সত্য নাকি মিথ: ডোরেমনের অজানা-করুণ অধ্যায়

‘ডোরেমন’ – এই শব্দটার সাথে যদি আপনি অপরিচিত হন, তাহলে বলতে হবে আপনি গুহায় বসবাস করেন। ডোরেমন হল ফুজিকো এফ. ফুজিও’র ইলাস্ট্রেশনে নির্মিত একটা জাপানি কমিক্স, যেটা থেকে পরবর্তীতে অ্যানিমেশন সিরিজ নির্মিত হয়।

নোবিতা নোবি নামের এক শিশু চরিত্র ও তার পোষা রোবটিক বিড়াল ডোরেমনকে নিয়ে আবর্তিত হয় এই সিরিজটির কাহিনী। ১৯৬৯ সালে শিশুভিত্তির ছয়টি ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছিল এই কমিক্স। মোট ১৩৪৫ টি গল্প লেখা হয়েছিল। ১৯৭৩ সালে নিপ্পন টেলিভিশন এই কমিক্সের গল্প অবলম্বনে তৈরি করে অ্যানিমেশন সিরিজ।

জনপ্রিয় হয়ে ওঠে সিরিজটি। পরবর্তীতে ১৯৭৯ ও ২০০৫ সালে পুন:নির্মিত হয় এই সিরিজ। টিভি আসাহিতে সম্প্রচার হয়। বিশ্বব্যাপী পায় জনপ্রিয়তা। ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ অনেক দেশে সম্প্রচার হয়। বাংলা-হিন্দীসহ অসংখ্য ভাষায় ডাবিং করা হয়।

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় ডোরেমনকে দেশটির প্রথম ‘অ্যানিম অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে ঘোষণা করে। ২০০২ সালে টাইম ম্যাগাজিন ডোরেমনকে ‘এশিয়ান হিরো’ ঘোষণা করে। ২০১৪ সালে বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান ডিজনির সাথে চুক্তি করে আরো এগিয়ে যায় ডোরেমন।

একে ঘিরে সমালোচনাও আছে প্রচুর। বাচ্চাদের মানসিক বিকাশের জন্য ক্ষতিকর দাবী করে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশে ডোরেমনের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনও গড়ে উঠেছে।

তবে, ডোরেমনকে ঘিরে এত উৎসাহ, এত জনপ্রিয়তা ‍ও সমালোচনার আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে এর সত্যিকারের পটভূমি। জানা গেছে, নির্মাতারা ডোরেমনের ধারণা পেয়েছিলেন সত্যিকারের একটি ঘটনা থেকে।

সেই ঘটনাও জাপানের। এক শিশু নয় বছর বয়স থেকে সিজোফ্রেনিয়ায় ভুগছিল। তার নামও ছিল নোবিতা। মনের ওপর তার কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। বোকা-সোকা ছিল। স্কুলেও ভাল কোনো ফলাফল করতে পারতো না।

ওর কোনো বন্ধু ছিল না। স্কুলের সবাই ওকে হেনস্তা করতো। নোবিতার তাই আত্মবিশ্বাস একেবারেই কমে গিয়েছিল। একেবারে মাটির সাথে নিজেকে মিশিয়ে ফেলতে ইচ্ছা হত।

ওই সময় থেকেই নিজের একটা কল্পনার জগৎ ও তৈরি করে ফেলেছিল। কল্পনার রাজ্যে ওর বন্ধু ছিল ডোরেমন। ও ধারণা করতো, ডোরেমন ওকে সব কিছুতে সাহায্য করে – পড়াশোনায়, নিজের কাজ করায়।

প্রায়ই তাই নোবিতা অস্বাভাবিক আচরণ করতো। পরিবার বাধ্য হয়েই ওকে তাই মানসিক রোগ বিষয়ক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। নোবিতার বয়স তখন ১৬। ওকে জানানো হয়, ওর কল্পনার জগৎটা শুধুই ওর কল্পনা। ডোরেমন বলে কারো অস্তিত্ব নেই।

নোবিতা ভেঙে পড়ে। আবারো একা হয়ে যায় ও। অনেকরকম কাউন্সিলিংয়ের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু, নোবিতা কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারে না যে, ডোরেমন বলে কেউ নেই। মানসিক যন্ত্রণা আরো বেড়ে যায়। জীবনের সাথে আর যুদ্ধ করতে না পেরে ওই ১৬ বছর বয়সেই আত্মহত্যা করে নোবিতা। নিজেই নিজের মাথা তাক করে গুলি করেন। এক নিমিষে সব শেষ হয়ে যায়।

নোবিতার জীবনের এই গল্পটা নিয়ে অবশ্য তর্ক-বিতর্ক আছে। কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে এটা নিশ্চিতও করা যায় না। কেউ বলে এটা সত্যি, আবার কারো কারো দাবী এর পুরোটাই কিছু পাগলাটে ভক্তের বানানো গল্প!

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।