খানদের সাথে ঝামেলায় জড়ানোর পরিণতি

বলিউডে সবচেয়ে ক্ষমতাধর কারা? এই উত্তরে নি:সন্দেহে সবাই এক যোগে বলবেন খানদের কথা। তাই বরাবরই তিন খান – সালমান, শাহরুখ ও আমিরকে সমীহ করে চলেন। বলা হয়, এদের বিরুদ্ধে গিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে কিছু করা মানেই নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারা। যারা তাঁদের সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন তাঁদের অধিকাংশেরই কপাল পুড়েছে।

  • শাহরুখ খান ও শিরিষ কুন্দার

২০১২ সালে সঞ্জয় দত্তর এক পার্টিতে ঝামেলায় জড়ান এই দু’জন। শোনা যায়, শাহরুখ নাকি ফারাহ খানের স্বামীকে চড়ও মারেন। তখন শাহরুখ-ফারাহ’র সম্পর্কেরও অবনতি হয়। যদিও, শিরিষ পরবর্তীতে প্রকাশ্যে শাহরুখের কাছে ক্ষমা চেয়ে বিতর্কের অবসান ঘটান।

  • সালমান খান ও সঞ্জয় লিলা বানসালী

২০১০ সালে বানসালীর ছবি ‘গুজারিশ’ দেখে সালমান বলেছিলেন, ‘কোনো ‍কুকুরও গিয়ে এই ছবি দেখবে না। বানসালী পুরনো বন্ধুর এই আচরণে কষ্ট পান। তিনি নীরবতা ভেঙে বলেছিলেন, ‘যদি একজন পুরনো আর বিশ্বস্ত বন্ধু এমন বলেন, তাহলে আমার মনে হয় এই বিনোদন জগতে আমার আর কিছু করার নেই।’ এরপর আর কখনোই এক সাথে তাঁরা সিনেমা করেননি।

  • সালমান খান ও হিমেশ রেশামিয়া

সালমান খানই হিমেশ রেশামিয়াকে প্রথম ব্রেক দেন। যখন হিমেশ গায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তা পান, তখন তিনি হিমেশকে নিজের সিনেমায় গাইতে বললে তিনি বেঁকে বসেন, প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। এরপর দু’জনের সম্পর্কের অবনতি হয়। সালমানও আর কখনো তাঁকে প্রস্তাব দেননি। ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা হারাতে থাকেন হিমেশ।

  • সালমান খান ও অরিজিৎ সিং

একটা পুরস্কার অনুষ্ঠানে পুরস্কার নিতে মঞ্চে আসতে দেরী করেছিলেন অরিজিৎ। সালমান খান ছিলেন সঞ্চালক। অরিজিৎ মঞ্চে এসে বলেন, ‘আপনাদের লম্বা অনুষ্ঠান দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম।’ সালমান এই কথাটাকে সহজভাবে নেননি। অনুষ্ঠান শেষে অরিজিৎ সালমান খানের কাছে বিষয়টা খুলে বলতে আসলেও তিনি কর্ণপাত করেননি।

  • সালমান খান ও বিবেক ওবেরয়

রীতিমত একটা সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে সালমান খানের বিরুদ্ধে বলেছিলেন বিবেক ওবেরয়। তখন ঐশ্বরিয়া রায়ের সাথে সম্পর্ক ছিল বিবেকের। তিনি বলেছিলেন, তাদের সম্পর্কে অ্যাশের সাবেক প্রেমিক সালমান বাঁধার সৃষ্টি করছেন। এরপর ইন্ডাস্ট্রি থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করেন বিবেক। এরপর অনেকবার সালমান খানের কাছে ক্ষমা চাইলেও এখনো দু’জনের মধ্যে সম্পর্কের জট খোলেনি।

  • আমির খান ও আমোল গুপ্তে

২০০৭ সালের ঘটনা। ‘তারে জামিন পার’ সিনেমার সময় দু’জনের মতের মিল হয়। তাই সরে যান আমোল। বাকিটা সময় নিজেই কাজ চালিয়ে নেন আমির।

  • আমির খান ও শাহরুখ খান

এক যুগ আগের কথা। নিজের ব্লগে শাহরুখ খানকে এক হাত নিয়েছিলেন আমির। তিনি লিখেছিলেন, ‘শাহরুখ আমার পা চাঁটে, আর আমি ওকে বিস্কিট খাওয়াই।’ পরে অবশ্য আমির বলেছিলেন, তাঁর কুকুরের নাম শাহরুখ। শাহরুখ অবশ্য বিষয়টাকে মজা হিসেবে নিয়ে পরে বলেছিলেন, তিনিও নিজের কুকুরের নাম আমির রাখবেন।

  • সালমান খান ও ঐশ্বরিয়া রায়

২০০০-এর শুরুতে তাদের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে, ঐশ্বরিয়া সরে দাঁড়ালে সালমান মেনে নিতে পারেননি। তিনি শারীরিক ভাবেও ঐশ্বরিয়াকে আক্রমণ করেন বলে শোনা যায়। ‘চালতে চালতে’র সেটে গিয়ে অ্যাশকে টেনে হিঁচড়ে বের করে আনেন। তখন শাহরুখ খান আটকাতে গিয়েছিলেন। পরে ছবিটা থেকে অ্যাশ বাদ পড়েন, যোগ হন রানী মুখার্জী।

  • শাহরুখ খান ও সালমান খান

ক্যাটরিনা কাইফের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। সালমান ও শাহরুখের এরপর দীর্ঘকাল কথা বলা, মুখ দেখাদেখি বন্ধ ছিল। এরপর বাবা সিদ্দিকীর ইফতার পার্টিতে তারা একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরেন।

  • সালমান খান ও হৃতিক রোশন

‘গুজারিশ’ সিনেমা নিয়ে মন্তব্যের কারণে হৃতিকের সাথেও সম্পর্কের অবনতি হয় সালমানের। সালমান বলেছিলেন, ‘আরে সিনেমায় দেখলাম ওর ওপর মাছি উড়ছে, কিন্তু থিয়েটারে তো সিনেমা দেখতে কোনো মশাও গেল না।’ হৃতিক অবশ্য সালমানের মন্তব্যে হেসে উড়িয়ে দিয়ে বলেছিলেন, আগামী সাক্ষাতেই তিনি ভাইজানকে জড়িয়ে ধরবেন।

– বলিউড বাবল অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।