ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা, সানার একাগ্রতা ও নিউজ ট্রিটমেন্ট কালচার

প্রত্যেকটা খেলার আলাদা টোন আছে। নির্দিষ্ট বাজ তৈরি করে। একটা উদাহরণ দেই। ২০০০ সালের এপ্রিলের দিকে ঢাকায় বিশ্ব একাদশ আর এশিয়া একাদশের খেলা হয়েছিল। ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা তখন উঠতি। এলিট ক্লাস তো বটেই মধ্যবিত্তের এন্টারটেইনমেন্ট হয়ে ওঠে তখন ক্রিকেট। টেলিভিশনের কল্যাণে ৯৯ বিশ্বকাপের রেশ তখনো বাংলাদেশে।

তার ওপর পাকিস্তানকে হারানো, টেস্ট খেলার হাতছানি সব মিলিয়ে বাংলাদেশে একটা বাজার তৈরি হয় ক্রিকেটের। শচীনের আলা রে আলা বিজ্ঞাপনও রোমাঞ্চ জোগায় তখন, মুহূর্ত, ফ্রেম, সময়, শট সব মিলিয়ে ক্রিকেট একটা বড় ব্যবসার উপকরণ হবে সেটা তখনই বলা দেয়া যায়। সেসময়কার গ্রেটরা তো আক্ষেপের সুরেই বলে দেন, যে আমরা কেনো ২০১০ এর খেলোয়ার নই!

ফুটবল নিয়ে আলাদাভাবে কিছু লিখবো না, এটা বিশ্বের একমাত্র সার্বজনীন উৎসব বা ধর্ম, তবুও ৮৬ তে মারাদোনা, ৯৮-২০০২ তে রোনালদো, রোনালদিনিয়ো, ফুটবলের তো বটেই ব্রাজিল/আর্জেন্টিনা একটা বাজ তৈরি করে দিয়ে যায় উপমহাদেশে, যেখানে ইউরোপীয় ফুটবলের তুঙ্গে থাকা স্বত্বেও ভক্ত তৈরিতে অনেক পিছিয়ে গত দুই দশকে।

এবারে আমি আপনাদের অভিযোগের জায়গায়।

রোমান সানা আমার খুব প্রিয় খেলোয়াড়। সে অনেক হার্ড ওয়ার্ক করে এই জায়গায় এসেছে। সে তাঁর প্রাপ্য অর্জনও পাচ্ছে, কিন্তু এই কাভারেজের হাহাকারের জ্বরে তাকে বিদ্ধ করা হচ্ছে সেটা নিয়ে আমার অতি অবশ্যই আপত্তি আছে। আর্চারি একটা প্রফেশনাল খেলা হয়েছে বাংলাদেশে এই তথ্য খুব কম মানুষের জানা আছে।

আর আর্চারি একটা নীরব খেলা, যেখানে আপনি নিউজ কাভার করতে গেলেও বুঝবেন যে খেলাটা ঠিক দর্শকদের জন্য না। এখানে খেলোয়াড়ের মনোযোগ, তাঁর একনিষ্ঠতা ধরে রাখার জন্য অনেক দেশে মিডিয়া এন্ট্রান্সও খুব কম দেয়। তাই এই খেলাটা আপনি চাইলেই জনগণের খেলা বানিয়ে ফেলতে পারবেন না।

আর পত্রপত্রিকা বা টেলিভিশনে সাংবাদিকরা সাধারণত যেটা করি সেটা হলো জনগণের প্রশ্নের খোরাক মেটাই। তাই রোমান সানার এই জয়কে সাধুবাদ জানানো আর তাতে নিউজ ট্রিটমেন্টের অভিযোগ জানানো দুটো আলাদা বিষয়। তার চেয়ে বরং দেশের গুলিস্তান ভিত্তিক স্পোর্টস সিস্টেমের উত্তরণে যেসব বাঁধা তা নিয়ে সংবাদ করেন।

এই মিছে আক্ষেপের আরো দু্ইটা কঠিন সত্য বলি, আপনাদের কাউকে কাল বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান ম্যাচের কার্ড থাকা স্বত্বেও টঙ্গীতে আর্চারি স্টেডিয়ামে যদি পাঠানো হয় আর্চারি কাভার করতে তখন আপনারা কি একই কথা বলবেন? আর খেলার টোন বজায় রাখাটা জরুরী, কোনো কোনো খেলায় রমরমা ভাবটা ভালো লাগে।  কিছু খেলা নীরব থাকে, একদিন কুর্মিটোলায় আমি এক ক্যামেরা পারসন কে বলতে শুনেছি, সিদ্দিকুর রহমান শট নেয়ার আগে, ‘সিদ্দিক ভাই, একটু ফোকাস করে নেই, এর পর শটটা মারেন।’

তাই আলগা জনপ্রিয়তা দিয়ে লাভ নেই। রোমান সানা তার জায়গায় সফল। তাঁকে সফলতা উপভোগ করতে দেই। খেলার সার্বজনীনতা আলাদা জিনিস। চাইলেই আপনি ম্যারাডোনা বা শচীনের জায়গায়, রোরি ম্যাকলরিকে বসিয়ে দিতে পারেন না। যে যার জায়গায় সফল ও সন্তুষ্ট আছে।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।