দরবার ও রজনীকান্ত: থালাইবার জন্য বয়স স্রেফ একটা সংখ্যা!

– যারা নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখে, তাঁদের জন্য বয়স স্রেফ একটা সংখ্যা। হবে না আপনার কথা, হবে এটা আমার ভাবনা।’

– এটা সম্ভবই না!

– অসম্ভবকে সম্ভব করাটাই আমার স্টাইল!

কথাগুলো রুপালি পর্দায় যিনি বলেছেন, তিনি হলেন পুলিশ কমিশনার আদিত্য অরুনাচালাম। মুম্বাই পুলিশের সর্বাধিনায়ক। বুকে হাত রেখে বলেন, এই কথাটা ভারতবর্ষের কার কণ্ঠ থেকে আসলে সবচেয়ে ভাল মানাবে?

হ্যাঁ, আপনি ঠিকই বলেছেন। তিনি হলেন থালাইবা, দ্য সুপারস্টার। তিনি হলেন রজনীকান্ত। তামিল নাড়ুতে তো বটেই, গোটা ভারতেই তিনি অনন্য এবং অদ্বিতীয়।

ছবির নাম ‘দরবার’। ছবিটি দিয়ে তিনি আবারো প্রমাণ করেছেন যে, তার জন্য বয়স কোনো ঘটনাই নয়। আজো তিনি ঠিক ক্যারিয়ারের প্রথম দিনের মত অ্যাকশন করতে কিংবা কোমড় দোলাতে জানেন। ছবিতে বলা নিজের সংলাপের মত আবারো তিনি সকল অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন।

রজনীকান্তের বয়স এখন ৭০। ‘দরবার’-এ তিনি রীতিমত হাঁটুর বয়সী তরুণদের চেয়েও দুর্দান্ত সব অ্যাকশন দৃশ্য করেছেন। যতবারই তিনি ঘায়েল করেছেন ‘গুণ্ডা’দের, সিনেমা থিয়েটারে ততবারই বেজেছে ‘সিটি’। আর আবহ সঙ্গীতও পুরোপুরি ধারণ করতে পেরেছিল থালাইবাকে।

রজনীর সুপার স্টারডমকে যত ভাবে ব্যবহার করা যায় তার সবটাই ‘দরবার’-এ করেছেন পরিচালক এ আর মুরুগাদোস। এক সাথে ১০, ২০ কিংবা ৫০ জনকে ঘায়েল করা, মেরে হাওয়ায় ভাসিয়ে দেওয়া, কিংবা অসম্ভব সব স্টান্ট – সব কিছুর দেখাই মিলেছে।

প্রচলিত একজন ‘নায়ক’-এর যা যা ছবিতে করা দরকার সবই করেছেন তিনি। কখনোই মনে হয়নি যে, জোর করে বয়স কমানো হয়েছে। এমনকি আক্ষরিক অর্থেই নিজের অর্ধেক বছর বয়সী নয়নতারার সাথে তার রসায়নও বেমানান মনে হয়নি মোটেও।

ছবির গল্প যে খুব আহামরী কিছু তা নয়। আর ১০ টা মসলাদার বানিজ্যিক ছবির মতই। তবে, একে জ্বলজ্বলে করে তুলেছে রজনীর উপস্থিতি। এটা প্রতিশোধের গল্প, এটা ন্যায় প্রতিষ্ঠার গল্প। এটা মুুরুগাদোসের সেই সব ছবিগুলোর একটি যেখানে শেষটায় এসে অন্ধকার মুছে গিয়ে সত্যের জয় হয়।

আর সত্যের এই জয় প্রতিষ্ঠাই তো মুরুগাদোসের ছবির ‘বিশেষত্ব। ‘রামানা’, ‘ঠুপাক্কি’ কিংবা ‘কাট্ঠি’-তেও শেষটায় গিয়ে অন্যায়কারী যথার্থ সাজাই পান। পার্থক্য হল, এবার ন্যায় প্রতিষ্ঠা হয়েছে স্বয়ং রজনীকান্তের হাত দিয়ে।

পুরোদস্তর এক কমার্শিয়াল ককটেল যা দর্শককে পর্দার সামনে প্রতিটা মুহূর্ত ধরে রাখবে। ধুন্ধুমার অ্যাকশনের সাথে এখানে মনোমুগ্ধকর সঙ্গীত ছিল, সাথে ছিল উপমহাদেশীয় আবেগ আর ড্রামা।

ছবিতে রজনী’র মেয়ের চরিত্র করা নিভেথা থমাস কিংবা ছোট চরিত্র করা নয়নতারা, প্রতীক বাব্বার, নবাব শাহ, ইয়োগি বাবু – সবাই সিনেমার গল্পের সাথে মানিয়ে নিয়েছেন নিজেদের। তবে, আলোচনা যখন ‘বুড়ো’দের নিয়ে, তখন আলাদা করে অবশ্যই বলতে হয় সুনিল শেঠির কথা।

‘বলিউডের হিম্যান’ খ্যাত সুনিলের উপস্থিতি যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বীতা সৃষ্টি করেছিল থালাইবার জন্য। দু’জনই যেন যত পুরনো হচ্ছেন, তত নেশা বাড়ছে। ভিলেন হিসেবে কালক্রমে নিজেকে অনন্য করে তুলছেন সুনিল। ‘দরবার’-এ যেন ঠিক ‘ম্যায় হু না’র ‘রাঘাবান’ হয়ে ফিরলেন। নামটা কেবল পাল্টে হল হারি চোপড়া।

এবারই প্রথমবারের মত থালাইবার সাথে জুটি বাঁধলেন তামিল ইন্ডাস্ট্রির স্বনামধন্য বানিজ্যিক নির্মাতা এ আর মুরুগাদোস। ছবিটি প্রথম ১১ দিনেই ২০০ কোটির ওপর ব্যবসা করে। রজনীকান্তের এটা পঞ্চম ছবি যা বক্স অফিসে ২০০ কোটির ঘরে পৌছায়। ভারত ও সারা বিশ্ব মিলে আয়ের অংকটা ৩০০ কোটির ওপর।

২০০ কোটির ওপরে আয় করা রজনীকান্তের বাকি ছবিগুলোও সাম্প্রতিক সময়ের। এর মধ্যে আছে ‘এথিরান’ (বলিউডে মুক্তি পায় ‘রোবট’ নামে), ‘কাবালি’, ‘২.০’ ও ‘পেট্টা’। মানে এই ভদ্রলোকের বয়স যত বাড়ছে তিনি ততই প্রিয় হয়ে উঠছেন বক্স অফিসের।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।