স্মরণীয় রবে এ লড়াই

আরেকটি পরাজয় যোগ হল বাংলাদেশের টেস্ট পরিসংখ্যানে। আরেকটি ইনিংস ব্যবধানে হারে। তিন বিভাগে নিজেদের সামর্থ্যের চূড়ান্ত প্রয়োগ ঘটিয়ে সফরকারী দলটাকে ছিড়েফুঁড়ে ফেললো নিউজিল্যান্ড।

এই টেস্ট নিয়ে তাই আশাবাদী হওয়ার কিছু নেই। পরাজয়ের ব্যবধানটা ইনিংস ও ৫২ রানের। শর্ট বলে ব্যাটসম্যানদের দুর্বলতা, বিরুদ্ধ কন্ডিশনে অস্ত্রের অভাবে বোলারদের লাইন লেন্থ হারিয়ে ফেলা – কোনো কিছুতেই আশাবাদী হওয়ার মত রসদ খুঁজে পাওয়া মুশকিল।

চতুর্থ দিন সকালেও বাংলাদেশের কোনো আশা ছিল না। ঠিক আগের তিনটা দিনের মতই। সৌম্য সরকার ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ যখন ব্যাট করতে নামেন, তখন লক্ষ্য ছিল একটাই – যতক্ষণ পারো ব্যাট করে যাও।

সেটা করতে গিয়ে এই ডান হাতি ও বাঁ-হাতি কম্বিনেশন স্বরণীয় এক লড়াই-ই ‍ উপহার দিয়েছেন। পঞ্চম উইকেট জুটিতে তাঁরা যোগ করেছেন ২৩৫ রান।  পঞ্চম ‍উইকেট জুটিতে এটা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি।

সৌম্য সরকার তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংসটা খেলেছেন। প্রথম সেঞ্চুরি পাওয়ার পথে পাঁচটি ছক্কা ও ২১ টি চার হাঁকিয়েছেন। ট্রেন্ট বোল্টের বলে বোল্ড হওয়ার আগে করেছেন ১৪৯ রান। এই চাপ ও বিপর্যয়ের মাঝে দাঁড়িয়েও যে এতটা আগ্রাসনের সাথে খেলা সম্ভব সেটা সৌম্য বুঝিয়ে দিয়ে গেছেন।

সেঞ্চুরি পেয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। ২০১০ সালে এই নিউজিল্যান্ডের মাটিতেই প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করেছিলেন। এরপর ২০১৮ পর্যন্ত টেস্টে আর সেঞ্চুরিরই দেখা নেই। টেস্ট ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে জায়গা নিয়ে প্রশ্নও উঠে গিয়েছিল। আর সেই সংশয়টা যথেষ্ট যৌক্তিকই ছিল।

সেখান থেকে বদলে যাওয়া শুরু করলো রিয়াদের ব্যাট। গত টানা তিন সিরিজে তিন সেঞ্চুরি! বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টানা তিন সিরিজে সেঞ্চুরি করলেন মাহমুদউল্লাহ! হ্যামিল্টনের মাটিতে এবারের ইনিংসটা রিয়াদের ক্যারিয়ারেরই অন্যতম সেরা ইনিংসগুলোর একটি। ২১ টি চার ও তিনটি ছক্কার সৌজন্যে তিনি করেছেন ১৪৬ রান।

দু’জনের এই দেড়শ ছুঁইছুঁই দু’টি ইনিংসের পর আসলে ইনিংস হারটা না এড়ানোর কোনো যৌক্তিক কারণ থাকে না।  সেটা হয়নি কারণ এরপরের দুই ব্যাটসম্যান লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ দু’জনেরই ব্যাট থেকে এক-এর বেশি রান আসেনি।

আসলে ভেঙে বললে বলতে হয় বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র চারজন ব্যাটসম্যান দুই অংকের ঘরে পৌঁছাতে পেরেছেন। দুই সেঞ্চুরিয়ান বাদে বাকি দু’জন হলেন দুই ওপেনার – তামিম ইকবাল (৭৪) ও সাদমান ইসলাম (৩৭)। এরপরও যে স্কোরটা ৪২৯ রানে গিয়ে থামলো তাই তো বেশি!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।