ওরা কি কেবলই ম্যাথুসকে মোটা বললো!

কখনও কর্মক্ষেত্রে ঝামেলায় পড়েছেন? কোম্পানির চাহিদামত বিক্রয়লক্ষ্যে পৌঁছুতে পারেননি, এমন হয়েছে কখনো? কিংবা কোম্পানির পার্টিতে গিয়ে খুব বেশি পান করেছেন এবং আপনার ম্যানেজারের সন্তানের ওপরে সেসব পানীয় উগড়ে দিয়েছেন, এ ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন কখনো!

অথবা ধরে নিচ্ছি, আপনি একটি ক্রিকেট ওয়েবসাইটের জন্য মাসান্তে বিদ্রূপাত্মক কলাম লিখে থাকেন এবং প্রতিমাসেই লেখা জমা দেবার তারিখ আপনি মিস করেন। আচ্ছা, যেমনটা দেখা যাচ্ছে, এ জাতীয় সমস্যায় কেবল আপনি একাই নন, ক্রিকেট তারকারাও আজকাল তাদের কোচ আর বোর্ডের সাথে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ছেন, এবং তাদের সম্পর্কটাও ওই ম্যানেজার-কর্মচারীর মতোই। যদিও আপনার তুলনায় বেতন এবং ইগো, দুটোই তাদের অনেক বেশি।

গত কিছুদিনের ক্রিকেট দুনিয়ায় ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার দিকে একবার চোখ বুলিয়ে নিন, স্বার্থের সংঘাত স্পষ্ট টের পাবেন সেখানে।

  • একটি বার্তা

গত মাসে এশিয়া কাপ খেলার নামে সংযুক্ত আরব আমিরাত গিয়ে শ্রীলঙ্কা যেন খাল কেটে কুমির এনেছিলো। মাঠের খেলায়, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের কাছে বিশাল ব্যবধানে পয়াজয়ের ঘটনা তো ছিলোই, তবে তার চেয়েও বড় আকারের অপ্রত্যাশিত এবং বিতর্কিত ঘটনা যেন দেখা গেলো মাঠের বাইরে।

মরুর দেশ হতে দলটি দ্বীপদেশে ফেরত আসবার পরপরই নির্বাচক ও কোচ চান্দিকা হাতুরুসিংহে অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসকে একটি বৈঠকে ডেকে নেন, যেখানে ম্যাথুসকে পদত্যাগ করতে বলা হয়। দলের ব্যর্থতার দায় কেবল নিজের কাঁধে নিয়ে ম্যাথুস পদত্যাগ করতে রাজি না হলে, ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ে তারা তাকে স্কোয়াড থেকেই বাদ দিয়ে দেন।

কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে সংবাদমাধ্যমের কাছে এক বিবৃতি আসে, যেখানে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট প্রত্যক্ষভাবে ম্যাথুসের ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং পরোক্ষভাবে তাকে ‘মোটা’ বলে ঘোষণা দেয়। একজন ক্রিকেটারের বারেবারে রান আউট হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা তো সেদিকেই ইঙ্গিত করে।

  • অসন্তুষ্টি

সম্ভবত গত কয়েক বছরে, ফিল্ডিংয়ে পাকিস্তান তাদের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে সেরা সময় পার করছিলো। আর এই কৃতিত্বের যিনি নেপথ্য কারিগর, সেই স্টিভ রিক্সন, সম্প্রতি সে দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। দায়িত্বটা যে খুশিমনে ছাড়েননি, সে তো জুনের শেষাশেষি দায়িত্ব ছেড়ে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কর্তাদের ‘স্টুপিড’ বলে আখ্যা দেয়াতেই বোঝা যায়।

অন্য কেউ হলে পাকিস্তানের কর্তাদের প্রতি করা এ মন্তব্য মেনে নিতে সমস্যা হতো না। কিন্তু মানুষটা স্টিভ রিক্সন বলেই একটু সন্দেহের অবকাশ থেকে যায়। এর আগে অস্ট্রেলিয়া আর শ্রীলংকা নিয়েও এমন মন্তব্য করেছিলেন কিনা!

  • একজন আদর্শ কর্মচারী

অফিসে যেকোনো সময়ে আপনার অনুগত থাকবে এমন কোনো কর্মচারীর খোঁজ করছেন? দুঃখিত, আপনি যার খোঁজ করছেন উনি এখন ভারতীয় ক্রিকেট দলের কোচের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। কোচিংয়ের পাশাপাশি রবি শাস্ত্রী যেন এ দায়িত্বও নিয়েছেন, বিরাট কোহলি এবং তার দল নিয়ে তিনি ভালো বৈ মন্দ কিছু বলবেন না, কখনোই বলবেন না।

ইংল্যান্ড সফররত অবস্থায় বর্তমান ভারত দলকে ‘বিগত ১৫ বছরের সেরা’ বলে শাস্ত্রী দাবি করেছেন, যে মন্তব্যকে ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি ‘অপরিণত’ বলে সমালোচনা দিয়েছেন। সম্ভবত এই ভারত সম্পর্কে রবি শাস্ত্রীর করা অন্য মন্তব্যগুলো সৌরভ শোনেননি।

আপনি তার কাছে জানতে চান, ‘এই ভারতের বোলিং আক্রমণ কি তাদের ইতিহাসের সেরা!’ তিনি উত্তর দেবেন, ‘যোজন যোজন এগিয়ে সেরা!’ জানতে চাইবেন, ‘কোহলি কেমন?’ উত্তর পাবেন, ‘ফর্মে থাকা মোহাম্মদ আলীকেও সে অনায়াসে হারিয়ে দিতে পারে।’

কিংবা জানতে চাচ্ছেন, ‘বিপক্ষের উপর চাপ চাপিয়ে দেয়ার যে গুণ কোহলির রয়েছে, তা নিয়ে কি বলবেন?’ রবি শাস্ত্রী বলবেন, ‘টাইটানিকের ক্যাপ্টেন যদি ভারতের ক্যাপ্টেনের (কোহলি) ভগ্নাংশ পরিমাণও সক্রিয় হতেন, তবে দশ মিনিটের মাঝেই সে জাহাজ ডুবে যাওয়া হতে বেঁচে যেতো।’

সম্ভবত, ভারতীয় ক্রিকেট দল সম্পর্কে কিছু অমর উক্তি রেখে যেতে চাচ্ছেন বলেই রবি শাস্ত্রীর এত আয়োজন। জনাব, তাতে কর্ণপাত না করলেই হলো!

  • একটি শোনার ভুল

২০১৩ সালের কার্ডিফ টেস্টে মঈন আলীকে ‘ওসামা’ বলে ডাকা খেলোয়াড়টি বড় বাঁচা বেঁচে গেলেন বলেই মনে হচ্ছে। নিজের আত্মজীবনীতে তিনি ঘটনার উল্লেখ করলেও সে ক্রিকেটারের নাম-ই যে তিনি বলেননি।

তবে ডেইলি টেলিগ্রাফে তার লেখা কলামে তিনি জানান, তিনি অভিযোগ জানালে সে ক্রিকেটার বলেন, তিনি মঈন আলীকে ‘পার্টটাইমার ‘বলে ডেকেছিলেন, ‘ওসামা’ নয়। এ ঘটনা প্রকাশ পেলে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) সে খেলোয়াড়কে খুঁজে বের করতে তদন্ত নামে। তবে আপনি নিশ্চয়ই আশা করছেন না, দুজন তদন্ত কর্মকর্তা ড্রেসিংরুমে গিয়ে প্রত্যেককে জিজ্ঞাসা করছেন, ‘তুমি বলেছিলে বন্ধু? বন্ধু, তুমি বলেছিলে?’

  • অপরাধী সাব্বির

এ বছরের জানুয়ারিতেই, ঘরোয়া ক্রিকেট লিগের এক ম্যাচ চলাকালীন সময়ে এক কিশোর দর্শককে পিটিয়ে কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়ার সাথে ছয়মাসের জন্য ঘরোয়া ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন সাব্বির রহমান। অবশ্য, একজন ক্রিকেটারকে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার ওপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলানোর ব্যাখ্যা কি হতে পারে, তা কেবল বিসিবি-ই জনে।

যাই হোক, সাব্বিরের প্রাপ্ত ওই সাজাকে যদি কারও কাছে অপর্যাপ্ত মনে হয়, তবে তাদের মনে শান্তি আনয়নে শাস্তি বাড়ানোর কাজটি সাব্বির রহমান নিজেই করেছেন। এবারও শাস্তির কারণ এক দর্শকের সাথে দুর্ব্যবহার। তবে এবার আর হাতে নয়, ফেসবুকে। শাস্তির মাত্রা আগের মতোই, ছ’মাস নিষিদ্ধ, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে।

– ইএসপিএন ক্রিকইনফো অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।