ফান্দে পাকিস্তান, কান্দে পাকিস্তান

ক্রিকেটারদের কুশপুত্তলিকা পুড়িয়ে ফেলা, টেলিভিশন ভেঙে ফেলা – এসব ঘটনা পাকিস্তান ক্রিকেটে নতুন কোনো ব্যাপার নয়। এবার এশিয়া কাপে ব্যর্থতার জের ধরে আবারো সমর্থকদের এমন উগ্র আচরণের দেখা মিললো। অথচ, গেল বছর সবাইকে অবাক করে দিয়ে পাকিস্তান দল আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতে ফিরেছিল, তখন চিত্রটা ছিল পুরো এর বিপরীত।

সমর্থকদের কথা বাদ দিন, সুপার ফোর থেকে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের বিদায়ে পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটাররাও যেন বাকরুদ্ধ। দেশটির সাবেক ডান-হাতি ব্যাটসম্যান ও বর্তমানে ধারাভাষ্যকারের দায়িত্ব পালন করা রমিজ রাজা টুইট করেন, ‘পুরো টুর্নামেন্টে এই দলটি ভুল করেছে। বারবার ভুল করেছে। একই ভুল বারবার করেছে তারা। যদি পাকিস্তান দলের ভুলে তালিকা করা হয়, তবে সেটি হবে কয়েক হাজার পৃষ্ঠার। আমি এমন বাজে, ভঙ্গুর পাকিস্তান দল আগে দেখিনি।’

তিনি বলছেন, পাকিস্তানের এমন বাজে পারফরম্যান্স নাকি তিনি আগে কখনো দেখেননি। অথচ, এই পাকিস্তানই ২০১৫ সালে বাংলাদেশের মাটিতে হোয়াইটওয়াশ হয়ে এসেছিল। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে যাওয়ার আগে র‌্যাংকিং এতটাই পেছনে ছিল যে, সরাসরি বিশ্বকাপ খেলা নিয়েও ছিল শঙ্কা।

তবুও রমিজ বললেন, ‘এমন বাজে পাকিস্তান দল আগে কখনোই দেখিনি। এত বাজে পারফরমেন্স এই দলের কাছে কাম্য ছিলো না।’ ব্যাটসম্যানদের কাঠগড়ায় তুলে তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের হারের প্রধান কারন ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা। পুরো আসর জুড়েই বাজে খেলেছে ব্যাটসম্যানরা।’

এশিয়া কাপের পুরো আসর জুড়ে পাঁচটি ম্যাচ খেলেছে পাকিস্তান। কিন্তু হংকং ও আফগানিস্তানের মাত্র দু’টি ম্যাচে জয় পায় আইসিসি চ্যাম্পিয়ন দলটি। চলতি এশিয়া কাপের পুরো টুর্নামেন্টেই ফ্লপ ছিলো পাকিস্তান। শেষটা হয় বাংলাদেশের বিপক্ষে ৩৭ রানের পরাজয় দিয়ে।

বারবার অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হওয়া সাঈদ আজমলও হুশজ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন। তিনি বলেন, ‘এমন দিন ছিল যখন তারা পাকিস্তানের নাম শুনলে ভয় পেত, মাঠে নামার আগেই হেরে বসত। এখন তাদের বোলাররা আমাদের ব্যাটসম্যানদের চোখ রাঙায়, যেকোন কিছু করতে ভয় পায় না। এটাই হবার ছিল। পাকিস্তান এতোটাই বাজে খেলেছে যে আমি বাংলাদেশের সাথে ম্যাচ দেখতে লজ্জা পেয়েছি।’

শহীদ আফ্রিদি, পাকিস্তানকে নতুন ভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানালেন। তিনি বলেন, ‘সবদিক দিয়ে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স ছিলো হতাশার। তিন বিভাগেই আগ্রাসী ক্রিকেটের ঘাটতি দেখা গেল তাদের। এই তরুণ দলটি সর্বশেষ টুর্নামেন্টে ভালো করেছিল এবং প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছিল অনেকটাই। শক্তভাবে ফিরতে হলে অনুশীলনে আরও পরিশ্রম করতে হবে তাদের। সবকিছু নতুনভাবে শুরু করতে হবে এই দলকে।’

কথায় আছে না, বিপদ যখন আসে সব দিক থেকেই আসে। দলের যখন এমন নাজেহাল দশা, তখন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) ধুয়ে দিয়েছেন দেশটির সাবেক ফিল্ডিং কোচ স্টিভ নিক্সন। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই টেস্ট উইকেটরক্ষক ২০১৬ সাল থেকে গেল জুন অবধি দলটির ফিল্ডিং কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি পিসিবির পেশাদারিত্বের সমালোচনা করে বলেন, ‘পিসিবি ঠিক সময়ে বেতন-ভাতা দিত না। আমি বিশ্বকাপ পর্যন্ত কাজ করতে রাজি ছিল। কিন্তু, ওদের এমন আচরণ আমার রাগ বাড়িয়ে দেয়। পিসিবি কোনো পেশাদার সংস্থা নয়। ওদের বোঝা উচিৎ, দেশের বাইরের লোকদের কাছ থেকে সার্ভিস পেতে হলে তাদের মন জুগিয়ে চলতে হবে।’

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।