তাঁদের মুখ দেখাদেখি বন্ধ!

প্রত্যেক অভিনয় শিল্পীর জীবনেই এমন কিছু সিনেমা আসে, যা তাঁদের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুড়িয়ে দেয়। সিনেমাগুলোর পরিচালকরাও রাতারাতি ‘গডফাদার’ বনে যান। তারকারা আক্ষরিক অর্থেই সেই নির্মাতাদের নিজের মেন্টর বলে গন্য করেন।

যদিও, গল্পগুলো সব-সময় এমন ‘হ্যাপি এন্ডিং’ পায় না। পেশাদার জীবনের এই সম্পর্কগুলোর ইতি অনেক সময় নানা রকম বিতর্ক, ভুল বোঝাবুঝি ও কথার লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। আর যার পরিণতি হিসেবে কিছু পরিচালক ও অভিনয় শিল্পীদের মধ্য মুখ দেখাদেখিও বন্ধ হয়ে যায়। তেমনই কিছু ‘জুটি’ নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন।

  • বিদ্যা বালান ও সুজয় ঘোষ

‘কাহানি’ সিনেমাটি বিদ্যা বালানের ক্যারিয়ারের জন্যই একটা মাইলফলক। যদিও, সিনেমাটির পরিচালক সুজয় ঘোষের সাথে এখন আগের মত সম্পর্কটা একদমই নেই তাঁর। কারণ, নিজের স্বাস্থ্যগত সমস্যার দোহাই দিয়ে সুজয় পরিচালিত ‘দুর্গা রানী সিং’ প্রোজেক্ট ফিরিয়ে দিয়েছিলেন বিদ্যা। পরে সুজয় এই সিনেমার জন্য কঙ্গন রনৌত ও কারিনা কাপুরকে প্রস্তাব দিলেও দু’জনই ‘না‘ বলে দেন। তাই, প্রোজেক্টও থেমে যায়।

  • গোবিন্দ ও ডেভিড ধাওয়ান

এই নির্মাতা-অভিনেতা জুটি নব্বই দশকে একের পর এক হিট সিনেমা উপহার দিতেন। যদিও প্রায় পাঁচ বছর হতে চললো, তাদের মুখ দেখাদেখি বন্ধ। কারণ হল ১৯৮১ সালের সিনেমা ‘চাশমে বুদ্দুর’ এর রিমেক ২০১৩ সালের ‘চাশমে বাদ্দুর’-এ ডেভিড ধাওয়ান গোবিন্দকে সরিয়ে ‍ঋষি কাপুরকে নিয়েছিলেন। এর জের ধরে, আর কখনোই হয়তো এই জুটিকে এক সাথে দেখা যাবে না।

  • সালমান খান ও সঞ্জয় লীলা বনসালী

বনসালী’র ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সিনেমা ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’-এর কেন্দ্রীয় চরিত্রে ছিলেন সালমান। ১৯৯৯ সালের এই সিনেমার পর ২০০৭ সালে ‘সাওয়ারিয়া’-তেও ছিলেন সালমান। ২০১০ সালে বানসালীর ছবি ‘গুজারিশ’ দেখে সালমান বলেছিলেন, ‘কোনো ‍কুকুরও গিয়ে এই ছবি দেখবে না। বানসালী পুরনো বন্ধুর এই আচরণে কষ্ট পান। তিনি নীরবতা ভেঙে বলেছিলেন, ‘যদি একজন পুরনো আর বিশ্বস্ত বন্ধু এমন বলেন, তাহলে আমার মনে হয় এই বিনোদন জগতে আমার আর কিছু করার নেই।’ এরপর আর কখনোই এক সাথে তাঁরা সিনেমা করেননি।

  • শ্রদ্ধা কাপুর ও আদিত্য চোপড়া

ক্যারিয়ারের শুরুতে যশ রাজ ফিল্মসের সাথে তিনটি সিনেমার চুক্তিতে যান শ্রদ্ধা কাপুর। প্রথমটি হল ‘লাভ কা দ্য এন্ড’। মুক্তি পায় ২০১১ সালে। সিনেমাটি ব্যর্থ হওয়ার পরই ‍চুক্তি বাতিল করে ‘আশিকি ২’ সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হন শ্রদ্ধা। ২০১৩ সালে ‘আশিকি ২’ বক্স অফিসে বড় সাফল্য পায়। চুক্তি ভঙ্গটা ভাল চোখে নেননি আদিত্য চোপড়া।

  • কঙ্গনা রনৌত ও অনুরাগ বসু

ক্যারিয়ারের অভিষেক সিনেমাতেই আলোচনার ঝড় তোলেন কঙ্গনা। ২০০৬ সালের সেই ‘গ্যাঙস্টার’ সিনেমার পরিচালক ছিলেন অনুরাগ বসু। তবে, দু’জনের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হয় তখন, যখন এই পরিচালক ‘লাইফ… ইন আ মেট্রো’ সিনেমা থেকে কঙ্গনা অভিনীত বড় একটা অংশ কেটে ফেলে দেন। এমনকি ২০১০ সালের সিনেমা ‘কাইটস’-এর আগেও অনুরাগ নাকি কঙ্গনাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তাঁর চরিত্রটাও সিনেমায় বারবারা মোরির মতই গুরুত্বপূর্ণ হবে। যদিও, সিনেমা যারা দেখেছেন, তারা নিশ্চয়ই জানেন যে অনুরাগ সেই কথা রাখেননি। তাই, অনুরাগ-কঙ্গনা আর কখনোই এক সাথে কাজ করেননি।

– ঝাকাস মুভিজ অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।