দিন শেষে এটা স্রেফ বিনোদন!

ক্রিকেট কোন মাদক না। ক্রিকেট হলো রিক্রিয়েশন। কারো জন্যে প্যাশন। ক্রিকেটের জন্যে কোনকিছু থেমে নেই। সোশাল মিডিয়ায় বাংলাদেশের খেলা থাকলে, বিশেষ করে উত্তেজনাপূর্ণ খেলা হলে সেদিন আর কোন খবর আপনি সোশাল মিডিয়ায় পাবেন না।

অনেক ‘ইস্যু’ চাপা পড়ে যায় দেখে যদি মাথা চাপড়ালে, সেটা আপনার সমস্যা। সোশাল মিডিয়ায় এসে প্রতিদিন একটা করে ইস্যুর সমাধান করে দিয়ে যাবেন তাই কী হয়! সব ব্যবসাতেই মন্দা থাকে। একটা দিন ইস্যু চাপা পড়ে গেলে কিছুই থেমে থাকবে না।

সারাদিন ডিভাইসের সামনে বসে থাকলে মনে হওয়াটা স্বাভাবিক, যে এই ছোট ছোট খোপের ভেতর দিয়েই সব পরিচালনা করা সম্ভব। অত সহজ না। সোশাল মিডিয়াকে ভালো উদ্দেশ্যে, মহৎ উদ্দেশ্যে অবশ্যই কাজে লাগানো যায়। অনেক কাজ হয়েছেও। সেগুলি কখনই ক্রিকেটের কারণে থেমে থাকে নি, থাকবেও না।

ক্রিকেট আমাদের অন্যতম প্রধান বিনোদন মাধ্যম। আমাদের বিনোদন দরকার। বিনোদন ছাড়া জীবন অর্থহীন। প্রাচীনকালে মানুষের যখন কোনকিছুই ছিলো না, তখন তারা গুহাচিত্র এঁকেছে। তখন থেকেই আমাদের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গেছে। আমরা শুধুমাত্র খাদ্যগ্রহণ আর প্রজননযন্ত্রের ব্যবহার করে জীবন কাটাতে পৃথিবীতে আসি নি। আমরা গাইতে শিখেছি, আঁকতে শিখেছি, খেলতে শিখেছি। এসব না থাকলে বেশিরভাগ মানুষ আত্মহত্যা করতো।

আপনি উন্নত বিশ্বের উদাহরণ দিতে চান? আমেরিকায় বাস্কেটবল, বেজবল নিয়ে কিরকম ক্রেইজ আছে জানেন তো? ইংল্যান্ডে তো ফুটবল ক্লাবের সমর্থকদের বিভিন্ন গুন্ডাগোষ্ঠীই আছে, যারা নানারকম সহিংসতা করে বেড়ায়। আমাদের এখানে তো কেউ সহিংসতা করছে না! খেলাই দেখছে। হ্যাঁ, খেলাটার দৈর্ঘ্য একটু বেশি। কিন্তু বছরের ৩৬৫ দিনে কয়দিন মানুষ সারাদিন খেলা নিয়ে মজে থাকে? আর মজে থাকলেও তো কাজ করে!

ক্রিকেট খেলার কারণে কি অফিস, ব্যাংক, হাসপাতাল বন্ধ থাকে? আচ্ছা যখন ক্রিকেট নিয়ে আমাদের এত উন্মাদনা ছিলো না, তখন আমরা কী কী উন্নতি করেছি জীবনে? তখন কেমন ছিলো আমাদের দেশ? একটু ভাবুন।

ক্রিকেট খেলাতে জয়ই কি আমাদের জীবনের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে? আমরা অন্য কোন অর্জনের প্রতি এমন কোন প্যাশন দেখাতে পারছি না কেন? এই পয়েন্টটা গুরুত্বপূর্ণ। খেলা, সঙ্গীত, সিনেমা ইত্যাদি বিনোদন মাধ্যমে যত অ্যাড্রোনালিন ক্ষরণ হয় তার বাহ্যিক প্রকাশটা খুবই দৃষ্টিগ্রাহ্য। কিন্ত তা অতি অল্প সময়েই বিলীন হয়ে যায়। একটা ম্যাচ হারার দুঃখ কয়দিন থাকে? এক দিন? দুই দিন? এক সপ্তাহ? এর চেয়েও বেশি?

দুর্নীতিমুক্ত দেশ, দূষণমুক্ত দেশ, সহিংসতামুক্ত দেশের মত বড় বড় লক্ষ্য অর্জন অ্যাড্রোনালিন রাশ দিয়ে হয় না। আমাদের যদি সৎ উদ্দেশ্য থাকে, তাহলে বছরে দু-চারদিন ক্রিকেট খেলায় আনন্দ-উল্লাস করা এসবক্ষেত্রে কোনভাবেই বাধা হয়ে দাঁড়াবে না, নিশ্চিত থাকুন।

সম্ভব হলে নিজে খেলুন, এবং আপনার সন্তানকে ক্রিকেট খেলতে উৎসাহিত করুন। শরীর-মন চাঙ্গা রাখতে ধূলো মাখা খেলার বিকল্প নেই।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।