ক্রোয়েশিয়া: ফুটবল, গেম অব থ্রন্স ও অন্যান্য

বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া ক্রোয়েশিয়ার জনসংখ্যা মাত্র ৪২ লাখ। বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন জনবহুল দেশ হিসেবে ফাইনালে! প্রথম স্থানে রয়েছে উরুগুয়ে। ফুটবলে বিস্ময়কর পারফরম্যান্স আর সুন্দরী প্রধানমন্ত্রীকে বাদ দিলেও ক্রোয়েশিয়ার ‘অভিনব’ অনেক দিকই আছে। সেসব নিয়েই আমাদের এই আয়োজন।

  • নিজস্ব মুদ্রা

ক্রোয়েশিয়া ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অন্তর্গত। তারপরও তাঁদের নিজস্ব মুদ্রা ব্যবস্থা আছেন। মুদ্রার নাম ‘কুনা’। নেউল বা বেজিসদৃশ এক প্রাণীর নাম অনুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে।

  • ভুতুড়ে খাদ্যাভ্যাস

ক্রোয়েশিয়াতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কন্দজাতীয় ছত্রাক পাওয়া যায়। এর দাম প্রায় সাড়ে চার হাজার পাউন্ড। ক্রোয়াটদের খাদ্যাভ্যাস বেশ ভুতুড়ে।পাকাল মাছ কিংবা ব্যাঙ – কিছুই তাঁরা বাদ রাখে না। তবে, তাঁদের প্রিয় খাবার হল ভেড়ার মাথা।

  • সিনেমার দেশ

গেম অব থ্রন্স সিরিজ যারা দেখেন তারা জানেন যে, এই দেশটির অস্তিত্ব বিখ্যাত এই সিরিজে খুব দারুণ ভাবে জড়িত। ড্রুব্রোভনিক শহরে যেমন গেম অব থ্রন্সের শ্যুটিং হয়েছে তেমনি ২০১৭ সালের সিনেমা ‘দ্য লাস্ট জেডিরও শ্যুটিংও হয় এই শহরে।

  • আধুনিকমনস্ক দেশ

খুব কম মানুষই জানেন যে প্রথমবারের মত এই ক্রোয়েশিয়াতেই সেই ১৭ শতকে নেক-টাই আবিষ্কৃত হয়। যুদ্ধবিদ্যায়ও ক্রোয়াটদের জুড়ি মেলা কঠিন। তারা প্যারাসুট ও আন্ডার-ওয়াটার মিজাইল টর্পেডোর আবিষ্কারক।

  • বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব

গ্র্যামি জয়ী গায়িকা লোর্ডের জন্ম নিউজিল্যান্ডে, কিন্তু তিনি ক্রোয়েশিয়ার নাগরিক। সম্প্রতি সেটা তিনি ঘোষণা করে জানিয়েছেন। এর বাদে খ্যাতনামা ব্যান্ড নির্ভানার বেজিস্ট ক্রিস্ট নোভোসেলিচও ক্রোয়েশিয়ার।

লোর্ডে
  • এয়ারকন্ডিশনারের প্রতি ঘৃণা

ক্রোয়েশিয়াতে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠে। তারপরও তারা এয়ানকন্ডিশনারকে ঘৃণা করে। কারণ, তাদের দাবী এই এসিই সকল ঠাণ্ডা জাতীয় অসুখের কারণ। শিশুদের জন্মদাগকে কোনো প্রাকৃতিক ব্যাপার হিসেবে দেখে না তাঁরা, তারা মনে করে অন্তসত্তা থাকা অবস্থায় নিশ্চয়ই মা লাল রঙের কিছু খেয়ে নিজের শরীর চুলকেছিল।

  • ফুলের ব্যবহার

ভুলেও ক্রোয়েশিয়ার কাউকে শুভেচ্ছা জানাতে বিজোড় সংখ্যার ফুল দেবেন না, দেবেন জোড় সংখ্যার। ক্রোয়াটরা জোড় সংখ্যার ফুল দেয় শেষ কৃত্য অনুষ্ঠানে কিংবা গোরস্থানে।

  • ভুতুড়ে জাদুঘর

ক্রোয়েশিয়া বিচিত্র ও ভুতুড়ে সব জাদুঘরের দেশ।  জাগরেবের ‘মিউজিয়াম অব ব্রোকেন রিলেশনশিপ’- নির্মিত হয়েছে ব্যর্থ কিংবা ভেঙে যাওয়া প্রেমের সম্পর্ক থেকে। ক্রোয়েশিয়ার আরেক বিখ্যাত জাদুঘর হল জাডা’র ‘সি অর্গ্যান’। এখানে সমুদ্রের মাঝে বিশেষ কায়দায় এক বাদ্যযন্ত্র বসানো আছে যেটা বাজানো হয় সমুদ্রের ঢেউ কাজে লাগিয়ে।

  • বিশ্বের সবচেয়ে ছোট শহর

ক্রোয়েশিয়াতেই বিশ্বের সবচেয়ে ছোট শহরটি অবস্থিত। উত্তর-পশ্চিম ক্রোয়েশিয়ার ইস্ত্রিয়াতে অবস্থিত এই শহরের নাম ‘হাম’। মাত্র দু’টি রাস্তার এই শহরে থাকে মাত্র ২৭ জন মানুষ।

হাম শহর

আবার কি বিচিত্র রকমের বৈপরীত্ব। এই দেশেই আছে ইউরোপের সবচেয়ে দীর্ঘতম দেয়াল। স্টোন সিটিকে রক্ষা করার জন্য ১৩৫৮ সালে এই ৪.৩ মাইল দীর্ঘ দেয়ালটি তৈরি করা হয়।

  • মদ্য-প্রীতি

ক্রোয়াটদের মদ্যপান খুব পছন্দ। মাথাপিছু সবচেয়ে বেশি মদ্যপানের ক্ষেত্রে এই দেশটি পৃথিবীতে চতুর্থ স্থানে আছে।

  • মোহনীয় সূর্যাস্ত

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে্যর জন্য ক্রোয়েশিয়া খুব বিখ্যাত। এখানে আছে আটটি জাতীয় উদ্যান ও ১০ টি প্রাকৃতিক উদ্যান।  তাঁদের প্রোটেকটেড এরিয়ার সংখ্যা ৪৪৪টি। এটা দেশটির মোট আয়তনের নয় ভাগ। বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক আলফ্রেড হিচকক একবার বলেছিলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর সূর্যাস্ত দেখা যায় জাডারের ডালমেশিয়ান সমুদ্র সৈকতে।

– ডেইলি মিরর ও টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।