তিনি জয়া, সর্বজয়ী জয়া

নাটকে তিনি আঙুরলতা, চলচ্চিত্রে তিনি দেবী সরোজিনী। পদ্মায় নিজেকে বিসর্জন দিয়ে ছড়িয়ে পড়েছেন সর্বমহলে। এই মুহুর্তে চলচ্চিত্রের সেরা অভিনেত্রী, যার নামেই প্রকাশ পায় তাঁর প্রতিভার ঝলকানি, তিনি সর্বজয়া। নাম তাহার জয়া আহসান।

টিভি পর্দায় স্বপ্নসিঁড়ি, এনেছি সূর্যের হাসি, অফবিট করার পর নাট্যজগতে আলোচিত হতে থাকে জয়ার নাম। এরপর শুরু হয় টিভি নাটকে ব্যস্ততা। কাজ করতে থাকেন হাটকুঁড়া, ৬৯, গরম ভাত অথবা নিছক ভূতের গল্প, নির্জন স্বাক্ষর, শঙ্খবাস থেকে তারপর ও আঙুরলতা নন্দকে ভালোবাসে, পাঞ্জাবিওয়ালা, চৈতা পাগল, আমাদের গল্প। হয়ে উঠেন টেলিভিশন জগতের শীর্ষ অভিনেত্রী।

নাটকের জয়যাত্রার পর চলচ্চিত্রেও সফল একটি নাম এই জয়া আহসান। মুস্তফা সরোয়ার ফারুকীর ‘ব্যাচেলর’-এ স্বল্প উপস্থিতি দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক। এরপর ২০১০ সালে নুরুল আলম আতিকের চলচ্চিত্র ‘ডুবসাঁতার’-এ প্রধান চরিত্রে প্রথম অভিনয়। প্রথম ছবিতেই বেশ প্রশংসিত।

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সেরা নারী চরিত্রগুলোর নাম বলতে গেলে নি:সন্দেহে মুক্তি সংগ্রামী ‘বিলকিছ’ চরিত্রটি উঠে আসবে। আর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘গেরিলা’য় এই চরিত্রেই নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন জয়া। সর্বমহলে প্রশংসিত হবার পর শুরু হয় নতুন অধ্যায়।

নাট্যজগত থেকে বিদায় জানিয়ে নিয়মিত হন চলচ্চিত্রে। কাজ করেন চোরাবালি, ফিরে এসো বেহুলা, জিরো ডিগ্রী, খাঁচার মত প্রশংসিত চলচ্চিত্রে। এর বাদেও কাজ করেছেন বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র পূর্নদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনীর সিরিজে। যদিও এতে তাঁর ভক্তরা হতাশ হয়েছেন। হাতে রয়েছে বিউটি সার্কাস, পেয়ারার সুবাসের মত অপেক্ষমান ছবি। এতে বুঝাই যাচ্ছে তিনি বাংলা চলচ্চিত্রে নিজেকে আরো উচ্চপর্যায়ে নিয়ে যাবেন।

আমাদের অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে যারা দেশের বাইরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তাঁদের মধ্যে নির্দ্ধিয়ায় নাম থাকবে জয়ার নাম। অরিন্দম শীলের ‘আবর্ত’ দিয়ে ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্রে অভিষেক। এই ছবি দিয়ে লাল গালিচায় হাঁটেন কান চলচ্চিত্র উৎসবে। এরপর একটি বাঙালি ভূতের গপ্পো, রাজ কাহিনী, ঈগলের চোখের পর ‘বিসর্জন’ দিয়ে মাত করেছেন ওপার বাংলা। তিনি সর্বশেষ কাজ করেছেন ‘এক যে ছিল রাজা’র মত সিনেমাও। হাতে রয়েছে বিজয়া, কন্ঠ সহ বেশকিছু উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র।এখন পর্যন্ত পেয়েছেন তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

তবে এই মুহুর্তে তিনি সবচেয়ে বেশি আলোচিত আছেন মুক্তি প্রতিক্ষীত ‘দেবী’ সিনেমা নিয়ে। কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের রহস্য উপন্যাস ‘দেবী’ অবলম্বনে সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে। হুমায়ূন আহমেদের অন্যতম আলোচিত উপন্যাস, এর মাধ্যমেই সাহিত্য জগতে আবির্ভাব ঘটেছিল মিসির আলীর।

বাংলা চলচ্চিত্রে প্রথমবারের মত মিসির আলীকে দর্শকরা দেখতে পারবেন, এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী। তবে মূলত যাকে ঘিরে এই উপন্যাসের গল্প,সেই চরিত্রটি হচ্ছে রানু। উপন্যাস পড়ার সময় সবাই রানু চরিত্রে মুগ্ধ হয়েছেন, অনেক অভিনেত্রীর ইচ্ছা থাকবে রানু চরিত্রে অভিনয় করার।

আর ইচ্ছাটাই পর্দায় তুলে ধরেছেন জয়া আহসান। সরকারী অনুদানের পাশাপাশি সিনেমাটি তিনি নিজে প্রযোজনা করেছেন। এখন পর্যন্ত টিজার, গান বা ট্রেইলারে দেখা গেছে রানু চরিত্রে নিজেকে বেশ মানিয়ে নিয়েছেন জয়া আহসান।

অনম বিশ্বাসের পরিচালনায় আগামী ১৯ অক্টোবর মুক্তি পেতে যাচ্ছে এই বহুল অপেক্ষমান সিনেমা ‘দেবী’। প্রত্যাশা রইলো দর্শকদের কাছে এই ছবিটি হবে মনোমুগ্ধকর। আর দেবী সফল হলেই ভবিষ্যতে আমরা আরো মিসির আলী সিরিজ পাবো। ‘দেবী’র জয়া আহসানের জন্য শুভকামনা।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।