বলিউডের হিট মেশিন

বানিজ্যিক ছবির নির্মাতাদের অনেক সময়ই মিডিয়া তাঁদের প্রাপ্য সম্মান দিতে চায় না। সেটা যেমন ৭০-৮০’র দশকের পরিচালক মনমোহন দেসাইয়ের ক্ষেত্রে সত্যি, তেমনি সত্যি একালের ডেভিড ধাওয়ানের জন্যও।

সাদা চোখে দেখলে ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ধাওয়ানের সাফল্যের কোনো কমতি নেই। সমালোচকরা বরাবরই লজিকলেস সিনেমা বানানোর ‘দায়ে’ তাঁকে ছোট করেছেন। যদিও, বক্স অফিস তাঁকে হাত ভরেই সাফল্য দিয়েছে।

২৯ বছরের লম্বা ক্যারিয়ারে ৪৩ টি সিনেমা পরিচালনা করেছেন ধাওয়ান। এর মধ্যে ১৯ টাই হিট। এই সাফল্যকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।  শিগগিরই হয়তো তিনি ২০ টি হিট ছবি নির্মান করা প্রথম পরিচালক হয়ে যাবেন।

  • গোবিন্দ যুগ

ধাওয়ানের প্রথম তিনটা ছবি ‘তাকাতাওয়ার’, ‘গোলা বারুদ’ ও ‘আগ কি গোলা’ বলিউডে ব্যর্থ হয়। প্রথম হিট সিনেমা আসে ১৯৯০ সালে। ‘স্বর্গ’ নামের সিনেমাটি ছিল পারিবারিক ড্রামা নির্ভর। অভিনয়ে ছিলেন গোবিন্দ ও রাজেশ খান্না। সেখান থেকে সফল পরিচালক হিসেবে যাত্রা শুরু ধাওয়ানের।

একই সাথে গোবিন্দ-ধাওয়ান জুটিরও সূচনা দেখে বলিউড। দু’বছর বাদে একই জুটির দ্বিতীয় সিনেমা, কমেডি-রোম্যান্টিক ছবি ‘শোলা ওউর শবনম’ হিটের তকমা যায়। সফল হয় একই বছরের অন্য ছবি ‘বোল রাঁধা বোল’ও। বছরটা হল ধাওয়ানের ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট।

মজার ব্যাপার হল, এই তিনটা হিটের কোনটাই কমেডি জেনারের ছিল না যা কি না ডেডিডের সিনেমার সেলিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৯৯৩ সালে গোবিন্দ ও চাঙ্কি পান্ডেকে নিয়ে তাঁর করা ‘আঁখে’ বছরের সবচেয়ে বড় সফল ছবির মর্যাদা পায়। সে বছরের অন্যান্য ছবি ‘ডর’ কিংবা ‘খলনায়ক’কে ছাড়িয়ে যান ধাওয়ান।

সেটাই ধাওয়ানের কমেডি অধ্যায়ের সূচনা। এরপর গোবিন্দ’র সাথে ‘রাজা বাবু’ ‘কুলি নম্বর ১’, ‘সাজান চালে সাসুরাল’, ‘হিরো নম্বর ১’, ‘দিওয়ানা মাস্তানা’, ‘বাড়ে মিয়া ছোটে মিয়া’, ‘হাসিনা মান জায়েগি’ ও ‘জোড়ি নম্বর ১’ – এর মত সফল ছবি করেন ধাওয়ান। সব মিলিয়ে গোবিন্দ’র সাথে তাঁর করা ১৭ টি সিনেমার মধ্যে ১০টিই হিট!

  • সালমান যুগ

১৯৯৬ সাল অবধি গোবিন্দকে নিয়ে চুটিয়ে ব্যবসা করেন ধাওয়ান। ১৯৯৭ সালে দৃশ্যপটে আসেন সালমান খান। প্রথম ছবি ‘জুড়ুয়া’ কথা না বললেই নয়। বক্স অফিসে অভাবনীয় সাফল্য পায় এই সিনেমা। এরপর ‘বিবি নম্বর ওয়ান’, ‘দুলহা হাম লে জায়েঙ্গে’, ‘মুঝসে শাদি কারোগি’, ‘ম্যায়নে প্যায়ার কিউ কিয়া’ সহ সালমানের সাথে মিলে আটটি হিট সিনেমা উপহার দেন  ডেভিড ধাওয়ান।

২০০৭ সালে গোবিন্দকে ফিরিয়ে আনেন ধাওয়ান, সাথে ছিলেন সালমান। দুই শীষ্যকে নিয়ে নির্মান করেন ‘পার্টনার’। আবারো বক্স অফিস হাত ভরে সাফল্য দেয় তাঁকে। বানিজ্যিক ভাবে সে বছরের অন্যতম সফল ছবি ছিল সেটা।

  • বরুণ যুগ

কোনো ডিএনএ টেস্ট ছাড়াই বলে দেওয়া যায় যে বরুণ ধাওয়ান ও ডেভিড ধাওয়ান জুটিই হল সত্যিকারের ‘বাপ কা বেটা’। যদিও বরুণের ক্যারিয়ারের সূচনা হয় ২০১২ সালে করণ জোহরের ব্যবসাসফল সিনেমা ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’ দিয়ে।

এরপর বাবার সাথে জুটি গড়ে ‘ম্যায় তেরা হিরো’ ও ‘জুড়ুয়া টু’ করেন এই তরুণ প্রতিভা। বলাই বাহুল্য বক্স অফিসেও আসে বড় সাফল্য। যদিও, আসছে বছরগুলোতে নিজের সব ছবিতে ছেলেকে প্রাধান্য দেবেন না বলেই অনুমান করছে বলিউড কেন্দ্রিক গণমাধ্যমগুলো।

যত সমালোচনাই ধাওয়ানকে ঘিরে হোক না কেন, পরিসংখ্যান বলে তিনি বলিউডের সবচেয়ে সফল নির্মাতা। তিনি যে পরিমান হিট সিনেমার জন্ম দিয়েছেন সেটা মনমোহন দেসাই, যশ চোপড়া, সুভাষ ঘাই, রোহিত শেঠি, করণ জোহর, সুরাজ ভাটিয়া, আদিত্য চোপড়া, রমেশ সিপ্পি কিংবা বিজয় আনন্দ – কেউ পারেননি।

হ্যা, একটা ব্যাপার সত্যি যে ডেভিড ধাওয়ান সুভাষ ঘাই, যশ চোপড়া, মনমোহন দেসাই কিংবা রমেশ সিপ্পিদের মত বিশাল ব্লকবাস্টার কোনো সিনেমা নির্মান করতে পারেননি। তবে, এসবও কোনো ভাবেই তাঁর ‘হিট মেশিনের তকমা কেড়ে নিতে পারে না!

– কইমই অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।