নাচের প্রভু কিংবা ড্যান্সিং মায়েস্ত্রো

শাঙ্কুপানি সুন্দারাম – এই নামের মানুষকে ক’জন চেনেন? খুব অল্প ক’জনাই হয়তো চিনবেন। যদি, বলা হয় প্রভু দেবা সুন্দারাম, তাহলে হয়তো সকলেই লাফ দিয়ে উঠবেন, তিনিই তো ভারতবর্ষের ড্যান্সিং মায়েস্ত্রো।

জীবন্ত এই কিংবদন্তি কোন ধরণের নাচে পারদর্শী না? – এই প্রশ্নের জবাবে অনেক বিতর্ক হতে পারে। তবে, বিতর্কের শেষে সবাই এই সিদ্ধান্তেই উপনিত হবেন যে, প্রভু দেবা সব পারেন। আক্ষরিক অর্থেই ভরতনট্যম থেকে শুরু হবে পাশ্চাত্যের হিপহপ – সব কিছুতেই তাঁর বেশ ভাল রকমের দক্ষতা আছে।

জন্ম ১৯৭৩ সালের তিন এপ্রিল, কর্নাটকের মাইসোরে। প্রভু দেবা গুরু মানের নিজের বাবাকে। বাবার হাত ধরেই তো তাঁর এই পথে আসা। বাবা মুগুর সুন্দারাম ছিলেন দক্ষিণ ভারতী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির নামকরা কোরিওগ্রাফার।

বাপ কা বেটা

নব্বই দশকের শুরুতে প্রভু দেবার ক্যারিয়ার শুরু হয়। সেই অর্থে তিনি ফিল্ম ইন্ড্রাস্টিতে আছেন দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে। আর ড্যান্সিং ক্যারিয়ার হিসেবে নিলে তিনি কাজ করেছেন ১৩ বছর বয়স থেকে মানে ১৯৮৬ সাল থেকে। সেই অর্থে তাঁর ক্যারিয়ারটা ৩২ বছরের!

ভক্তরা তাঁকে ‘ভারতীয় মাইকেল জ্যাকসন’ বলতেই বেশি পছন্দ করেন। যদিও, নাচ, কোরিওগ্রাফির পাশাপাশি সিনেমা পরিচালনা, প্রযোজনা, এমনকি অভিনয়েও তিনি সমান দক্ষ। এমনকি সিঙ্গাপুরে তাঁর নিজের একটা ড্যান্স অ্যাকাডেমিও আছে।

১০০টিও বেশি সিনেমায় তিনি কোরিওগ্রাফি করেছেন। ১৩ টি সিনেমা এসেছে তার পরিচালনায়, চারটিতে তিনি করেছেন প্রযোজনা। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন দু’বার। সেরা চলচ্চিত্র কোরিওগ্রাফির জন্য পুরস্কার দু’টি আসে ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে।

তেলেগু, তামিল, হিন্দি, মালায়ালাম, কান্নাড়া – পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন ভাষা তাঁর জানা আছে। এই পাঁচটি ভাষার সিনেমায় তিনি কাজও করেছেন। ‍শুরুটা হয় দক্ষিণ ভারতে। কোরিওগ্রাফির পাশাপাশিই শুরু করেন পরিচালনার ক্যারিয়ার। পরিচালনায় এসেই উপহার দেন ব্লকবাস্টার। তেলেগু সিনেমা ‘নুভোস্তানাতে নেনদোনান্তানা’ জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর প্রভু সেটা রিমেক করেন বলিউডে – ‘রামায়্যা ভাস্তাভায়্যা’।

বলিউডে ওয়ানটেড (২০০৯), রওডি রাঠোর (২০১২), সিং ইজ ব্লিং (২০১৫), এবিসিবি: অ্যানি বডি ক্যান ড্যান্স (২০১৩) – সিনেমাগুলোতে তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন। এর মধ্যে এবিসিবি ভারতের ইতিহাসে প্রথম থ্রিডি সিনেমা। সেখানে বিষ্ণু স্যার নামের একটি চরিত্রেও ছিলেন তিনি।

এর আগেও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন প্রভু। দক্ষিণের কাধালান (১৯৯৪), মিনসারা কানাভু (১৯৯৭), ও ভিআইপি (১৯৯৭) সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। কাথালা কাথালা (১৯৯৮) ও ভানাথাই পোলা (২০০০) সিনেমায় কমেডি চরিত্রে অভিনয় করে সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেও সক্ষম হন তিনি।

নিজের পরিচালিত সিনেমাগুলোতে তিনি এক মুহূর্তের জন্য হলেও পর্দায় আসেন। নায়কের সাথে বিশেষ কোনো গানে তাঁকে দেখা যায়। হোক সেটা রওডি রাঠোর, ওয়ানটেড, পক্কিরি কিংবা ভিল্লু।

খুব বেশি কথা বলতে পছন্দ করেন না প্রভু দেবা। তিনি কথা বলেন তাঁর কাজ দিয়ে!

চেন্নাই ইউনিভার্সিটিতে ২০১৭ সালে পপ কিং মাইকেল জ্যাকসনের ১২ ফিট লম্বা এক ভাস্কর্য তৈরি করা হয়। ভাস্কর্য উন্মোচন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রভু দেবা। ২০১২ সালের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিনটা ছিল তাঁর ৩৯ তম জন্মদিন। সেদিন সালমান খান, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, অমিতাভ বচ্চন, ক্যাটরিন কাইফ, কারিনা কাপুর ও কেটি পেরিদের সাথে তিনি পারফর্মও করেন।

শহীদ কাপুরের সাথে

সহকর্মীদের সাথে প্রভু দেবার সম্পর্ক বেশ ভাল। অক্ষয় কুমার, শহীদ কাপুর, অজয় দেবগন, সোনাক্ষী সিনহা, কিংবা সালমান খান বা দক্ষিণের সুপারস্টার বিজয় – প্রত্যেকেই দু’বার বা তিনবার করে কাজ করেছেন প্রভু দেবার সাথে। বোঝাই যাচ্ছে সকলের প্রিয়পাত্র তিনি!

– দ্য ইন্ডিয়ান পিপল অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।