রা বাঙালীর আইডল জুটি তাই প্রসেনজিৎ ঋতুপর্ণা জুটি যখন ফিরল তখন উত্তম-সুচিত্রার কিছু উপাদান ক্যারিশমা তো ছুঁয়ে যাবেই।

যেমন এখানে ছবির চিত্রনাট্যে, প্রসেনজিৎ ঋতুপর্ণাকে বলেন – ‘শ্রীমতী সেন? তাহলে আপনার নাম কি?’

ঋতুপর্ণা – ‘শ্রীমতী’। ‘শ্রীমতী আমার নাম।কেন মুনমুন সেনের আসল নামও তো শ্রীমতী।’

এটা তো আমার জানাই ছিল পরিচালক মুনদির নামটা মাথায় রেখেই তাঁর শ্রীমতী সেনের নামটা সাজিয়েছেন।শ্রীমতী সেন কিন্তু সুচিত্রা সেন কেও বলা হত। সেটা শ্রী/শ্রীযুক্ত-র স্ত্রীলিঙ্গ শ্রীযুক্তা হিসেবে।কিন্তু মুনমুন সেনের কাগজে কলমে নাম শ্রীমতী সেন।

শ্রীমতী শ্রীমতী সেন। বিখ্যাত মায়ের নামের সঙ্গে গুলিয়ে যাবে বলে তাঁর ডাক নাম মুনমুন দেওয়া হয় ছবিতে।

তবে এখানে শ্রীমতী শব্দের কি দারুন ডায়লগ সাজিয়েছেন পরিচালক ঋতুপর্ণার মুখে, ‘বিধবা হয়ে গেলেই কোন মহিলা আর নামের আগে শ্রীমতী ব্যবহার করতে পারেনা তাই আমার নামটা খটকা লাগছে?’

‘আমার দুঃখ গুলো কাছিমের মতো

গুটিগুটি পায়ে আর এগোতে পারেনা

আমার দুঃখ গুলো কাছিমের মতো

আমাকে ছাড়িয়ে আর এগোতে পারেনা

আমার কষ্টগুলো ডালিমের মতো

লালের জমাট কেউ ভাঙতে পারেনা।’

উকিল মক্কেলের সম্পর্ক অন্য দিকে মোড় নিয়ে পারিবারিক চৌহদ্দির আঙ্গিনায় ঢুকে পড়ে।

শ্রীমতী কিসের জন্য কিসের টানে এক অপরিচিত উকিল কে, তাঁর বাড়িকে নিজের লোক ভাবতে থাকে আঁকড়ে ধরে? কেন জীয়নের ছেলেমেয়ের জন্য পুজোর জামা কাপড় কেনে শ্রীমতী?

এদিকে পলাশ সেনের দাদা শ্রীমতীর ভাসুর প্রীতম সেন (কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় )

হাফ প্যারালাইসড হয়ে বাড়িতেই গৃহবন্দী । তাঁকে দেখাশোনার সাহায্যকারিনী সঙ্গিনী উমা (দোলন রায়)।

এভাবেই এগোতে থাকে গল্প আলাপ আকর্ষণ রহস্য রোমাঞ্চ গা ছমছম এবং চুমু। শেষে আগুনে সমাপ্তি। স্নানের ঘরে বাস্পে ভেসে শুদ্ধিকরণ।

‘দৃষ্টিকোণ’ ছবির বিশাল প্রাপ্তি কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের অভিনয়। কি পাকা অভিনেতা যা এখনকার টলিউডে বিরল। পরিচালনা সামলে এ হেন অভিনয় ভাবা যায়না। ঋতুপর্ণ ঘোষ কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়কে বলেছিলেন এ যুগের তুলসী চক্রবর্তী।সত্যি তাই বড় স্টার নায়ক নায়িকা থাকলেও কৌশিক বাবু নিজের দিকে আলো রাখতে জানেন।

একজন আপাত চোখে ভিলেন কিভাবে ছবির শেষে দশর্কের মন চুরি করে নেন কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় তেমনি একজন।

দোলন রায় বহু বহু যুগ পর একটা কিছু করার মতো ভালো রোল পেলেন এবং বুঝিয়ে দিলেন তিনি একজন জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্তা নায়িকা।

ছবির শেষ দিকে দোলনের অভিনয় দুরন্ত। অনেকদিন পর নব্বই দশকের দোলন রায় কে পেলাম।কৌশিক বাবু কে ধন্যবাদ দোলনকে নতুন ভাবে পেশ করার জন্য।

চূর্ণী বন্দ্যোপাধ্যায় গঙ্গোপাধ্যায় একাকিত্বের আলপনা এঁকেছেন ‘দৃষ্টিকোন’ এ। কি অসাধারন অভিনয়টাই না করেছেন চূর্ণী। কি মার্জিত সংযত অভিব্যাক্তি স্বামী পরকীয়ায় মোহাচ্ছন্ন হচ্ছে দেখেও। নিজের ঘর ভাঙছে দেখেও কি স্থিতধী চূর্ণী। এমন অভিনয় চূর্ণীই পারেন।

পুরীর সমুদ্রতটে বিশাল সমুদ্রকে রেখে একা শটে চূর্ণী। কি দুরন্ত ক্যামেরার কাজ গোপী ভগতের।

নিজের সংসারে নিজেই ব্রাত্য হয়ে পড়ছেন। বাথরুমে একা বসে কাঁদছেন চূর্ণী।

‘নিমেষে মিলিয়ে যায় পাল তোলা দিন গুলো

ফাঁকা পথ টানি রথ সারা গায়ে স্মৃতি ধুলো

একটা আঁচড়ে সব স্বপ্নেরা পিষে যায়

অমরত্বের দাবি সমুদ্রে মিশে যায়

তুমি আমি মুখোমুখি নীরবতা পালনের গান শুনে যাই।’

সমুদ্রের বালিতে জড়াজড়ি হয়ে গেছে জীয়ন শ্রীমতীর জুতো। রুমকি চূর্ণী হাত দিয়ে এক বুক হাহাকার নিয়ে দুটো জুতো আলাদা করে দিচ্ছেন। যে সময় তাঁর ডুকরে কেঁদে ওঠার কথা সেসময় কি শান্ত।

এক অদ্ভুত চাহনি নিয়ে চূর্ণী রুমকি জীয়ন কে বলছেন, ‘হ্যাঁ আজ আমি খারাপ কারনটা ঐ যে বললে টিপিক্যাল হাউসওয়াইফ।

ওকে খুব ভালোবেসে ফেলেছো?

‘যদি এই মুঠো ভরা শিউলি ফুল, যদি ঐ খুলে রাখা কানের দুল

লক্ষীটি একবার ঘাড় নেড়ে সম্মতি দাও আমি যাই ছেড়ে…’

দূরে সমুদ্রে জলকেলি করতে করতে রুমকির সংসারে এসে গেছে তাঁর পরিবর্ত। তাঁর জায়গাই তাঁর বাচ্চাদের স্বামীকে নিয়ে শ্রীমতী জলকেলি করছে। অথচ নিজের কষ্ট নিজের বুকে চেপে কি শীতল রুমকি চূর্ণী।

যে স্বামী সংসারের জন্য নিজের ওকালতি ক্যারিয়ার ছেড়েছেন, যে স্বামীকে এত সেবা করে সুস্থ জীবন উপহার দিয়েছেন সেই স্ত্রী মূল্যহীন হয়ে পড়ছে।

স্বামীর জুনিয়র কে আকুতি নিয়ে বলছেন,  ‘আমি কি করে বাঁচাবো আমার সংসার টা?কি করে জুড়ব?’

‘দৃষ্টিকোণ’-এর প্রচারে পোষ্টারে কোথাও চূর্ণীর ছবি নেই স্বামীর ছবি হওয়া সত্ত্বেও চূর্ণী নিজ প্রচার লোভ ত্যাগ করেছেন যেন রুমকির মতোই কিন্তু এ ছবির এক জীয়ন কাঠি রুমকি। চূর্ণী তো টেলিভিশন থেকে উঠেছিলেন অথচ টলি সম্রাজ্ঞীর সঙ্গে টক্কর দিয়েছেন। চূর্ণীর অভিনয়ের জন্য এ ছবি দেখুন। না দেখলে বড় মিস।

প্রসেনজিৎ জীয়ন। ‘উৎসব’, ‘দোসর’, ‘প্রাক্তন’, ‘ময়ুরাক্ষী’ পেরিয়ে প্রসেনজিৎ এখনও টলিউড সম্রাট বুঝিয়ে দিলেন তাঁর লুকসে অভিনয়ে সিক্সার পারফরমেন্সে।অসাধারন মেক আপ প্রসেনজিৎ-এর। মেক আপ ম্যান পরিচালককে কুর্নিশ।

এর আগেও অনেক অন্ধ মানুষদের নায়ক নায়িকা করে সিনেমা হয়েছে ‘অনুসন্ধান’, ‘দেখা’, ‘ব্ল্যাক’ কিন্তু এত দুরন্ত চোখের মেক আপ কুর্নিশযোগ্য। সেটা প্রসেনজিৎ ফুটিয়েছেনও অসাধারণ। পুরস্কার পাবার মতো অভিনয়।

ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বলে বলে ছয় হাঁকালেন এ ছবিতে। কিন্তু ঋতুপর্ণা কি এ ছবির নায়িকা না ভিলেন?

যে একটা উদ্দেশ্যের অন্তরমহলে আরেকটা উদ্দেশ্যে চরিতার্থ করতে জীয়নের সংসারে আপনজন হয় উঠতে এসেছিলেন।

মনে পড়ে গেল কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রসেনজিতের জুনিয়র অভীককে বলা ডায়লগ টা, ‘আপন জন কাকে বলে জানো?কাছের মানুষ সে তো আমরা বলি,আসলে আপনজন মানে যার কথা আমরা সারাদিন ভাবি যার কথা আমাদের প্রতি কাজে মনে পড়ে।’

সেই আপনজনকে খুঁজতেই কি জীয়নকে ব্যবহার করলেন শ্রীমতী? ঠকালেন জীয়নকে? জীয়নকে চুমু তো ঠোঁটে খেয়েছিলেন শ্রীমতী সেই ঠোঁট গুলোর প্রতি ভালোবাসা চলে গেল? তাহলে কিসের ভালোবাসা? কি উদ্ভট গল্প বললেন পরিচালক? এ কেমন জুটির গল্প?

এসব নানা প্রশ্ন মাথায় আসবে ছবি দেখার পরে। আমি বলব এ ছবি প্রসেনজিৎ ঋতুপর্ণার জুটির ছবি ধরে ছবি দেখতে যাবেননা।ওদের মৌলিক সত্ত্বা ভেবে যান। ‘প্রাক্তন’র গল্প ভেবে যাবেননা। ঠকবেন আশাহত হবেন।

এ ছবি যদি উত্তম সুচিত্রা কে নিয়ে ভাবা হত উত্তম কুমার করতেন না। সুচিত্রা সেন চিত্রনাট্য পাল্টাতে নির্দেশ দিতেন।কারন ওঁদের রোম্যান্টিক ইমেজ ভেবে। জুটির কথা ভেবে। যেমন ‘হসপিটাল’ ছবি অ্যান্টিনায়ক বলেই উত্তম করেননি।

কিন্তু অন্য ভাবেও তো ভাবা যায় সে সাহস দেখিয়েছেন কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়।এক এক জনের দৃষ্টিকোন এক এক রকম। এ ছবি প্রসেনজিৎ ঋতুপর্ণাকে সতন্ত্র ভেবে যান অসাধারন লাগবে।শেষ দৃশ্যে মন কেমন করিয়ে দেবে। কিন্তু ওদের রোম্যান্টিক ইমেজ প্লেটোনিক লাভ এসব ভেবে গেলে আশাহত হবেন। যে সাহস পরিচালক দেখিয়েছেন তাতে তিনি বক্সঅফিস না ভেবেই এই সাহসিকতা দেখিয়েছেন। যা কুর্ণিশযোগ্য।

শ্রীমতী নিজের স্বার্থপূরন করতেই জীয়ন কে যদি ব্যবহার করে থাকেও শ্রীমতী নিজেও ঠকেছে চরম ভাবে শেষে।যে হারানো স্বামীকে সে খুঁজে পেতে জীয়নকে না তাঁর চোখটাকে ভালোবাসলো সেখানেও ঠকল শ্রীমতী। যেখানে মৃত স্বামীটিও শ্রীমতীকে ভালোবাসেনি।কিন্তু ওয়ান সাইডেড লাভ বলেও তো কিছু হয়। এক প্রোষিতভর্তিকার ভালোবাসা দৃষ্টিকোন। সেখানে তো শ্রীমতীর দোষ নেই।

অনেক সময় হারিয়ে যাওয়া প্রিয় মানুষের জিনিস অন্য জনকে পরিয়েও তো তাকে ফিরে পাওয়া হয়। ‘শ্বেত পাথরের থালা’য় বন্দনা অপর্ণা সেন সুদীপ্ত বাবু দীপঙ্কর দে বৃষ্টিতে ভিজে গেলে বন্দনা তাঁর মৃত স্বামীর পোশাক পরতে দিয়েছিল।

‘বিসর্জন’র জয়া আহসান আবীর কে বলেছিল, ‘এই যে মৃত স্বামীর জামা কাপড় আপনারে পরিয়ে সংসার সংসার খেলতাছি।’ ঠিক সেইভাবে প্রতারনার ঘৃণা টাও প্রতারকের জিনিস যে ব্যবহার করে তাঁর প্রতি ভালোবাসা কিছুটা ঘৃণা হয়ে যায়।

ভালোবাসা না নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করা এগুলোর গভীর গোপন গল্প একটা আলোচনায় নির্নয় করা যায়না। যে কারুর উপর দুর্বলতা ভালোবাসা নানা দৃষ্টিকোনে আসতে পারে। ঠিক যেমন আরেকটা ভালোবাসার গল্প কৌশিক দোলনের।যে ভালোবাসাও কাঁদিয়ে ছেড়েছে।

নবাগত সোহম মজুমদার অভিনয়ে সপ্রতিভ এবং তোপসে রূপে দারুণ। গোঁফের তোলা দিয়ে মিষ্টি হাসিতে মন জয় করেছেন সোহম।নাটক থেকে উঠে আসা বলে এত সুন্দর অভিনয় চরিত্রটিও বেশ গুরত্বপূর্ণ। আবার লক্ষণের মতো সে লক্ষনরেখায় সে দাদা বৌদি রাম জীয়ন সীতা রুমকীকে আগলে রাখে। গম্ভীর থ্রিলার ছবির মাঝে কমেডি দৃশ্য গুলো সোহম দারুন করেছেন। আরও ছবিতে ভালো কাজ করুন সোহম।দুজন শিশ শিল্পী খুব সপ্রতিভ মিষ্টি।

‘শ্বেত পাথরের থালা’য় ইন্দ্রাণী হালদারের ডায়লগ মনে পড়ে গেল, ‘বৌমনি একবার সধবা সাজবে রূপের জন্য আবার বিধবা সাজবে তোমাদের মন রাখতে এ কি পুতুলখেলা।’

তবে সধবা রূপ বাদ দিয়ে ঋতুপর্নার ড্রেস সিলেকশান সাজগোজ ‘প্রাক্তন’-এর থেকে অনেক অনেক সফি সুন্দর।অসম্ভব সুন্দর অভিনয় দেখলাম ঋতুপর্ণার অনেকদিন পর।কেন যে সি গ্রেড মুভি গুলো সাইন করেন মাথায় ভুত চাপলে।

এবার আসি চোখ প্রতিস্হাপন…

অনেক ঘন্টা পেরনো কিংবা একদিনের বেশী মৃতদেহ থেকে কি করা যায়? যা ছবিতে দেখানো হল বড্ড হোঁচট খাবার মতো এই বিষয়টা। আর দু বার অ্যাক্সিডেন্ট হওয়া গাড়ি উল্টে খাদে পড়া নিহত মানুষের চোখ প্রতিস্থাপন করবার মতো কিছু থাকে।তবু গল্পের খাতিরে ধরে নিলাম সম্ভব।

এইসব যুক্তিগুলো তুললে ছবিটি সে অর্থে বাস্তব নয়। তবে থ্রিলার গল্পে অনেক স্তর থাকে।যুক্তি পেরিয়েও অনেক কিছু থাকে।

কিন্তু সব ভুলিয়ে দেয় শেষের কিছু দৃশ্য তিনটে ভালোবাসার দৃষ্টিকোন – প্রসেনজিৎ ঋতুপর্ণা, প্রসেনজিৎ চূর্ণী এবং কৌশিক দোলন।

‘এত কথা বলি, পাখি হয়ে উড়ে যায় সব তোমাকে ছুতে পারে না।

আমারও তো মনে হয় মাঝে মাঝে ছুয়ে দেখি সুযোগ টা পাচ্ছি কই!

আমি সুযোগটা পাচ্ছি কই!’

তবুও বলব এ ছবি ওদের জুটির ভালোবাসার গল্প ভেবে দেখতে যাবেননা। ঠকবেন। ওদের সতন্ত্র ভেবে দেখতে যান। তাহলেই ছবি দেখার পর অনেকক্ষন চুপ করে থাকতে হবে।

পরিচালক ও এই জুটি সর্বক্ষণ দর্শকদের উস্কোছেন জুটির গল্প ওদের জুটির আবার ছবি… সেই জুটির এ কেমন ভালোবাসা এ কেমন প্রেম ঋতুপর্ণা কি ভিলেন অ্যান্টিহিরোইন? ব্যবহার করলেন প্রসেনজিৎ কে এসব ভেবেই বেশীরভাগ দর্শক ধাক্কা খাচ্ছেন। শেষটা অনেকের পছন্দ হয়নি। কিন্তু যদি সতন্ত্র অভিনেতা অভিনেত্রী ওদের ধরা যায় তাহলে ছবিটি অসাধারণ। ভালোবাসা প্রেম আকর্ষন অনেক ভাবে হয় অতীত ভেবেও প্রেম হয় এ বড় জটিল মন মনস্তত্ব।

‘দৃষ্টিকোণ’-এ বারবার ফিরে এসছে উত্তম-সুচিত্রা ক্যারিশমা। যখন শেষ দৃশ্যে মুখোমুখি হয় জীয়ন প্রসেনজিৎ ও শ্রীমতী ঋতুপর্ণা তখন সেই সুচিত্রা উত্তমের মতোই মনে হয় একবার একবার জড়িয়ে ধরে আলিঙ্গন হবেনা?

দুজনের পিঠে আঙ্গুলের চাপে, শেষ কান্নায় হয়ে যাক না শেষ বোঝাপড়া…ঠিক এই আলিঙ্গন উত্তম সুচিত্রার সব ছবির শেষে দেখতে আকুল হয়ে বসে থাকত দর্শকরা।

‘কেন ভুলে যাই, এ ভোরের বেলায়,

কেন ভুলে যাই এ অবহেলায়।

কেন ভুলে যাই, এ গ্রহের আড়াল,

কেটে যাবে ঠিক গ্রহণের মায়াজাল।

তাকে কেউ কেউ জানে,

তাকে কেউ কেউ জানে না।’

কাহিনী, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা: কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়

অভিনয়ে: প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়,কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়,কৌশিক সেন, দোলন রায় এবং সোহম মজুমদার ।

সঙ্গীত: অনুপম রায়

আবহ সঙ্গীত: রাজা নারায়ন দেব

চিত্রগ্রহণ: গোপী ভগৎ

প্রযোজনা: সুরিন্দর ফিল্মস প্রাইভেট লিমিটেড

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।