লাক্সের মোড়কে, বিলবোর্ড সড়কে কিংবা পর্দার ঝলকে

গোলাপী শাড়িতে লাল গালিচা ধড়ে হেটে আসা ‘শান্তি প্রিয়া’র মুখশ্রীতে অ্যাসিডের তীব্র যন্ত্রণার ছাপ যখন দেখেছি, তখন সে লক্ষ্মী আগারওয়াল। রামের প্রেমে লীলা যখন মৃত্যু বেছে নেয়, তখন মনেহয় প্রতিটি বাজিরাও নিজের এই ‘মাস্তানি’র অপেক্ষায় আমৃত্যু বেচে থাকতে চায়।

সেই তিনিই ‘রাণী পদ্মাবতী’। আবার তিনিই বাড়ি থেকে দূর, মানালির বরফের পাহাড়ে নিজেকে খুঁজে পাওয়া ‘ন্যায়না তালওয়ার’। কিংবা কর্সিকার সৌন্দর্যে অচেনা কারো কাছে আসা ‘তারা মাহেশওয়ারী’। একে একে মিরা পান্ডিত, পিকু, মিনাম্মাদের খোলস বদলানোর সময়টা দেড় দশকের বেশি। লাক্সের মোড়কে, বা বিলবোর্ডের সড়কে, যে মেয়েটির রূপ দৃষ্টি কেড়ে নেয়, তিনিই ‘দীপিকা পাড়ুকোন’।

দূরত্ব এই মেয়েটিকে কখনো আটকে রাখেনি, সিনেমায় যেমন মানালি, কর্সিকা ছুটে গিয়েছে তেমনি বাস্তবেও জন্মস্থান ডেনমার্কের কোপেনহেগেন শহর ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছিলো ব্যাঙ্গালুরু তে। ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় প্রকাশ পাডুকোন চাইতেন, মেয়েও এই খেলায় পারদর্শী হোক। আর সেই পারদর্শীতা ন্যাশনাল লেভেলের চ্যাম্পিয়নশীপ পর্যন্তও নিয়ে গিয়েছে। তারপরই ফ্যাশন মডেল হবার ঝোঁক বিদায় জানায় ব্যাডমিন্টনকে।

মডেল হবার ঝোঁকটা কাজে লাগে ২০০৬ এর কান্নাড়া সিনেমা ‘ঐশ্বরিয়া’তে। তারপর ২০০৭ এই সেই টোল পড়া হাসির মায়াবী মুখ সকলে চিনে ফেলে ‘ওম শান্তি ওম’ সিনেমায়। বলিউড বাদশাহর বিপরীতে দুর্দান্তভাবে বলিউড অভিষেক ফিল্মফেয়ারের নবাগতা ব্ল্যাক লেডিও এনেছে, সাথে গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডে রাজত্ব করার আভাস।

সিনেমার হিসাব নিকাশ চলমান। বলিউডের অন্যতম সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া এই অভিনেত্রী হলিউডের জানালায় উঁকি দিয়েছেন, হিন্দি সিনেমায় তারখাখ্যাতি লাভ করেছেনও কম সময়ে। বিশ্বের গুটিকয়েক ক্ষেত্রে শীর্ষ শতকে জায়গাও পেয়েছেন, নিজেকে প্রমাণ করেছেন বিশ্বের সবচেয়ে আবেদনময়ী নারীদেরও একজন হিসেবেও। শুভেচ্ছাদূত হিসেবে যুক্ত আছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে।

জুটি গড়েছেন শাহরুখ, রনবীর কাপুর কিংবা রণবীর  সিংদের সাথে সফলভাবেই। সিনেমার গল্প, চরিত্র সবুজ সংকেত পেয়ে গেলেও, অতীত ব্যক্তিজীবন ও বর্তমান ফ্যাশনসেন্স নিয়ে সমালোচনার কেন্দ্রের বিন্দুতে দীপিকা পাড়ুকোন নামটা অনেক চেনা। ক্রিকেটার মহেন্দ্র সিং ধোনি, যুবরাজ সিং, বিজয় মালিয়ার ছেলে সিদ্ধার্থ মালিয়া, উপেন পাটেল, নিহার পান্ডিয়াদের সাথে দীপিকার নামটা আজও পত্রিকার পাতা উল্টালেই দেখতে পাবার কথা।

তবে, রনবীর কাপুরের নামটা তখন ঘাড়ের ট্যাটুতেই ভালোবাসার প্রতিক হিসেবে স্পষ্ট ছিলো বেশি। যা মুছে যাবার পরপরই জীবনের কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয় দীপিকা পাড়ুকোন। তখনই অনেকটা ছায়ার বেশে পাশে দাঁড়ায় যে মানুষটি, তিনিই এখন জীবন সঙ্গীর আসনে। ঠিক তখনও শুটিং সেটে তাঁকে এক ঝলক দেখার জন্য উপস্থিত হতো রনবীর সিং, আজও হয়।

ভয়াবহ ‘ডিপ্রেশন’ এর কবল থেকে নিজেকে মুক্ত করে স্বাভাবিক হতে সময় লেগেছিলো দীপিকার। সমাজের সেই ভেঙে পড়া মানুষগুলোর জন্যও কাজ করছেন। সরব কন্ঠে বলে যাচ্ছেন ‘ভেঙে পড়া মানেই জীবনের সমাপ্তি নয়’।

কেন জানি শান্তিপ্রিয়ার সেই মায়াকাড়া মুখের চাহনিটা এখন আর খুঁজে পাইনা। শাড়ীর আঁচলটা কারো হাতে আটকে যাওয়া টের পাবার পর সেই টোল পড়া গালের অবাক মিশ্রিত হাসিটা হয়তো হারিয়ে গিয়েছে। তবুও মন মেনে নেয় রূপের মুগ্ধতায় আর অভিনয়ের সমৃদ্ধতায় আজও, দীপিকা কিন্তু একজনই।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।