অল ফিমেল পেট্রল ‘রাফতার’: ধর্ষণ নগরীর ত্রাণকর্তা

মাসখানেক আগের কথা। দিল্লী শহরের এক অন্ধকার গলির। রাত হয়েছে, ল্যাম্পপোস্ট গুলো নিভু নিভু করে জ্বলছে। এক তরুণীকে অনুসরণ করে হাঁটছেন একদল যুবক। উদ্দেশ্য সুবিধার না। হঠাৎই মোটরবাইকে তাঁদের পথ আটকে দাঁড়ালেন একদল নারী পুলিশ অফিসার।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁদের পাঠানো হল নিকটবর্তী থানায়। মেয়েটিকে বাইকে করে বাসায় পৌঁছে দিয়ে গেলেন আরেকজন। এই বিশেষ ইউনিটটির নাম নাম হল ‘রাফতার। বঙ্গানুবাদ করলে এর অর্থ দাঁড়ায় গতি। গতি দিয়ে তাঁরা হয়ে উঠেছেন ধর্ষণ নগরী দিল্লীর ত্রাণকর্তা।

নয়া দিল্লী – ভারতের রাজধানী। শহরটির আরেক নাম হল ভারতের ‘ধর্ষণ রাজধানী’। অফিসিয়াল হিসাব বলছে, ২০১৬ সালে এই শহরে ধর্ষণ হয়েছে ২১৫০ টি। পরিসংখ্যানে এটা ২০১২ সালের পর থেকে ৬৭ শতাংশ বেশি।

এই অন্যায় রুখতে অনন্য এক উদ্যোগ নিয়েছে দিল্লীর পুলিশ। গঠন করেছে ‘রাফতান নামের বিশেষ এই ইউনিট। এই দলে আছেন ৪০ জন নারী পুলিশ সদস্য। প্রত্যেকের সাথে আছে একটি করে মোটরবাইক। সাথে দেওয়া হয়েছে বিশেষ এক ধরণের ওয়ারলেস মোবাইল, এতে করে যেকোনো সময় কোনো অপরাধের খবর যেমন জানা যায়, তেমনি অপরাধী ও ভিকটিমকেও ট্র্যাক করা যায়।

গেল মার্চ থেকে এই ইউনিট নিজেদের মিশন শুরু করেছে। আর তাঁদের মিশনের সুবাদে অবিস্মরণীয় ভাবে বদলে যেতে শুরু করেছে দিল্লীর দৃশ্যপট। হিসাব বলেছে, এই সময়ের মধ্যে ধর্ষণের হার কমেছে শতকরা ৩০ ভাগ।

অফিসিয়াল হিসাব বলছে ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি অবধি ধর্ষণ ইস্যুতে দিল্লীতে মোট মামলা হয়েছে ২৩৩ টি। তবে, ‘রাফতার’ ইউনিট মার্চ মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে মামলা কমে ১৬৩ টি-তে নেমে এসেছে।

দিল্লী পুলিশের প্রধানের সাফ নির্দেশ ছিল, এই ইউনিট দায়িত্ব পালন করবে ২৪ ঘণ্টা। টহল দেবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, শপিং মল, পার্ক ও রেলওয়ে স্টেশনে। রাখবে নিজেদের কড়া নজরদারী। শুধু ধর্ষণ ঠেকানোই নয়, সব রকম যৌন হয়রানি, ইভ টিজিংও এর আওতায় পরবে। আর নিজেদের দায়িত্ব বেশ নিষ্ঠার সাথেই পালন করে চলেছে ‘অল ফিমেল পেট্রোল’ খ্যাত রাফতার।

দলটির সার্বক্ষণিক দায়িত্বে আছেন পুলিশের অ্যাডিশনাল ডেপুটি কমিশনার বিজয়ন্তা আরিয়া। তিনি বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ মেয়েদের দিকে আমরা নজর রাখি। যারা তাঁদের উত্যক্ত করে, ওদের ওপর আরো বেশি নজর থাকে। আমরা মেয়েদের উদ্ধার করি, প্রয়োজনে বাড়ি পৌঁছে দেই। এই কাজের জন্য আমরা তরুণ আর এনার্জেটিক নারী পুলিশ সদস্যদের বেছে নিয়েছি। ইউনিট গঠন করার আগে তাদের প্রত্যেককেই বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আর নারীদেরই শুধু এই ইউনিটে নেওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হল, এতে করে ভিকটিমরা কমফোর্টেবল ফিল করবে। শুধু নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই নয়, যেকোনো ধরণের অপরাধ দমনে আমরা সর্বদা প্রস্তুত।’

– বিয়িং ইন্ডিয়ান, দ্য টেলিগ্রাফ, ইন্ডিয়া টুডে ও ইওর স্টোরি অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।