বহুজাতিক ক্রিকেটার সমগ্র

ফুটবলে দু’টি দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার ঘটনা ঘটে নিয়মিতই। ক্রিকেটে এমনটা সচরাচর দেখা না গেলেও একাধিক দেশকে প্রতিনিধিত্ব করা ক্রিকেটারের তালিকাটা কিন্তু খুব একটা ছোট নয়। আছেন চিরশত্রু দুই দেশের হয়ে খেলা কয়েকজন ক্রিকেটারও!

ইতিহাসে সর্বমোট ২৭ জন ক্রিকেটার আছেন যারা সম্পূর্ণ ভিন্ন দু’টি দলের হয়ে শীর্ষ পর্যায়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন। এদের মধ্যে দুটি দেশের হয়ে টেস্ট খেলেছেন ১৪ জন, একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন নয় জন এবং টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন ছয় জন ক্রিকেটার। মাত্র এক জন ক্রিকেটার আছেন যিনি টেস্ট-ওয়ানডে দুই ফরম্যাটেই দুটি ভিন্ন দলের হয়ে খেলেছেন। এছাড়া ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দুই ফরম্যাটেই খেলা ক্রিকেটার আছেন তিন জন।

১.

অস্ট্রেলিয়ার বিলি মিডউইন্টার হলেন ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার যিনি টেস্টে দুটি ভিন্ন দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৮৭৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দু’টি এবং ১৮৮১-৮২ সালে তিনি ৪টি টেস্ট খেলেছেন ইংলিশদের পক্ষে।

ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার মাত্র এক বছরের মধ্যেই আবারও অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে ডাক পান তিনি। দ্বিতীয় দফায় সুযোগ পেয়ে অজিদের হয়ে আরো ছয়টি টেস্ট খেলেছিলেন মিডউইন্টার।

২.

ক্যারিয়ারের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলা আরো ৪ জন ক্রিকেটার আছেন যারা পরে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলেছেন। এঁরা হলেন যথাক্রমে-

★ বিলি মারডক (অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১৮ টি, ইংল্যান্ডের হয়ে ১ টি)

★ জে জে ফেরিস (অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৮ টি, ইংল্যান্ডের হয়ে ১ টি)

★ স্যামি উডস (অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৩ টি, ইংল্যান্ডের হয়ে ৩ টি) এবং

★ অ্যালবার্ট ট্রট (অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৩ টি, ইংল্যান্ডের হয়ে ২ টি)।

৩.

ফ্রাংক মিচেল এবং ফ্রাংক হার্ন এই দুজন ক্রিকেটার ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্ট ক্যারিয়ার শুরু করলেও পরে খেলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে।

★ ফ্রাংক মিচেল – ইংল্যান্ডের হয়ে ২ টি, প্রোটিয়াদের হয়ে ৩ টি।

★ ফ্রাংক হার্ন – ইংল্যান্ডের হয়ে ২ টি, প্রোটিয়াদের হয়ে ৪ টি।

৪.

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ৫ টি টেস্ট খেলা স্যামি গুইলেন পরবর্তীতে নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলেছেন আরও ৩টি টেস্ট।

৫.

পঞ্চাশের দশকে পাকিস্তানের অধিনায়কত্ব করা সাবেক ক্রিকেটার আবদুল হাফিজ কারদারের টেস্ট অভিষেক হয়েছিল ভারতের হয়ে, ১৯৪৬ সালে।

দেশভাগের পূর্বে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ার হয়ে তিনটি টেস্ট খেলা আব্দুল হাফিজ কারদার ১৯৫২-৫৮ পর্যন্ত পাকিস্তানের হয়ে খেলেছেন আরও ২৩ ম্যাচ।

৬.

ভারত-পাকিস্তান দুই দলের হয়ে টেস্ট খেলা আরো দু’জন ক্রিকেটার হচ্ছেন আমির এলাহী ও গুল মুহাম্মদ।

★ আমির এলাহী – ভারতের হয়ে ১টি, পাকিস্তানের হয়ে ৫টি।

★ গুল মোহাম্মদ – ভারতের হয়ে ৮টি, পাকিস্তানের হয়ে ১টি।

৭.

দু’টি ভিন্ন দেশের হয়ে খেলা ক্রিকেটারদের অন্যতম উল্লেখযোগ্য একটি নাম হচ্ছে নবাব ইফতিখার আলী খান পতৌদি। বলিউড তারকা সাইফ আলী খানের দাদা ও ভারতের সাবেক অধিনায়ক মনসুর আলী খান ওরফে ‘টাইগার’ পতৌদির বাবা ইফতিখার আলী খান পতৌদি ভারতের হয়ে খেলার আগে টেস্ট ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করেছেন ইংল্যান্ডের হয়ে।

ভারত (তৎকালীন ব্রিটিশ ইন্ডিয়া) ও ইংল্যান্ড উভয় দলের হয়েই তিনটি করে টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন ইফতিখার।

৮.

মিশরে জন্মগ্রহণকারী ‘গ্রিক বংশোদ্ভূত’ দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ক্রিকেটার জন ট্রাইকোসের টেস্ট অভিষেক হয়েছিল ১৯৭০ সালে ডারবানে, অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে।

প্রোটিয়া জার্সিতে তিনটি টেস্ট খেলার পর চতুর্থ ম্যাচটি খেলতে তাঁকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল দীর্ঘ ২২ বছর ২২২ দিন!

১৯৯২ সালে জিম্বাবুয়ের টেস্ট স্ট্যাটাস প্রাপ্তির পর হারারেতে দেশটির হয়ে অভিষেক টেস্টে খেলতে নামেন ট্রাইকোস। সাবেক এই ডানহাতি অফ স্পিনার পরবর্তীতে অংশ নিয়েছেন আরও ৩টি টেস্ট ও ২৭টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে, সবক’টিই জিম্বাবুয়ের হয়ে।

৯.

সাবেক প্রোটিয়া অধিনায়ক কেপলার ওয়েসেলস হলেন ইতিহাসের প্রথম এবং একমাত্র খেলোয়াড় যিনি ‘টেস্ট এবং ওয়ানডে দুই ফরম্যাটেই’ ভিন্ন দুটি দেশের হয়ে খেলেছেন।

আশির দশকে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২৪ টি টেস্ট এবং ৫৪ টি ওয়ানডে খেলা ওয়েসেলস পরবর্তীতে প্রোটিয়াদের জার্সি গায়ে খেলেছেন ১৬ টি টেস্ট এবং ৫৫ টি ওয়ানডে।

১০.

১৯৯৯ বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের হয়ে খেলা বাঁহাতি ব্যাটসম্যান গ্যাভিন হ্যামিল্টনের কথা মনে আছে কারও? ইংল্যান্ডের হয়ে একটি টেস্ট খেললেও কখনো ওয়ানডে খেলার সুযোগ পান নি হ্যামিল্টন। কেবল স্কটিশদের হয়েই অংশ নিয়েছেন ৫০ টি ওয়ানডে ম্যাচে।

১১.

ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক ক্রিকেটার ক্লেটন ল্যাম্বার্ট প্রথম ব্যক্তি যিনি দুটি ভিন্ন দেশের হয়ে “কেবল ওয়ানডে” খেলেছেন।

১৯৯০ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে পাঁচটি টেস্ট ও ১১টি ওয়ানডে খেলা ল্যাম্বার্ট ২০০৪ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে খেলেছিলেন একটি ওয়ানডে।

১২.

নব্বইয়ের দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ৬৩ টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা সাবেক ফাস্ট বোলার অ্যান্ডারসন কামিন্স অবসরের পর খেলেছেন কানাডার হয়ে। ২০০৭ সালে কানাডার জার্সি গায়ে ১৩টি ওয়ানডে ম্যাচে অংশ নিয়েছেন তিনি।

১৩.

দুই দেশের হয়ে ওয়ানডে খেলার আরো একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলেন সাবেক ইংলিশ উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান জেরাইন্ট জোন্স।

তিনি ২০০৪ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত ইংলিশদের হয়ে ৩৪টি টেস্ট এবং ৪৯টি ওয়ানডে খেলার পর ২০১৪ এর নভেম্বরে পাপুয়া নিউগিনির হয়ে খেলেছেন দু’টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ।

১৪.

ইংল্যান্ডের হয়ে নয়টি ওয়ানডে খেলা সাবেক ক্রিকেটার ডগলাস ব্রাউনও পরে স্কটল্যান্ডের হয়ে অংশ নিয়েছেন ১৬ টি ওয়ানডেতে।

১৫.

জন্মসূত্রে আইরিশ এউইন মরগ্যান ওয়ানডে খেলেছেন আয়ারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ড দু’দলের হয়েই।

২০০৬ সালে আয়ারল্যান্ডের জার্সিতে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর ওয়ানডে অভিষেক। আইরিশদের হয়ে ২৩টি ওয়ানডে খেলা মরগ্যান ২০০৯ সালে জার্সি বদলে হয়ে যান ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়।

আয়ারল্যান্ডের হয়ে ২০০৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলেছেন মরগ্যান। পরে ইংলিশদের হয়ে খেলেছেন ২০১১ ও ২০১৫ বিশ্বকাপে। এছাড়া ২০০৯-২০১৬ পর্যন্ত ইংলিশদের হয়ে পাঁচটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা এই বাঁহাতি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দলটির অধিনায়কের দায়িত্বও পালন করছেন বেশ কিছুদিন ধরে।

১৬.

আয়ারল্যান্ডে জন্ম নেওয়া আরো দুজন ক্রিকেটার আছেন যারা টি-টোয়েন্টি এবং ওয়ানডেতে ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড দুই দেশেরই প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাঁরা হলেন বাঁহাতি টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান এড জয়েস এবং ডানহাতি ফাস্ট বোলার বয়েড র‍্যাংকিন।

★ এড জয়েস- ইংল্যান্ডের হয়ে ১৭ ওয়ানডে, দু’টি টি-টোয়েন্টি এবং আয়ারল্যান্ডের হয়ে ৫৭ ওয়ানডে, ১৬ টি-টোয়েন্টি।

★ বয়েড র‍্যাংকিন – আয়ারল্যান্ডের হয়ে ৪৪ ওয়ানডে, ২৪ টি-টোয়েন্টি এবং ইংল্যান্ডের হয়ে ৭ ওয়ানডে, দু’টি-টোয়েন্টি।

এরা দু’জনই আয়ারল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু করেছেন, পরে খেলেছেন ইংল্যান্ডের হয়ে। আবার দু’জনই পরবর্তীতে ফিরেও এসেছেন জন্মভূমি আয়ারল্যান্ডে! সম্প্রতি দু’জনেরই টেস্ট অভিষেক হয়ে গেছে আয়ারল্যান্ডের হয়ে।

এদের মধ্যে এড জয়েস আবার উভয় দলের হয়ে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও খেলে ফেলেছেন। র‍্যাংকিন অবশ্য কেবল নিজ দেশ আয়ারল্যান্ডের হয়েই ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের বিশ্বকাপে অংশ নিতে পেরেছেন।

মজার ব্যাপার হল, ওয়ানডেতে বয়েড র‍্যাংকিনের বলে ‘সতীর্থ’ এড জয়েস দুইবার আউটও হয়েছেন! একবার ইংল্যান্ডের জার্সিতে, আরেকবার আয়ারল্যান্ডের জার্সিতে!

এখানে একটু যোগ করা উচিৎ যে, জয়েসদের পরিবারের মোট পাঁচজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। জয়েস বাদে বাকি চারজনই খেলেছেন আইরিশদের হয়ে। এর মধ্যে আছেন এড জয়েসের দুই ভাই ডম জয়েস ও গাস জয়েস। এর মধ্যে সবার ছোট ডম খেলেছেন তিনটি ওয়ানডে, আর সবার বড় গাসের আন্তর্জাতিক অভিষেক না হলেও খেলেছেন একটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ।

বাকি দু’জন হলেন ‍দুই জমজ বোন সেসেলিয়া জয়েস ও ইসাবেলা জয়েস। এর মধ্যে ইসাবেলা ৭৮ টি ওয়ানডে, ৪২ টি টি-টোয়েন্টি ও একটি টেস্ট খেলেছেন। সেসেলিয়া ৫৬ টি ওয়ানডে ও ৩২ টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন।

১৭.

নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৪ টেস্ট, ৮১ ওয়ানডে আর ২৯ টি-টোয়েন্টি খেলা সাবেক উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান লুক রনকির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুটা হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার হলুদ জার্সি গায়ে।

২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তিনটি টি-টোয়েন্টি ও চারটি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন তিনি।

১৮.

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক বাঁহাতি ফাস্ট বোলার ডার্ক ন্যানেস ২০০৯ সালের আইসিসি ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টি আসরে দু’টি ম্যাচ খেলেছিলেন নেদারল্যান্ডসের কমলা জার্সিতে।

তাঁর ওয়ানডে অভিষেকও হয়েছিল একই বছর, তবে সেটা হলুদ জার্সিতে। একটি ওয়ানডে ছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১৫ টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অংশ নিয়েছেন ন্যানেস।

 

১৯.

সাবেক বাঁহাতি স্পিনার ও অলরাউন্ডার রোয়েলফ ভ্যান ডার মারউই ২০০৯-১০ পর্যন্ত প্রোটিয়াদের হয়ে খেলেছেন ১৩ টি ওয়ানডে ও ১৩ টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। ২০১৫ সালের পর থেকে তিনি গায়ে জড়িয়েছেন নেদারল্যান্ডসের কমলা জার্সি। ইতিমধ্যেই ১১ টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে তাঁর।

২০.

সাবেক অজি ক্রিকেটার রায়ান ক্যাম্পবেলের ক্ষেত্রেও ঘটেছে একই ঘটনা। নিজ দেশ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দু’টি ওয়ানডে খেলার পর তিনি হংকংয়ের হয়ে অংশ নিয়েছেন তিনটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে।

২১.

নিউজিল্যান্ডের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি জার্সিতে সম্প্রতি অভিষিক্ত চাইনিজ বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার মার্ক চ্যাপম্যান দু’দেশের হয়ে খেলা ক্রিকেটারদের তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন। এর আগে হংকংয়ের হয়ে ১৯টি টি-টোয়েন্টি ও দু’টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন এই বাঁহাতি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।

চাইনিজ মায়ের সন্তান চ্যাপম্যানের জন্ম হংকংয়ে হলেও বাবার জন্মসূত্রে তিনি নিউজিল্যান্ডের নাগরিক। গত দুই বছর ধরে তিনি নিয়মিত খেলছেন নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া লিগে।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।