মার্কিন মুল্লুকে ক্রিকেট স্বর্গ

ফ্লোরিডার লডারহিল, সেন্ট্রাল ব্রোওয়ার্ড  ডিস্ট্রিক্ট পার্ক স্টেডিয়াম। বিশ্বের পঞ্চম দল হিসেবে এখানে অভিষেক হবে বাংলাদেশের। ইতোমধ্যে এই ভেন্যুতে ম্যাচ খেলে ফেলা বাকি চার দল হল- নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই চার দলই যেক’টি ম্যাচ খেলেছে, সবগুলোই ছিলো টি-টোয়েন্টি। নিউজিল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ চারটি করে, শ্রীলংকা-ভারত দু’টি করে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে। ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজের একটি ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়।

২০১০ সালের ২২ মে এই ভেন্যুর অভিষেক ঘটে। নিউজিল্যান্ড-শ্রীলঙ্কার মধ্যকার দুই ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম লড়াই ছিলো সেটি। ম্যাচটি ২৮ রানে জিতে নেয় নিউজিল্যান্ড। পরের দিন সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচ সাত উইকেটে জিতে ১-১ ব্যবধানে সিরিজ শেষ করে শ্রীলংকা।

এর দু’বছরেরও বেশি সময় পর আবারো এখানে অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এবার দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলে নিউজিল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২০১২ সালের ৩০ জুন সিরিজের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৫৬ রানে হারিয়ে দেয় ক্যারিবীয়রা। পরের দিন সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৬১ রানে জয় লাভ করে।

নিউজিল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজের লড়াই শেষে চার বছর বাদে আবারো এখানে টি-২০ সিরিজ অনুষ্ঠিত হয়। এবার মুখোমুখি হয় ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২০১৬ সালের ২৭ আগষ্ট অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওপেনার এভিন লুইসের ৪৯ বলে ১০০ রানের সুবাদে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৪৫ রান করে ক্যারিবীয়রা। জবাবে লোকেশ রাহুলের ৫১ বলে অপরাজিত ১১০ রানের পরও ১ রানে হারের স্বাদ নিতে হয় ভারতকে।

তবে পরের ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই ভেন্যুতে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ দলীয় রান ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ২০১৬ সালের আগষ্টে ভারতের বিপক্ষে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৪৫ রান করেছিলো ক্যারিবীয়রা।

সর্বনিম্ন দলীয় রান ৮১। ২০১০ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৭.৩ ওভারে মাত্র ৮১ রানেই গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। এই ভেন্যুতে রানের হিসেবে বড় ব্যবধানে জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ২০১২ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৬১ রানে জিতেছিলো ক্যারিবীয়রা। উইকেটের দিকে থেকৈ বড় জয় শ্রীলঙ্কার। ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৭ উইকেটে জিতেছিলো লঙ্কানরা। রানের দিক থেকে সবথেকে ছোট জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ২০১৬ সালে ভারতের বিপক্ষে এক রানে জিতেছিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

এখানে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের জনসন চার্লস। ৪ ম্যাচের ৪ ইনিংসে ১টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ১৮২ রান করেন তিনি। ইনিংসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান ভারতের রাহুলের। ২০১৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৫১ বলে ১২টি চার ও ৫টি ছক্কায় অপরাজিত ১১০ রান করেন তিনি।

এই ভেন্যুতে সবচেয়ে বেশি ছক্কাও হাকিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের চার্লস। ১০টি। এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি নয়টি ছক্কা মারার রেকর্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজের লুইসের। ২০১৬ সালে ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে নয়টি ছক্কা মারেন তিনি।

বল হাতে সেরা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সুনীল নারাইন। ৪ ম্যাচের ৩ ইনিংসে ১১ ওভারে ৯৬ রান দিয়ে ৭ উইকেট নিয়েছেন তিনি।

উইকেটরক্ষক হিসেবে সবচেয়ে বেশি ডিসমিসাল ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিনেশ রামদিনের। ২ ম্যাচে তিনটি ডিসমিসাল করেন তিনি। তিনটিই স্টাম্পিং। সবচেয়ে বেশি ক্যাচ ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডোয়াইন ব্রাভোর। চার ম্যাচের চার ইনিংসে চারটি ক্যাচ নেন তিনি।

রানের দিক দিয়ে এই ভেন্যুতে সেরা জুটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের চার্লস ও লুইসের। ২০১৬ সালে ভারতের বিপক্ষে প্রথম উইকেট জুটিতে ১২৬ রান করেছিলেন তারা।

এই ভেন্যুতে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৫১ বছর বয়সী জোয়েল উইলসন। ২০১২ সালে অভিষেকের পর চারটি ম্যাচ পরিচালনা করেন তিনি।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।