‘দেবী’র রহস্যময় জগতে স্বাগতম

একটি মেয়ে একাকি বসে আছে ছাদের রেলিং-এর উপর, কাকে যেন ডাকছে। সেই মেয়েটি রাতের আঁধারে আনমনে কারো সাথে কথা বলছে। মাঝবয়েসি এক ভদ্রলোক, মেয়েটির অদ্ভূতুড়ে কাজ কারবারের সূত্র খোঁজার চেষ্টা করছে। কোন এক পরাবাস্তব জগতে মেয়েটির বাস, বাস্তবের সাথে তার যোগসূত্র আছে। সেই লৌকিক ও অলৌকিকতার দোলাচলে জড়িয়ে গেছে কয়েকজন মানুষের নাম। রানু, আনিস, নীলু আর অবশ্যই মিসির আলি।

১১ অক্টোবর রাত আটটায় বহুল প্রতিক্ষীত ‘দেবী’ চলচ্চিত্রের ট্রেলার প্রকাশ হলো। প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ‘দেবী’, জয়া আহসানের প্রথম প্রযোজনার চলচ্চিত্র, মিসির আলির প্রথম বড়পর্দায় আগমন। সবমিলিয়ে একটি হই হই রই রই ব্যাপার গত কয়েকমাস ধরে ঘটছে এই ছবিটিকে ঘিরে।

‘আমি নীলু, চিনতে পেরেছেন?’ নীলুর এমন মন্তব্যে মিসির আলির চমকে যাওয়া অভিব্যক্তি ট্রেলারে রহস্যের ইঙ্গিত দেয়। আবার আধ-খাওয়া আপেল, পুরনো মন্দিরে মিসির আলির টলে পড়া, আনিসের পেছনে কোন অশরীরির উপস্থিতি, নীল খামের ওপর দ্বিখন্ডিত হৃৎপিন্ড, গা ছমছম করা আবহ সঙ্গীত – আমাদের এক রহস্যময় জগতের সন্ধান দেয়। যে জগতে প্রবেশ করা যাবে ১৯ অক্টোবর।

আনিস সাহেব স্ত্রীর রহস্যময় কর্মকান্ডে উদ্বিগ্ন হয়ে মিসির আলির স্মরণাপন্ন হয়, যুক্তিবাদী মিসির আলি ভূতের অস্তিত্বকে হেসেই উড়িয়ে দিতে চান। তিনি ক্রমান্বয়ে জড়িয়ে পড়েন এক জটিলতায়, জড়িয়ে পড়ে তার চারপাশে থাকা কিছু চরিত্র।

অদ্ভূত সুন্দর, রহস্যের জ্বালে ঘেরা, প্রিয় কিছু শিল্পীর অভিনয়ে জমাট একটি ট্রেলার দেখার সুযোগ পেল বাংলা চলচ্চিত্রপ্রেমীরা। এমন চমৎকার ট্রেলার দীর্ঘদিন পায়নি বাংলাদেশের দর্শক। বলা চলে নতুন একটি চলচ্চিত্রের ধারা উন্মোচন হবে ‘দেবী’র মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে।

‘দেবী’ তথাকথিত কোন ছবি নয়। এরসাথে জড়িয়ে আছে বাঙালী পাঠকের আবেগ, সে আবেগের নাম মিসির আলি, হুমায়ূন আহমেদ। বড়সড় একটি চ্যালেঞ্জ নিয়ে বসেছেন জননন্দিত অভিনেত্রী জয়া আহসান। নিজের প্রথম প্রযোজনায় নিয়ে এলেন ‘দেবী’। আশির দশকের মাঝামাঝি লেখা ‘দেবী’ বর্তমান সময়ের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়াটাও ছিল পরিচালক, চিত্রনাট্যকার ও সংলাপ রচয়িতা অনম বিশ্বাসের জন্য চ্যালেঞ্জিং।

গত এপ্রিল মাসের ১৫ তারিখ এসেছিল প্রথম টিজার। সেখানে আমরা মুগ্ধ হয়ে দেবীদর্শন করেছিলাম, যে ছিল রানু। তার তিনমাস পর জুলাই মাসের ১৯ তারিখ আসে দ্বিতীয় টিজার। এখানে আমরা মিসির আলি চরিত্রটিকে অপার বিস্ময়ে দেখেছিলাম। এরপর আর কোন টিজার নয়, একদম ট্রেলার হাজির হলো অক্টোবর মাসের ১১ তারিখ। সবগুলো মূল চরিত্রের একটু একটু রূপ দেখা গেল এই ট্রেলারে। ট্রেলার প্রকাশের পূর্বে মুক্তি পেয়েছিল দুটো গান।

‘দেবী’ চলচ্চিত্রে মিসির আলি হয়েছেন সবার প্রিয় চঞ্চল চৌধুরী। বর্তমান সময়ে বয়স অনুযায়ী তিনিই সম্ভবত সবচেয়ে ‘পারফেক্ট’ এ চরিত্রে। রানু চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান, যিনি তার প্রজন্মের অন্যতম সেরা অভিনেত্রী। শবনম ফারিয়াকে দেখা যাবে নীলু চরিত্রে, তরুণ প্রজন্মের প্রিয় এ অভিনেত্রীর জন্য এটি একটি অসাধারন সুযোগ নিজেকে মেলে ধরার। অনিমেষ আইচ আছেন রানুর স্বামী আনিসের চরিত্রে। আহমেদ সাবেত চরিত্রে আছেন ইরেশ যাকের। রানুর কৈশোরের চরিত্রে অভিনয় করেছে লাবণ্য। কে কেমন করলো তা দেখার জন্য সপ্তাহখানেক অপেক্ষা করতে হবে মাত্র।

‘দেবী’ সফল হলো কি হলো না তার জন্য বেশ কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। একটি চমৎকার ছবিকে সফল করার দায়িত্ব শুধু নির্মাতা বা সংশ্লিষ্টদের নয়। দর্শকেরও দায়বদ্ধতা থাকে, যাতে করে এমন ছবি বারবার নির্মাণ করার সাহস পেতে পারে চলচ্চিত্র নির্মাতারা।

যদি ‘দেবী’ সাফল্য পায়, তবে নির্মিত হতে পারে ‘নিশিথীনি’; শুরু হতে পারে আমাদের মিসির আলি সিরিজ। যারা হুমায়ূন আহমেদের ভক্ত, যারা সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্রের ভক্ত, যারা বাংলা চলচ্চিত্রের উন্নয়নের স্বপ্ন দেখছেন, তারা নিশ্চয়ই এ সুযোগ হেলায় নষ্ট করবেন না। এক সপ্তাহ পর ‘দেবী’র দায়িত্ব আমাদের, সফলতা এলে তা আসবে আমাদের হাত ধরেই।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।