ডুডল অব লাভ: আশা জাগিয়ে হতাশা

ভাই, ভাবি আর দাদুকে নিয়ে মোটামুটি সুখী পরিবার তানজিন তিশার। তাঁর দু’জন ভালো বন্ধু হচ্ছে- সৌভিক আর জাকি। তিশা তাদেরকে বন্ধু মনে করলেও তারা দুইজন মনে মনে তিশাকে ভালোবাসে কিন্তু মুখে বলতে পারে না। তবে যেটা পারে, সেটা হচ্ছে নিজেদের মধ্যে একটা প্রতিযোগিতা করতে, কে সবসময় আরেকজনের চেয়ে তিশাকে কীভাবে বেশি ইমপ্রেস করতে পারে।

এর মাঝে কাহিনীতে এন্ট্রি হয় ইরফান সাজ্জাদের। তিনজনের মাঝে একটা বাজি হয়, তিশার জন্মদিনের আগে যে তিশাকে সবচেয়ে ভালোভাবে প্রপোজ করতে পারবে আর তিশা যদি সেটাকে পছন্দ করে, তাহলে বাকি দু’জন সেটাকে মেনে নিবে।

নাটকটা পুরাটা দেখতে আমার একটুও বোর লাগে নাই, বেশ কিছু মজার এলিমেন্ট ছিল। ছ্যাবলামি জিনিসটা, কাতুকুতু দিয়ে হাসানোর চেষ্টা ছিল না বললেই চলে বরং কিছু সংলাপে মজা পেয়েছি। টেকনিক্যালি নাটকটা বেশ স্ট্রং। কালার আর ক্যামেরার কাজ প্রায় সিনেম্যাটিক। নাটকের গল্পও লিখেছেন সিনেমার মানুষ- আবদুল্লাহ জহির বাবু।

নাম দেখে অনেকেই হয়ত ভয় পেয়েছেন কারণ, তাঁর অনেক সিনেমার কাহিনীই নকল। তবে এই নাটকে তিনি নকলের আশ্রয় নেন নি, বরং প্রযুক্তি কীভাবে আমাদের এই আধুনিক জীবনকে বেশ ভালোভাবে প্রভাবিত করছে, সেটা কিছু জায়গায় বেশ ভালো করেই তুলে ধরেছেন। সৌভিকের একজন বিখ্যাত শেফ হতে চাওয়া, নিজে কিছু করার চেষ্টা অথবা তিশার দাদু চরিত্রে অভিনয় করা মানুষটির নিজের মৃত স্ত্রীকে মনে করে কষ্ট পাওয়ার দৃশ্যগুলো খুব ভালো লেগেছে।

অভিনয়ে যাকে সবচেয়ে ভালো লেগেছে, তিনি নাটকে সুযোগ পেয়েছেন সবচেয়ে কম- সুষমা সরকার। লাস্ট দহন সিনেমাতে তাকে বেশ ভালো একটা রোলে কাজ করতে দেখেছিলাম, এছাড়া সবাই কোন এক কারণে সবসময় তাকে সাইড রোলেই কাস্ট করে যান!

হতাশাতে আসি- সেটা পরিচালনাতে আর স্ক্রিপ্টের বেশ কিছু জায়গায়। অর্থাৎ রাইটার ডিরেক্টর দু’জনেই দায়ী। নাটকের শুরুতে ঘুমন্ত স্বামীর ফিঙ্গার প্রিন্ট নিয়ে তার মোবাইলের লক খুলে মেয়েদের ম্যাসেজ দেখে রাগ করে স্ত্রী মোবাইলটিকে বিছানাতে ছুঁড়ে মেরে চলে যান আরেক রুমে। সেই রুমে যাওয়ার পর দেখা গেল মোবাইলটি তার হাতেই রয়েছে! এরকম ভুল কীভাবে করে মানুষ!

জাকির বাবার দোকানে তিশা শাড়ি কিনতে গেলে সেখানে দেখা গেল জাকির বাবার মাথায় চুল নাই বললেই চলে অথচ কিছু সিন পরেই দেখা গেল জাকির বাবাকে উইগ পরা অবস্থায়- কন্টিউনিউটির এ কী অবস্থা! ইরফান সাজ্জাদ গুগলের কাছে একটি বিশেষ মেইল করে নিজের আর তিশার ছবি নিয়ে তিশার জন্মদিনে একটি গুগল ডুডলের ব্যবস্থা করেন, আই মাস্ট সে- দারুণ উপায় প্রপোজ করার, ইভেন বাংলাদেশের কোন নাটক সিনেমাতে এই জিনিস আগে দেখেছি বলে মনে পড়ে না!

তবে গুগল ডুডলে ক্লিক করে যার সম্পর্কে এই ডুডল তার পুরো লাইফ হিস্ট্রি চলে আসে, সেখানেই দু’জন এমন কী বিখ্যাত মানুষ যে গুগল একটা মেইলেই রাজি হয়ে গেল? আর এই ডুডল করলে তো পুরো বাংলাদেশের মানুষের দেখার কথা, তাঁদের রিঅ্যাকশন কেমন সেটা না দেখিয়েই নাটক শেষ!

নায়িকার সাথে যার মিল হল, সে আসলেই নায়িকাকে ভালোবাসে কিনা সেই ব্যাপারে কিছু না বলেই বা না করেই বাকিদুইজন এত সহজে মেনে নিল?! এরকম সহজ সরল প্রেমিক পুরুষ দেখিনা আসলে আজকাল!

ইন্টারেস্টিংভাবে শুরু করলেই নাটকটা সেভাবে আগ্রহ ধরে রাখতে পারে নি। গত দু’দিনে আমি আমাদের সমাজবিজ্ঞান আর এই শহরে নিয়ে লিখলাম, যে দুটো নাটক প্রায় খুঁতহীন। তাই ভাবলাম, এবার একটা খুঁতযুক্ত নাটক নিয়ে লিখি। বরাবরের মত- এই নাটকটি ইউটিউবে পাবেন না, কিছুদিনের মধ্যে প্রোডাকশন হাউজের নিজস্ব কিছু ওয়েবসাইট এবং এপ্লিকেশনে পাওয়া যাবে নাটকটি। ইচ্ছা হলে তখন ভুলগুলো মিলিয়ে দেখতে পারেন যে, চকচক করলেই সোনা হয় না।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।