দৃষ্টিকোণে ‘দৃষ্টিকোণ’

একটি মানুষের সাথে পরিচয় হওয়ার পর আমরা নিজেদের দৃষ্টিকোণ থেকে খুব সহজেই মনে মনে তার চরিত্রের বিচার করে নিই । কিন্তু সবসময় এটা কি অত সহজ ?

ঠিক এই প্রশ্নটাই পরিচালক এই ছবির মাধ্যমে দর্শকদের সামনে তুলে ধরেছেন। তাই ছবির নামকরণ আমার মতে একদম যথাযত।

যেমন সুন্দর ছবির গল্প তেমনিই বেশ সুন্দর কিছু চমক রয়েছে এই ছবিতে। ছবির কিছু সংলাপ আমার মন ছুঁয়ে নেয় যথা –

– আপনজন কাকে বলে জানো?

– হ্যাঁ ওই নিজেদের লোক আর কি।

– না তা ঠিক তবে সে তো চলতি ভাষায় । আপনজন আসলে তারাই যখন সমস্ত ছোট ছোট জিনিসগুলিতে তাদের কথা মনে পরে যায়।

এই সংলাপটি শুনতে শুনতে সত্যি দর্শক হিসেবে সেই মূহুর্তে আমার বাবার কথা মনে পরে যায়। বাবার সেই ক্যালকুলেটর থেকে সাইকেল সব কিছুই।

সত্যি এই ছবির প্রতিটা সংলাপই খুব সুন্দর করে ভেবে ভেবে যত্ন করে লেখা হয়েছে। এমনকি এইরকম টানটান ড্রামা ছবিটিতে একটি দৃশ্যে অভীক ও জিওনের কথোপকথনে দর্শকরা খুব সহজেই হেসে ওঠে। তাহলে আপনারাই ভাবুন যে কেন এই ছবির সংলাপের প্রশংসা আমি করব না। ছবিতে ক্যামেরার কাজ চমৎকার লাগে।

অভিনয়ে জিওন মিত্রের চরিত্রে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, শ্রীমতী সেনের চরিত্রে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, প্রীতম সেনের চরিত্রে কৌশিক গাঙ্গুলী ও রুমকি মিত্রের চরিত্রে চূর্ণী অসাধারণ ছিলেন। টিপিকাল হাউসওয়াইফের দৃশ্যেটাতে অভিনয় করে চূর্ণী আমাদের সকলের মন জয় করে নেন। পলাশ সেনের চরিত্রে কৌশিক সেন খুব ছোট্ট সময় অভিনয় করেছেন ঠিকই, তবে আমার ভালো লাগে। উমার চরিত্রে দোলন ঠিকঠাক। তবে নতুন মুখ হিসেবে খুব ভালো লাগল অভীকের চরিত্রে যিনি অভিনয় করেছেন। মম চরিত্রে বাচ্চা মেয়েটিকে বেশ মিষ্টি লাগে।

এই ছবির গানগুলিও বড় ভালো। আমার প্রিয় গান এই ছবি থেকে – ‘আমি কি তোমায় খুব বিরক্ত করছি’ ও ‘আমার দুঃখগুলো কাছিমের মতো’।

তবে কি জানেন আমি বড় খুঁতখুঁতে। মানে নতুন বই যখন কিনি তখন শুধু গল্প কি কি আছে বা লেখক কে কে আছেন এটা দেখেই শান্ত হই না। আমি বইয়ের প্রত্যেকটি পৃষ্ঠার দিকেও চোখ বোলাই যেন কোন পাতাতে ছেঁড়া বা দাগ না থাকে। ঠিক যেমন এত সুন্দর ছবির গল্প যখন এগোতে থাকে তখন মনের মধ্যে চলতে থাকে বাহ্ বেশ ভালো ছবি দেখছি তো।

মানে এতে ড্রামা আছে, চমক আছে, রহস্যের গন্ধও আছে, প্রত্যেকের অভিনয়ে ও সাবলীল, সংলাপও দারুণ ও গান গুলোও বেশ কিন্তু শেষ দিকটা আমার দৃষ্টিকোণ থেকে একটু যেন কেমন কেমন লাগল। যবনিকা পতনের সময় যে আলো নিভিয়ে দিল সে কি করে করল? মানে সে তো তখন ওখানেই উপস্থিত তাই সকলের নজর এড়ানোটা সম্ভব হল কি করে তা এই ছবিতে স্পষ্ট নয় বা সেই সকল দুষ্কৃতিদের বিরুদ্ধে কীভাবে প্রমাণ জোগাড় করল ডেপুটি কমিশনর রাউথ সেগুলো একটু ভালোভাবে দেখালে ভালো হত।

হ্যাঁ, তাতে ছবিটি আরও দৈর্ঘ্য হয়ে যেত ঠিকই কিন্তু দেখানো উচিৎ ছিল। শেষ দিকটা একটু বেশী নাটকীয় লাগছিল। একটু কমালে বোধয় আরও ভালো লাগত। মনে হত যেন বাস্তব ঘটনাই দেখছি, কোনো নাটক না।

তাই এই ছবিকে ফুল মার্কস দিতে গিয়ে ও পারলাম না। আমি ৫ এর মধ্যে ৪ দেব। যাওয়ার আগে বলি, এই ছবির সমালোচনা সম্পূর্ণরূপে আমার দৃষ্টিকোণ থেকে দিলাম।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।