দিল বেচারা ও তাচ্ছিল্য-সম্মানের দ্বন্দ্ব

কেউ যদি সুশান্ত সিং রাজপুতের ‘দিল বেচারা’ সিনেমায় আবেগের বশে রেটিং ১০/১০ দেয় তাহলে তাকে নিয়ে হাসি-তামাশা করার কোনো কারণ দেখি না। আমরা সবাই জীবনে কখনো না কখনো নিজের পছন্দের জায়গার প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে ভুল রেটিং দিয়েছি। যে সিনেমা আদতে ৩/১০ রেটিং ডিজার্ভ করে সেই সিনেমাকে ৯/১০ দিয়েছি শুধুমাত্র নিজের পক্ষপাতিত্বের কারণে।

সুশান্তের ভক্তরা ঠিক একই কাজটা করছে। এখন তাদের ভালবাসার জায়গা থেকে উদ্ভুত খামখেয়ালি কর্মকাণ্ড দেখে যদি তাদের জাজ করে ফেলেন, সুশান্তের ভক্তরা সিনেমা বুঝেনা তাহলে সেটা অন্যায়।

ভক্তের এমন আচরণের বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। একজন অভিনেতার মৃত্যুর পর পরিবেশিত শেষ সিনেমার অভিনয় দেখে কি আর অভিনয় দক্ষতার বিচার রেটিং দিয়ে করা যায় আদৌ! তার রেটিং ২/১০ হলেই কি আবার ১০/১০ হলেই কি বা আসে যায়!

পল ওয়াকারের মৃত্যুর পর তার ভক্তরা একই কাজ করেছিলো। ‘ফিউরিয়াস ৭’ সিনেমা রিলিজের পর টানা দশ-বারো দিন সিনেমাটি টপ রেটিংএ ছিলো। এখন কি আপনি একই ভাষায় বলবেন পল ওয়াকারের ভক্তরাও সিনেমা বুঝেনা! পল ওয়াকার কিংবা সুশান্তের মত আরো অসংখ্য অভিনেতা-অভিনেত্রীর ক্ষেত্রে একই ঘটনা ঘটেছিলো। তেমনি আমার প্রিয় অভিনেতা হ্যাঙ্কস, রবার্ট, ক্র্যাপ্রিয়োর বেলায় যদি এমন কোনো ঘটনা ঘটে তাহলে আমি নিজেও ঠিক একই কাজ করবো।

আপনি সিনেমা সচেতন ব্যক্তিত্ব হয়ে থাকলেও চিন্তিত বা উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। ‘ফিউরিয়াস ৭’ সিনেমা যেমন টপ রেটিং থেকে তার যোগ্যতার অবস্থানে চলে গেছে। তেমনি দিল বেচারা সিনেমা অতি শীঘ্রই তার যোগ্যতার আসনে চলে যাবে। এতো হৈহৈরৈরৈ করার কোনো প্রয়োজন নেই; মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যায়নি।

পৃথিবীতে সকল বিখ্যাত মানুষের জন্য তার ভক্তরা ভালবেসে পাগলামি করে থাকে। তাদের মাঝে যেমন বাস্তবতা বুঝতে পারা ভক্ত আছে, তেমনি প্রচন্ড আবেগী ভক্তের সংখ্যা নেহাৎ কম না। বিশ্বাস করেন কোনো পৃথিবীতে ভক্তই অযোগ্য কিংবা জ্ঞানবুদ্ধিহীন নয়। তাদের এইসব কর্মকাণ্ড নিতান্তই পবিত্রতম ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ মাত্র।

কোনো ব্যক্তি তার প্রিয় মানুষের প্রতি আবেগময় ভালবাসা দেখায় তাহলে আপনার অন্তত কোনো ক্ষতি হবে না। তাদের এইসব কর্মকাণ্ডের কারণ আপনি যেমন বুঝেন তেমনি তারাও খুব ভালভাবে বুঝে। কোনো ভক্তের ভালবাসাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে নয় বরং সম্মান করতে শিখুন।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।