সবচেয়ে হিট, সবচেয়ে ফ্লপ

১৯৬০ সালের কথা। অর্জুন হিঙ্গোরানি যখন প্রথম ধর্মেন্দ্রকে ‘দিল ভি তেরা হাম ভি তেরে’ সিনেমাকে প্রথম ব্রেক দিলেন, তখনও বোঝা যাচ্ছিল না যে এই সুদর্শন চেহারার নায়কটিই কালক্রমে ৫০ টিরও বেশি হিট সিনেমা উপহার দেবেন, হয়ে উঠবেন বলিউডের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সুপারস্টার।

এই ভদ্রলোক তাঁর ক্যারিয়ারে সবই দেখেছেন। ২০ বছর যেমন দেখেছেন নিজের চারপাশে লেখক ও প্রযোজকদের ঘোরাফেরা করছে, আবার বাধ্য হয়ে পরিবার চালানোর জন্য নিচু মানের সিনেমাও সাইন করেছেন। ২০০ টির ওপর সিনেমায় অভিনয় করে, ব্যবসাসফল ৯৩ টি ছবি উপহার দিয়েছেন তিনি।

এর মধ্যে ৪৯ টিই হিট। পরিসংখ্যানে আর কোনো বলিউড অভিনেতাই ধর্মেন্দ্রকে ছাড়িয়ে যেতে পারেননি। ধর্মেন্দ্রর প্রথম হিট সিনেমা ছিল ১৯৬২ সালের ‘আনপাড়’। আর এই চিরসবুজ সুপারস্টারের সর্বশেষ হিট ছবি ছিল ২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ইয়ামলা পাগলা দিওয়ানা’। চলতি বছরে তাঁর ‘ইয়ামলা পাগলা দিওয়ানা ফির সে’ ছবিটি মুক্তি পেয়েছে। এটা যদি হিট হত তাহলে প্রথম অভিনেতা হিসেবে ৫০ টি হিট ছবির মালিক বনে যেতেন এই কিংবদন্তি। যদিও, সেটা হয়নি। ফলে, বাড়লো ধর্মেন্দ্র’র অপেক্ষা।

ক্যারিয়ারের চূড়ায় তিনি ছিলেন ২৫ বছর। এই সময়ে প্রযোজক, চিত্রনাট্যকাররা তার বাড়ির সামনে লাইন ধরে থাকতেন। ১৯৮৬ সাল অবধি তিনি বড় বাজেটের ছবি করেন। এমনকি ক্যারিয়ারের স্বর্ণযুগে ধর্মেন্দ্রর পাঁচটি ছবি বছরে সবচেয়ে বেশি আয় করা সিনেমার মর্যাদা পায়। এর মধ্যে আছে ফুল ওউর পাত্থার, আঁখে, হুকুমাত, শোলে ও সিতা ওউর গিতা।

খুব কম লোকই জানেন যে শোলে ছবিতে অমিতাভ বচ্চনের চেয়ে বেশি পারিশ্রমিক নিয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র। যারা জানেন, তাঁদের অধিকাংশই মানতে চান না। সত্যি কথা হল, এই সিনেমাটির প্রচারণার সময় একে ধর্মেন্দ্রর ছবি বলে চালানো হচ্ছিল। কারণ, ওই সময়ে অমিতাভের চেয়ে ধর্মেন্দ্রর জনপ্রিয়তা ছিল অনেক বেশি। এরপর দীর্ঘদিন একটু একটু করে বেচেছেন বচ্চনের জনপ্রিয়তা। আর তাই এখন আমরা শোলে বলতে দু’জনকেই বুঝি।

বলিউডে টানা ধারাবাহিক সাফল্য বোঝাতে অনেক সময়ই রাজেশ খান্নার উদাহরণ দেওয়া হয়। সত্যিই একটা সময়ে রাজেশ খান্না বলতেই ছিল  একচেটিয়ে সাফল্য। তবে, বানিজ্যিক ভাবে বিবেচনা করলে ধর্মেন্দ্রর সাফল্য এর চেয়ে অনেক বেশি। আর রাজেশ খান্নার এই ধারাবাহিকতা ছিল স্বল্প সময়ের জন্য, সে তুলনায় ধর্মেন্দ্র অনেকদিনের জন্য নিজেরে সাফল্য ধরে রেখেছিলেন, সময়টা ছিল বেশি, সিনেমার সংখ্যাও ছিল বেশি।

রাজেশ খান্না ছয় বছর ধরে যেটা করেছেন সেটা সত্যি অবিশ্বাস্য। আর ধর্মেন্দ্র একই কাজটা করেছে ২৫ বছর ধরে। ভাবা যায়!

ক্যারিয়ারের দ্বিতীয়ার্ধে এসে ধর্মেন্দ্র তাঁর সুদিন হারান। তিনি দ্বিতীয় সারির ছবিতে কাজ করা শুরু করেন, এর অধিকাংশই বক্স অফিসে কোনো দিশা খুঁজে পায়নি। ফাঁক গলে কোনো কোনোটা অবশ্য বক্স অফিসে টুকটাক সাফল্যও পেয়েছে। এর মধ্যে পাপ্পি দেবতা, জুয়ারি, মহা শক্তিশালী, হাম সাব চোর হ্যায়, ধর্ম কর্ম, ভিরু দাদা, প্যায়ার কা কার্য, ডাকু ভৈরব সিং – ইত্যাদি ছবিগুলো ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁকে টিকিয়ে রাখে।

ধর্মেন্দ্র বলিউডের দু’টি ইউনিক রেকর্ডের মালিক -১. সবচেয়ে বেশি হিট দেওয়া সুপারস্টার ও ২. সবচেয়ে বেশি ফ্লপ দেওয়া সুপারস্টার। হিট না ফ্লপ, কোনটার জন্য দর্শক-ভক্ততা ধর্মেন্দ্রকে মনে রাখবেন, সেই সিদ্ধান্তটা তাঁদের ওপরই না হয় ছেড়ে দেওয়া যাক!

– কইমই অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।