অ্যাডলফ হিটলার: নৃশংস-স্বৈরাচারী কিংবা একজন মানসিক রোগী

বলা হয় পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে নৃশংস মানুষ হলেন অ্যাডলফ হিটলার। সবাই তার প্রচণ্ড বর্ণবাদী স্বভাবের সাথে পরিচিত। তিনি যে, নির্বিচারে মানুষ মেরে পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম এক বিতর্কিত চরিত্রে নিজেকে পরিচিত করেছেন সেটাও কম বেশি সবারই জানা। তবে, তার ব্যাপারে অজানা কিংবা কম-জানা অনেক ব্যাপারও আছে। তার জীবনের কিছু অজানা অধ্যায় জানলে তাকে স্রেফ মানসিক রোগী বলেও মনে হতে পারে।

  • ইহুদি মেয়ের সাথে প্রেম

শুনতে একটু পাগলাটে শোনালেও এটাই সত্যি যে স্কুলে থাকতে হিটলার এক ইহুদি মেয়ের প্রেম পড়েছিলেন। যদিও, স্টেফানি আইজাক নামের ওই মেয়েটি হিটলার মনের খবর জানতে পারেননি। হিটলার ওই বয়সে এতটাই লাজুক ছিলেন যে কখনোই মনে কথা বলতে পারেননি। অনেকে মনে করতেন, এটাই পরবর্তীতে তাকে ইহুদিদের ঘৃণা করতে অনুপ্রাণিত করে।

  • হজমের সমস্যা

গোটা পৃথিবীর যিনি ত্রাশ, সেই হিটলারেরই কী না শারীরিক সমস্যা ছিল। প্রায় গোটা জীবনেই তাকে পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা ভুগতে হয়েছিল। কখনো পাকস্থলিতে ব্যাথা, কখনো গ্যাসট্রিকের সমস্যা, ক্রনিক ডায়রিয়া – এটা ওটা তার লেগেই থাকতো। তাই সবসময় স্রেফ সেদ্ধো খাবার খেতেন। ২৯ রকম ওষুধ খেতেন নিয়মিত। যদিও, কোনো উপকার পাননি।

  • যুদ্ধাহত

হিটলার প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯১৬ সালে যুদ্ধ চলাকালে আহতও হয়েছিলেন। ডাক্তাররা তার একটা অণ্ডকোষ বাধ্য হয়ে ফেলে দিতে হয়েছিল। বাকি জীবনটা সেভাবেই তাকে চালিয়ে নিতে হয়।

  • ধর্মযাজক হতে চেয়েছিলেন

যখন বয়স মাত্র চার বছর তখন এক শীতকালে লেকের মধ্যে পড়ে গিয়েছিলেন হিটলার। তখন এক ধর্মযাজক তার জীবন বাঁচান। ওই সময় তাই বড় হয়ে ধর্মযাজক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন হিটলার। যদিও পরে সেই স্বপ্ন পাল্টে যায়। ঈশ্বরের রাস্তায় না হেঁটে নিজেই ঈশ্বর হওয়ার চেষ্টা করা শুরু করেন তিনি।

  • নারী-ঘেষা

প্রথম জীবনে নারীদের সাথে কথা বলতে লজ্জা পেলেও পরে সেটা কেটে জায়গায়। বরং, পরবর্তীতে তিনি বেশ নারী ঘেষা হয়ে ওঠেন। জনপরিসরেও কোনো নারীর শরীরে হাত দিতে তার রুচিতে বাঁধতো, তাতে ওই নারীর সম্মতি থাকুক আর নাই থাকুক। এমনকি তার ভাগনি গেলি রওব্যালের সাথেও তার ‘অনৈতিক’ সম্পর্ক ছিল বলে অনেকে দাবী করেন। সেই যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে ২৩ বছর বয়সেই মেয়েটি আত্মহত্যা করেছিল।

  • গাড়ি চালাতে অক্ষম

অদ্ভুৎ ব্যাপার হল, হিটলার কখনো গাড়ি চালানো শেখেননি। অনেকে অবশ্য বলে গাড়ি চালাতে ভয় পেতেন তিনি। সেজন্য সবসময়ই ব্যক্তিগত একজন ড্রাইভার থাকতো তার।

  • নিরামিষভোজী

স্বৈরাচারী হলেও হিটলার পশুপাখিদের ভালবাসতেন। তাই, পশুপাখি হত্যার বিরুদ্ধে ছিলেন তিনি। নিজেও ছিলেন নিরামিষভোজী। নিজের ডায়রিতে সেই কথা অনেকবার বলেছেন তিনি। এমনকি বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে ‘ভেজিটেরিয়ানিজম’কে সবার জন্য বাধ্যতামূলক করারও পরিকল্পনা ছিল তার। নাৎসি বাহিনীর প্রোপাগান্ডা স্পেশালিস্ট জোসেফ গোবেলসের সাথে এই নিয়ে আলাপও করেছিলেন তিনি।

  • ধুমপান-বিরোধী

তরুণ বয়সে প্রচুর ধুমপান করতে। যদিও, ক্ষমতায় গিয়ে সেই অভ্যাসটা ঝেরে ফেলেন। ধুমপানকে অর্থের অপচয় বলে মনে করতেন। এমনকি গণপরিবহনে ধুমপান বিরোধী প্রচারণাও শুরু হয়েছিল।

ব্রাইট সাইড অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।