তিন তরুণের সংকট এবং ওয়েবের যুগে বাংলাদেশ

যতো চাও বাঁধিতে বাঁধা যে পরে না, সময়ের আয়না ছাড়ে না ছাড়ে না। হ্যাঁ, আমাদের জীবনটাই কিন্তু এমনই! কেউ গড়তে চায়, কেউ গড়তে চায় না। কেউ আটকে রাখতে চায় কেউ আটকে থাকতে চায় না। এমন এক চাওয়া পাওয়ার গল্প ‘দ্বিতীয় কৈশোর’।

নেটফ্লিক্সের বদৌলতে বিদেশি ভাষার বিভিন্ন ওয়েব ফিল্ম বা ওয়েব সিরিজের সাথে আমাদের পরিচয় রয়েছে। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ওয়েব সিরিজের ধারণা একদমই নতুন। বাংলা ওয়েব কনটেন্ট আমাদের দেখার অভিজ্ঞতা নেই বললেই চলে। যদিও, এখানে ওয়েব সিরিজের চাহিদা দিনদিন বেশ বাড়ছে। কিছুদিন আগে এ ‘দ্বিতীয় কৈশোর’-এর ট্রেইলার দেখে বেশ লাগলো। আরো বেশি আগ্রহ জন্মালো ছোট পর্দার তিন রাঘব বোয়াল অভিনেতাদের দেখে।

ফিল্মের শুরুতেই একদম ঝকঝকে তকতকে দৃশ্যপট দেখে এমনি আগ্রহের জন্ম হয়ে গিয়েছিলো। সাথে বেশ ক্লাসিক কালার গ্রেডিং বেশ ভালোই চোখের প্রশান্তি দিচ্ছিলো। ফিল্মটি পরিচালনা করেছেন ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ খ্যাত শিহাব শাহিন। ১০২ মিনিয়ের দৈর্ঘ্যের এই ফিল্ম বা টেলিফিল্ম নিয়ে শিহাব শাহিন আগেই বিভিন্ন পত্রিকায় বলেছিলেন, ‘নির্মাণের দিক বিবেচনা করলে চলচ্চিত্রের বেশ ঝাঁজ পাওয়া যাবে, সাথে থাকবে আধুনিক ঘরণার আইডিয়া এবং কন্টেন্ট।’ শিহান শাহিন যদি নাও বলে থাকেন আমি নিজেই বলছি এই ওয়েব ফিল্মটি দর্শকপ্রিয়তা পাবে একশত ভাগ।

অভিনয়ের দিক দিয়ে দেখা মিলবে তিন তারকাকে। এর আগে দর্শক উনাদের একসাথে দেখেননি বললেই চলে। দেখার পর আপনি বেশ তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে বাধ্য। অপূর্বকে সেই আগের চিরাচরিত রোলে রেখে শাহিন সাহেব বেশ বুদ্ধিমানের পরিচয় দিয়েছেন। অন্য দিকে তাহসানকে এখানে বেশ ভিন্নধর্মী চরিত্রে দেখা যাবে। কেউ কারো থেকে কম যাননি।

তবে, আলাদা ভাবে আফরান নিশো কেন জানি সবার থেকেই একটু এগিয়ে। বেশ শক্ত রোল পেলেও ফুটিয়ে তুলেছেন নরম তুলতুলে ভাবে। তাঁর চুল ঝাঁকানো দেখে অনেকের চুল রাখতে ইচ্ছা করবে কিংবা তাঁর ধুমপান করা দেখে অনেকের ধুমপান করতেও ইচ্ছা হতে পারে। এছাড়া সাপোর্টিং রোলে সানজিদা প্রীতি এবং রাইসা অর্পার চরিত্র গুলোকে লেগেছে একদম জীবন্ত। সব মিলিয়ে অভিনয় সকলের একদম পাঁকা।

  • কাহিনী সংক্ষেপ

ত্রিশের কোঠায় থাকা তিন যুবকের ভিন্নধর্মী সংকটময় সময় গুলোর আলোকপাত হবে এই গল্পে। এই তিন যুবক তাদের নিজের জীবন কে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে দেখেন, এবং প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসেব গুলোও তাদের ভিন্ন ভিন্ন সূত্রের! কেউ চিন্তা করে বিয়ে মানেই ঝামেলা, কেউবা চিন্তা করে বাচ্চা মানেই ঝামেলা, আবার কেউ নিজের জীবিকার টানে অনৈতিক যেকোনো কিছু করতেই রাজি। এসব নিয়েই গল্প, আছে অপ্রত্যাশিত টুইস্ট। জীবনের অনেক অপরিহার্য বাস্তবতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে ‘দ্বিতীয় কৈশোর’।

‘দ্বিতীয় কৈশোর’ একটি ভালো কাজ, আমাদের উচিৎ ভালো কাজকে মূল্য দেওয়া। বায়োস্কোপ অ্যাপ নামিয়ে সহজেই দেখতে পাবেন এই ওয়েব ফিল্মটি। আশা করছি আপনার সময়টা বৃথা যাবে না। ওয়েবের জগতে বাংলাদেশি কনটেন্ট যে একটু একটু করে বেশ ভাল একটা অবস্থান পেতে চলেছে সেটা এই কাজটি দেখলেই বোঝা যায়।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।