বোঝো নাই ব্যাপারটা? ব্যাপারটা বোঝা দরকার!

‘জীবনের খেলাগুলো জটিল অংকের মত। কখনো সমাধান হয়, কখনো সমাধান হয়েও হয় না।’

মাথায় কাঁচাপাকা চুল, মুখে কাঁচাপাকা খোঁচা-খোঁচা দাড়ি, গোঁফ। ভদ্রলোক একটু কুঁজো হয়ে হাঁটেন, মানুষ চোখ মেলে জগত দেখে, তিনি চোখ বুঁজে দেখেন। আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত ঘটতে থাকা রহস্যের সমাধান যুক্তির সহায়তায় দেয়ার চেষ্টা করে যান। তিনি সিগারেট খেতে খেতে রহস্যের জট খোলেন, সাথে থাকে নানান বই। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের শিক্ষক। তার এবারের ক্লায়েন্ট রানু নামের অসম্ভব রূপবতী একটি মেয়ে। রানুর মাঝে তিনি খুঁজে পেয়েছেন অদ্ভূত ক্ষমতা।

‘মেয়েটির অডিটরি হ্যালুসিনেশন হয়।’ রানুর এ ক্ষমতার কেতাবি নাম অডিটরি হ্যালুসিনেশন। ‘হিউম্যান ব্রেইন খুবই অদ্ভূত, সে অনেক সময় নিজের মতো করে রিয়েলিটি বানায়।’

মিসির আলি বইয়ের পর বই পড়তে থাকেন, ক্লাসরুমে একাকি বসে ভাবেন। বাসার বারান্দায় রাতের শহুরে নিস্তব্ধতায় সিগারেট খেতে খেতে ভাবনার রাজ্যে হারিয়ে যান, রহস্যের সমাধানে তিনি বেরিয়ে পড়েন জনৈক জালালুদ্দীনের সন্ধানে।

‘ব্যাপারটা বোঝা দরকার।’

মিসির আলি, তিনিই মিসির আলি। গত ১৯ জুলাই প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ষষ্ঠ প্রয়াণ দিবসে তাঁর অমর সৃষ্টি মিসির আলি হাজির হয়েছেন অনলাইনে। এতদিন পর যেন নতুনকিছুর স্বাদ পেল হুমায়ূনের পাঠকসমাজ। জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসানের প্রথম প্রযোজনা ‘দেবী’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে হাজির হচ্ছেন যুক্তিবাদী চরিত্র মিসির আলি।

এ চরিত্রে রূপদান করেছেন মনপুরা, আয়নাবাজি দিয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতে নেওয়া অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। ছবিটি পরিচালনা করেছেন অনম বিশ্বাস, যিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন চিত্রনাট্যের জন্য, আয়নাবাজি চলচ্চিত্রে। প্রথমবার কোন চলচ্চিত্রের টিজারে দেখা মিলল মিসির আলি চরিত্রের।

চঞ্চল চৌধুরীকে মিসির আলি চরিত্রে কেমন লাগবে তা নিয়ে অনেকের সন্দেহ ছিল। মনের কোণে প্রশ্নবোধক চিহ্ণ উঁকি দিয়েছে। চঞ্চল বলা যায় সকল প্রশ্নকে সিগারেটের ধ‌োঁয়ার সঙ্গেই উড়িয়ে দিয়েছেন। ভরাট গলায় সংলাপ বলেছেন, অভিনয় করেছেন গল্পের মিসির আলির মতোই। অন্তত টিজারে তার আভাস মিলেছে। সিনেমা দেখে হয়তো বিশ্বাসটি পাকাপোক্ত হবে, মিসির আলি চরিত্রটি চঞ্চল ছাড়া কেউই ফুটিয়ে তুলতে পারতো না।

কেমন হলো মিসির আলিকে নিয়ে টিজার? এরপূর্বে রানুকে নিয়ে টিজার এসেছিল। সেটি একটি রহস্যের ইঙ্গিত দিয়েছিল। দ্বিতীয় টিজারে রহস্য আরো ঘনীভূত হলো।

‘দেবী’ চলচ্চিত্রটি নিয়ে দর্শকের মাঝে অসীম আগ্রহ দীর্ঘদিন। সে আগ্রহ আরো বেড়ে গেছে এটা বলতেই হয় টিজার দেখার পর। আবহ সঙ্গীত, সিনেমাটোগ্রাফি, রূপসজ্জা, সংলাপ ও অভিনয় ছিল যেমনটি দরকার তেমনটি। পুরো টিজারজুড়ে ছিল চঞ্চলের দূর্দান্ত অভিনয়ের ঝলক। ঢাকা শহরের চেনা হাতিরঝিলকে এত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা যায় তা হয়তো টিজারটি না দেখলে বোঝা যেত না।

রাতের আঁধারে ছুটে চলা ট্রেন, বারান্দায় বসে মিসির আলির ধূমপান করতে করতে ভাবা, একাকী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডরে হেঁটে চলা – সবই জানান দেয় কত দৃষ্টিনন্দন হতে যাচ্ছে ‘দেবী’। চঞ্চল চৌধুরীর ‘মিসির আলি’ চরিত্রের এক ঝলক দেখে মনে হচ্ছিল নাটকে তার প্রতিভার অপচয় করা হচ্ছে দেদারসে। একজন হুমায়ূন আহমেদের পাঠক হিসাবে বলতেই হয় চঞ্চল চৌধুরী ফাটিয়ে দিয়েছেন টিজারে। পুরো চলচ্চিত্র নিয়ে প্রত্যাশা আরো বেড়ে গেল।

মিসির আলিকে ইতোপূর্বে ছোটপর্দায় একাধিকবার দেখা গিয়েছিল, বড়পর্দায় তাকে নিয়ে আসেনি কেউ। জয়া আহসান সে চেষ্টাটা করলেন, সম্ভবত তিনি চঞ্চল চৌধুরীকে দিয়ে আমাদের চলচ্চিত্র দেখার স্বাদই পাল্টে দেবেন “দেবী” চলচ্চিত্রটি দিয়ে।

জয়ার প্রযোজনায়, অনম বিশ্বাসের পরিচালনায়, চঞ্চল চৌধুরীর অভিনয়ে আমরা দেখব নতুন যুগের মিসির আলিকে। বড়পর্দায়, ‘দেবী’র সঙ্গে। তিনিই খুব সম্ভবত হতে যাচ্ছেন মিসির আলি চরিত্রের মানানসই রূপায়ন, অন্তত মিসির আলির এক ঝলকে তারই আভাস মিললো।

‘আয়নাবাজি’ চলচ্চিত্রে চঞ্চল চৌধুরী বলেছিলেন, ‘বোঝো নাই ব্যাপারটা?’ ‘দেবী’ চলচ্চিত্রে তিনি বললেন, ‘ব্যাপারটা বোঝা দরকার।’ আসুন দর্শক, ব্যাপারটা বুঝার জন্য আর কটা দিন অপেক্ষা করি। ‘দেবী’ আসছে সেপ্টেম্বর মাসেই।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।