শাহরুখ খান ও ডন ২: অজানা উপাখ্যান

বলা হয়, অমিতাভ বচ্চনের স্টারডমকে নাকি একালে এসে ছুঁতে পেরেছেন কেবল শাহরুখ খান। ফলে, দুই ভিন্ন সময়ের দুই অভিনেতার মধ্যে স্বাস্থ্যকর একটা দ্বৈরথ আজো বিদ্যমান আছে। আর সেই দ্বৈরথ চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ২০০৬ সালে। সেবার অমিতাভের খ্যাতনামা ‘ডন’-এর রিমেক করেন ফারহান আখতার। কেন্দ্রীয় চরিত্রে হাজির হন কিং খান। আজ সেই ছবিরই কিছু অজানা অধ্যায়ের কথা বলতে চলেছি।

১.

ছবির শুট্যিং চলাকালে শাহরুখের বিয়ের আংটি হারায়। ফেরত পাবার জন্য সবাইকে খোঁজার তাগাদা দেন শাহরুখ। দ্রুত পাবার জন্য তিনি মজা করে বলেন, ‘এই আংটি নতুন করে আরেকটা পাবার জন্য তাকে আবার বিয়ে করতে হবে।’

২.

এই ছবির জন্য প্রথমে হৃতিক রোশন ছিলেন ফারহানের পছন্দ। হৃতিকের টেবিলে প্রস্তাব যাওয়ার আগে, ফারহান নিজেই মত পাল্টান, কাস্ট করেন শাহরুখকে।

৩.

ডন এবং ডিসিপি ডিসিলভার যে মারমারির দৃশ্য ছিল সেটার শুট্যিং হয় মালয়েশিয়ার লঙ্কাউইয়ে। ফাইটিং ডিরেক্টর একটু গুবলেট পাকিয়ে ফেলেছিলেন। এদিকে বোমান ইরানীরও ফ্লাইটের সময় হয়ে যাচ্ছিল। তখন স্বয়ং এসআরকেই মারামারির দৃশ্যটা পরিচলানা করেন।

৪.

শাহরুখ খান, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, র্জুন রামপাল তাঁদের চরিত্রের প্রয়োজনে মার্শাল আর্ট শিখতে হয়েছিলো । ‘শাওলিন টেম্পল’-এর মার্শাল আর্ট গুরুদের কাছ থেকে এই তিনজন বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন ।

৫.

‘লক্ষ্য’র শুট্যিং চলাকালীন সময়ে ফারহান আখতার ‘বোম্বে দ্য হার্ড ওয়ে – গানজ কারস সিটার্স’ অ্যালবামের গান শুনছিলেন। এই অ্যালবামে ‘ডন’ ছবির টাইটেল ট্র্যাক ছিলো। গান শুনে ফারহানের মনে পড়েছিলো তিনি ছোটবেলায় এই গানটিকে কত ভালোবাসতেন। তখনই তার মাথায় ডন-এর রিমেক করার ভুত চাপে।

৬.

বাবা জাভেদ আখতারের সাথে মিলে ফারহান ছবিটির স্ক্রিন-প্লে লিখেন। জাভেদ ছবির জন্য গান লিখেছিলেন। বলাই বাহুল্য, তিনি সেলিম খানের সাথে অমিতাভের ‘ডন’-এর স্ক্রিপ্ট লিখেছিলেন ।

৭.

‘ডন’ ২০০৬ সালে ভারতের পঞ্চম সর্বোচ্চ আয় করা ছবি ছিল।

৮.

প্রিয়াঙ্কাকে যখন এই ছবির জন্য প্রস্তাব করা হয় তখন প্রিয়াঙ্কা খুবই এক্সাইটেড ছিলেন। প্রস্তাব গ্রহণ করতে এক মুহূর্তও ভাবেননি। যদিও জিনাত আমানের মত চরিত্রটিকে ফুটিয়ে তুলতে পারবেন কি না – সেই ভেবে শঙ্কিতও ছিলেন, ভুগছিলেন স্নায়ুচাপে।

৯.

মালেশিয়ার তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের পেট্রোনাস টাওয়ারে আগে কোনো হলিউড ছবিকেও শুট্যিং করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। যদিও, ডন সেই সুযোগটা পেয়েছিল।

১০.

‘ডন’ হল আইটিউনস-এ প্রকাশিত হওয়া প্রথম ভারতীয় মিউজিক অ্যালবাম।

১১.

ছবিটির প্রচারণার জন্য প্রযোজকরা ডনের নামে পপ কর্ণ হোল্ডার লঞ্চ করেন। ছবির টিকেটের সাথে ৮০ পৃষ্ঠার বিশেষ একটা কমিক বইও দেওয়া হয়। আবার ‘হাঙ্গামা ডিজিটাল মিডিয়া এন্টারটেইনমেন্ট’ এর সহযোগীতায় মোবাইল গেমও তৈরি করা হয়।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।