সাফল্যের আড়ালে কুকীর্তি ঢাকা না পড়ুক!

খালেদ মাহমুদ সুজন – বাংলাদেশ ক্রিকেটে এক আলোচিত এবং সমালোচিত নাম। প্রথমেই বলে নেয়া দরকার, ক্রিকেট বোঝেন বা ফলো করেন এমন কেউই ক্রিকেটার সুজনকে ট্রল করেন না অথবা ততকালীন সময়ে ক্রিকেটার সুজনের সমালোচনা করেন না। একজন লড়াকু ক্রিকেটার হিসেবে তাঁর প্রশংসা আমি অনেক ক্রিকেট পেইজ, গ্রুপে দেখেছি। ১৯৯৯ বিশ্বকাপ, মুলতান টেস্টে হেরে যাবার পর তাঁর আবেগ, এগুলো এদেশের ক্রিকেটের প্রতি তাঁর নিবেদনকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখায়।

তাহলে সমালোচনাটা আসে বা এসেছে কোথা থেকে?

জনাব সুজনকে নিয়ে সমালোচনার শুরু হয় তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের অবসানের পর। একই ব্যক্তি হয়ে বিভিন্ন পদের দায়িত্ব আকড়ে ধরে রাখা, ঘরোয়া ক্রিকেটের বিভিন্ন বিতর্কিত সিস্টেমে হস্তক্ষেপ, বেখাপ্পা কথাবার্তা, ক্যাসিনো বিতর্ক, এমনকি দুয়েকটা ভিডিও ফুটেজে ক্ষমতার দম্ভ, এগুলোই মূলত তাকে ক্রিকেট ফ্যানদের কাছে অপ্রিয় করে তোলে। এইতো কিছুদিন আগেই বোর্ড সভাপতি ভরা মজলিশে তাঁকে অপমান করে বলে দিলেন, ‘তুমি চুপ কর, অনেক ভুলভাল বুঝিয়েছ আমাকে।’

যাই হোক, সুজনের সমালোচনা করার মত কারণ আছে বলেই সমালোচনা বা ট্রল হয়, অকারণে নয়।

এখন কথা হচ্ছে, এতে করে কি তার অবদান অস্বীকার করা উচিত? নাহ, সেটা কেউই অস্বীকার করছে না। তবে, সেই সাথে এটাও ভুলে গেলে চলবে না যে, একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে সন্মানের পুরো ডালি সাজিয়েও কেউ বরণ করতে যাবে না।

এবারে আসি আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের কথায়। ‘ফাঁপা’ শব্দটা হচ্ছে বিসিবির এক কথায় প্রকাশ। এখানে অনিয়ম করা হয় নিয়ম করে। নির্বাচক থেকে শুরু করে সভাপতি পর্যন্ত হাস্যকর সব বক্তব্য দিয়ে থাকেন। অসংলগ্ন উক্তি, দুর্বল যুক্তি, ফাপরবাজি, দুর্নীতি সব মিলে মিশে একাকার।

এখন একটু মূল গল্পে আসি। একটা স্কুল থেকে জিপিএ ফাইভ পেয়ে সকল শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। গ্রামবাসী সবাই ঘটা করে ওই স্কুলের সভাপতিকে ফুলের মালাটালা সমেত সংবর্ধনা দিয়ে দিয়েছে। প্রচার প্রচারনা করে অস্থির অবস্থা! আসলেই তো, সভাপতির অবদানই তো বেশি!

অথচ সেই সভাপতির নামে হাজারো অভিযোগ ছিল! সাকসেস হ্যাজ মেনি ফাদার! সভাপতির অবদান কেউ অস্বীকার করছে না, কিন্তু সাফল্যের আড়ালে কুকীর্তি ঢেকে দেবার উদ্ভট চেষ্টা কেউ স্বাগত জানাতে পারে না।

ছেলেবেলায় পত্রিকার পাতায় খুঁজে বেড়াতাম খেলার অংশটুকু। স্পোর্টস সাহিত্যের একমাত্র মাধ্যম ছিল পত্রিকা। যুগের পরিবর্তনে আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই স্বাদ খুঁজে ফিরি। সাংবাদিকতা নিয়ে আমার জানার পরিধি অনেক ছোট। সাংবাদিক হতে কি কি ক্রাইটেরিয়া লাগে, সেটাও জানি না। তবে, স্বচ্ছতা লাগে এটুকু জানি। এটাও বুঝি, দিনশেষে এটা একটা পেশা এবং রুটিরুজির উৎস। ক্যারিয়ার গড়তে স্বচ্ছতাই কি যথেষ্ট? এদেশে হয়ত সেটা যথেষ্ট নয়, নাহলে এত স্ট্যান্টবাজি, তেলবাজি, আবেগ বিজনেস হয়তো দেখতে হত না।

সবারই নিজস্ব মতামত থাকবে। সেই সাথে নিজের পেশার প্রতি একটা দায়বদ্ধতা থাকাও জরুরী।

পরিশেষে, সমালোচনাকারী হতে পারাও একটা গুন। গা বাঁচিয়ে সমালোচনা করা বা ব্যালান্স করে চলাটা হাস্যকর। ধরুন, আপনি কোন কিছুর প্রচন্ড সমালোচনা করেছেন বা করে থাকেন। কিন্তু আপনার প্রিয় কেউ অথবা আপনার কাজে লাগে এমন কেউ সেই কোন কিছুর প্রশংসা করে ভিজিয়ে দিল। এমতাবস্থায় আপনি আপনার স্বার্থের কথা ভেবে বিষয়টা ওভারলুক করে গেলেন। আপনি জাস্ট একটা ডাবল স্ট্যান্ডার্ড।

আজ সারাদিন নিউজফিড ঘেটে এমন অনেক ডাবল স্ট্যান্ডার্ডদের দেখেছি। এরা সবই বোঝে, কিন্তু চুপ থাকে নিজের স্বার্থের কথা ভেবে। তাহলে আর মিছে সুজন, মিডিয়া, বোর্ড কর্তাদের দোষ খুঁজে লাভ কি!

এইতো আর কিছুদিন! মধ্যপ্রাচ্যকে তেল বিজনেসে চ্যালেঞ্জ করার সময় চলে এসেছে! আমার জীবদ্দশায় সেটা দেখে যেতে না পারলে মরেও শান্তি পাব না।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।