জীবনের দামে কেনা ‘লোক দেখানো ভালবাসা’

সুশান্তের ফেসবুক পেজে ‘দিল বেচারা’ ছবির অ্যানাউন্সমেন্টের সময়কার একটা পোস্ট আছে, কিঞ্চিৎ আগ্রহবশত সেই পোস্টের কমেন্ট সেকশন দেখতে একটু পেছনে ফিরে গিয়েছিলাম। যা দেখলাম তা রীতিমতো অস্বস্তিকর।

অকথ্য গালাগালি, ট্রলিং, ক্লাসিক সিনেমা নষ্ট করার হুমকি ধামকি সহ তখনকার সময়ের একটা পজিটিভ কমেন্ট চোখে পড়লো না। অথচ আজ দৃশ্যপট একেবারে পাল্টে গেছে। সবার কাছে মাস্টারপিস হয়ে গেছে এই সিনেমা।

দিল বেচারা মুক্তি পেল। মুক্তির আগেই আবেগের বশে আইএমডিভিতে ১০ এ ১০ দিয়ে আসছে অনেকেই। ভালোবাসা দেখাচ্ছেন, দেখান আমার তাতে কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু এই ভালোবাসার অর্ধেক টা সুশান্ত বেচে থাকলে কি দেখাতেন?

অপ্রিয় সত্য হলো সুশান্ত বেচে থাকলে আজ তার বিরুদ্ধে ক্লাসিক সিনেমা নষ্টের অভিযোগে উঠতো, বাজে ভাবে ট্রল করা হতো, এই দর্শকদের দ্বারা আবারো মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হত ছেলেটা। আজ সে নেই বলেই এতো ভালোবাসা আর সিম্প্যাথি দেখানো হচ্ছে।

গত বছর তিনি ‘সোঞ্চিরিয়া’ নামে একটা অসাধারণ সিনেমা করেছিলেন। অনেক বড় প্রোডাকশন এর সিনেমা ছেড়ে অনেক পরিশ্রম করে সিনেমাটা বানিয়েছিলো কিন্তু এখন আলগা আবেগ দেখানো একটা দর্শক ও তখন সেই সিনেমাটা দেখেইনি। বক্স অফিসে ডিজাস্টার হয় সিনেমাটা। লোকটা তখন রীতিমতো হাত জোর করে অনুরোধ করেছিলো সবাইকে তাঁর সিনেমাটা দেখার জন্য, কিন্তু তবুও কেউ দেখে নি।

অথচ, সে মারা যাওয়ার পর তার সিনেমা হলে রিলিজ দেওয়ার জন্য টুইটারে ট্রেন্ড হয়। কি অদ্ভুত না ব্যাপারটা?

আজ তার জন্য এতো আয়োজন, এতো আবেগ, এতো ভালোবাসা, সে থাকতে যদি এর অর্ধেক টা দেখাতেন তাহলে হয়তো গল্পটা আজ অন্যরকম হতো না। আমরা বেচে থাকতে মানুষকে পর্যাপ্ত মূল্যায়ন করি না, আর মরে গেলে তাঁকে সব দিয়ে দেই, যেগুলোর তাঁর আদৌ ও তখন প্রয়োজন হয় না। দরকারের সময় আমরা পাশে থাকি না।

যে দর্শকদের সুশান্ত হাত জোড় করে অনুরোধ করে সিনেমাহলে নিতে পারে নাই আজ তারা তার সিনেমা রিলিজের জন্য ট্রেন্ড করে। যারা দিল বেচারার এনাউন্সমেন্ট এর সময় গালি দিয়েছিলো আজ তারা এটা না দেখেই ১০ এ ১০ দিয়ে দিচ্ছে। জীবন দিয়ে এই ‘ফেক’ ভালবাসা পাচ্ছেন সুশান্ত।

আজ সুশান্ত হয়তো উপরে বসে এই হিপোক্রেট দর্শকদের কর্মকাণ্ড দেখছে আর ভাবছে, ‘থ্যাংক গড আমি এই তামাশা ছেড়ে চলে এসেছি, মরে গিয়ে জাস্ট বেচে গেছি আমি।’

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।