দীপিকা-রণবীর: বক্স অফিসের পাওয়ার হাউজ

একটা লাভজনক ব্যবসায় যতটা বিনিয়োগ করতে হয়, সত্যিকারের ভালবাসার সম্পর্কে বিনিয়োগের পরিমান তার থেকেও বেশি হতে হয়। এই বিনিয়োগটা অর্থ বা কোনো বৈষয়িক বিনিয়োগ নয়। এই বিনিয়োগটা হল অঙ্গিকার ও প্রতিশ্রুতির বিনিয়োগ, ভরসার বিনিয়োগ। আর সেটা কেবল মুখের ফাঁকা বুলি নয়, কাজ নিয়ে প্রমাণও করতে হয়।

এমন একটা জুটি হল দীপিকা পাড়ুকোন ও রণবীর কাপুরের। আজকালকার যুগে যেখানে পেজ থ্রি-তে যেখানে তারকাদের বিচ্ছেদ নিয়ে রমরমা খবর ছাপানো হয় সেখানে দীপিকা-রণবীর ব্যতিক্রম। কারণ, তারা একে ওপরকে এতটাই ‘পরিপূর্ণ’ করে তুলছেন যে, মিডিয়া তাদের বিবাদ বিষয়ক গালগল্প লেখারও ফুরসৎ পাচ্ছে না।

দু’জনের সম্পর্কের কথা উঠলে ধন্যবাদ দিতে হয় সঞ্জয় লীলা বনসালীকে। কারণ এই স্বনামধন্য নির্মাতাই প্রথমবারের মত এক সাথে জুটিবদ্ধ করেন দীপিকা ও রণবীরকে।  ২০১৩ সালের নভেম্বরে মুক্তি পাওয়া ছবিটি হল ‘গোলিও কি রাসলীলা রাম-লীলা’। এটা ছিল উইলিয়াম শেকসপিয়ারের ‘রোমিও জুলিয়েট’-এর ছায়া অবলম্বনে নির্মিত।

এই ছবির সেটেই বাস্তবের রোমিও-জুলিয়েট হয়ে উঠেছিলেন দু’জন।  দু’জন ছিলেন ভিন্ন দু’টি সামাজিক প্রেক্ষাপট থেকে উঠে আসা মানুষ। দু’জনেরই অতীতের কিছু গল্প ছিল। কিন্তু, একে ওপরের বাস্তবতা, অতীত ও বর্তমান – সব মেনে নিয়েই এক হয়েছিলেন দু’জন। এটাই পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের সবচেয়ে বড় নজীর।

ছয় বছর প্রেম করেছেন। লুকোছাপার চেষ্টা করেছেন সামান্যই। তারা বিশ্বাস করেন – ‘লোকে তো কিছু কথা বলবেই, তাদের কাজই তো বলা।’ আর এই প্রেমের সফল পরিণতি হয়েছে বিয়ের মাধ্যমে। রূপকথার মত একটা বিয়ের উৎসবে মুখরিত হয়েছিল বলিউড।

তারা একে ওপরের প্রতি নিজেদের বিশ্বাসের জায়গাটাকে একটা শক্তিশালী পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। এটা এখন এমন একটা বন্ধনে পরিণত হয়েছে যেটা করে তারা এখন ব্যক্তিগত ও পেশাগত – দুই জীবনেই সফল। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে তারা জনপ্রিয় জুটি। আর দু’জন আলাদা আলাদা ভাবেও সফল ও জনপ্রিয়।

দু’জনকে বক্স অফিসের পাওয়ার হাউজ বললেও তাই বাড়তি বলা হবে না। দীপিকার শেষ ১০ টা ছবির মধ্যে আটটাই ব্যবসায়িকভাবে সফল। তিনটা আবার ব্লকবাস্টার। অন্যদিকে রণবীর তো বক্স অফিসের নতুন রাজা। যা করছেন তাই ব্যবসাসফল। তাঁর শেষ পাঁচটা ছবি বক্স অফিস থেকে ৯০০ কোটি রুপি নিয়ে ফিরেছে।

তারা জানেন কিভাবে এক সাথে থেকে একটা বন্ধন গড়ে তুলতে হয়, আবার এটাও জানেন কিছু কিছু ক্ষেত্রে কিভাবে একজন আরেকজনকে ছাড় দিতে হয়। তাদের রসায়নটাই এমন যে আপনি তাতে মুগ্ধ না হয়ে পারবেন না!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।