দিল বেচারা কি আদৌ মাস্টারপিস!

যেহেতু, একই গল্পে ‘দ্য ফল্ট ইন আওয়ার স্টারস’ নামে ছয় বছর আগেই একটা ছবি এসেছিলো তাই ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত তুলনা চলে আসবে। যাইহোক, শুরু করা যাক।

ট্রেইলার দেখার পরই আন্দাজ করেছিলাম অগাস্টাসের থেকে সুশান্তের চরিত্রটা আরও এনার্জিটিক করা হয়েছে। তাছাড়া দিল বেচারা টাইটেল ট্র‍্যাকেও এমন আভাস দেওয়া হয়েছে। তবে প্রথম সাক্ষাতেই কিজি বসুকে ওভাবে জোর করে নাচানো পুরাতন বলিউড ভাইব এসেছে। নাহ ব্যক্তিগতভাবে এটা ভালো লাগেনি। একপা ছাড়া এমন নাচানাচি একভাবে ভালো লাগলেও আবার ভালো লাগেনি।

বেশ কিছু কমিক সিন অ্যাড করেছে। আগের তুলনায় রাজকুমারকে আরও কমিক রোল দিয়েছে। কিন্তু কমেডি মনে হয়নি এগুলো, বিরক্তিকর ছিলো। জেপি ক্যারেক্টারটার কিছুই ফুটে উঠেনি এখানে। দুঃখিত কিন্তু সত্য হলো কমেডি নামে যা দেখানো হয়েছে অধিকাংশই তেমন হাসির ছিলো না।

প্যারিস যাওয়ার কারণ রাইটারের জায়গায় মিউজিশিয়ান আনা বলিউড উপায়ে গানগুলোকে আরও সুন্দর জাস্টিস দেওয়ার উপায়। ভালো আইডিয়া অবশ্যই। তবে সাইফ আলীর ক্যামিও থাকার পরও ‘জোকিং’ দিয়ে ওই অংশটুকু সেভাবে রিলেট করতে পারিনি।

শুরুটা যেভাবে হয়েছিলো মাঝখানে প্রচুর তাড়াহুড়ো হয়ে গেছে। একটা থেকে আরেকটা ঘটনা দ্রুত ঘটেছে। আগের মুভির থেকে স্ক্রিনটাইম যে ৩০ মিনিট কম সেটার প্রভাব স্পষ্ট। তবে এন্ডিং এ যেমন পাল্টানো হয়েছে শেষটা কিউট বলাই যায়। সাইফকে আরেকবার দেখালে ভালো হতো না?

সিনেমাটা ছিলো মূলত কিজি বসুর জার্নি নিয়ে যার সঙ্গ দিয়েছে রাজকুমার। কিজি চরিত্রে সাঞ্জানার অভিনয় অসাধারণ ছিলো। তবে স্টোরিটেলিং এ হয়তো আরেকটু ভালো হতে পারতো। স্বস্তিকা, শাশ্বত তাদের যায়গা থেকে সেরা ছিলো। সাহিল ভাইদকে তেমন একটা ভালো লাগেনি। এবার আসি সুশান্ত সিং রাজপুতের অভিনয়ে।

ইতোমধ্যে, সবার রিভিউ এ অনেক প্রশংসা দেখলাম। তবে সেভাবে ভালো লাগাতে পারেনি সুশান্তের অভিনয়। ভালোও না, খারাপও না। মাঝামাঝি বলা যায়।

সিনেমায় একটা দিক নিয়ে কোন অভিযোগের যায়গা রাখেনি, মিউজিক। ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর, গান সব যায়গায় আবারও জাদুকরী স্পর্শ দেখিয়েছেন এ আর রাহমান। ভালো হয়েছে টাইটেল ট্র‍্যাক ছাড়া আর কোন গান প্লেব্যাক হিসেবে ছিলো না। সবগুলো গানই অসাধারণ সুন্দর। কয়েকজন কম্পোজারের মধ্যে রাহমান একজন যিনি আরিজিতের একঘেয়েমি দূর করতে পারেন। শ্রেয়া ঘোষাল, মৌহিত চৌহানসহ সবাই নিজেদের সেরাটা দিয়েছেন।

ওহ হ্যাঁ, ৩২ মিনিটের এই অ্যালবামটা অনেক আগেই ভারতের স্ট্রিমিং অ্যাপগুলোতে রিলিজ হয়েছে। তবে ইউটিউবে এখনো আসেনি। অপেক্ষা করছি বাকি গানগুলোর জন্য।

এই ছিলো মোটামুটি দিল বেচারার রিভিউ। এটাই আমার প্রথম নেগেটিভ ও ট্রেন্ডিং মুভির রিভিউ। অবশ্য কারণও ছিলো বটে। আইএমডিবিতে রেটিং এখন ৯.৮/১০! কারণ কি? সুশান্তের মৃত্যু। ইরফান খানের বিয়োগের পর মৃত্যুর পর দাম বেড়ে যায় বলে একটা লেখা লিখেছিলাম। এবারের ঘটনাও তেমনই।

মৃত্যুর পর ইরফান খানের ইন্সটা ফলোয়ার বাড়তে শুরু করে! এখনো তেমন কিছুই হচ্ছে। এখন একটা অ্যাভারেজ মুভি অনেকের কাছেই মাস্টারপিস। এই মৃত্যুতে অনেকে ফায়দা লুটছে তো বটেই, সাথে সাধারণ দর্শকের শো-অফ করা ইমোশন বাড়ছে।

৭০ দশকের কোন গানের কমেন্ট বক্সে গেলে সেখানেও সুশান্ত নিয়ে টপ কমেন্টগুলো দেখি। মানে লাভ কি ভাই? এতো আবেগ থাকলে বেঁচে থাকা অবস্থায় দেখাতেন। সুইসাইড করতো বা না করতো তার থেকে বড় কথা আরও সুখী থাকতো মানুষটা। যাইহোক, ভালো থাকবেন।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।