অথচ বিশ্বকাপ খেলারই সুযোগ হয়নি তাঁদের!

বিশ্বকাপ হল বড় ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সের মঞ্চ। ভিভ রিচার্ডস, শচীন টেন্ডুলকার, শেন ওয়ার্নসহ আরো বেশ কিছু দুর্দান্ত ক্রিকেটার আছেন যারা সবফর্মেটেই সাফল্য পেয়েছেন, সাফল্য পেয়েছেন বিশ্বকাপেও। তবে, এর বাইরেও কিছু ক্রিকেটার আছেন, যারা অন্যান্য ফরম্যাটে বিস্তর সাফল্য পেলেও কখনোই ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাননি।

এদের মধ্যে অনেকের ভাগ্য সহায়তা করেনি। কেউ কেউ  ছিলেন, যারা ফরম্যাট অনুযায়ী বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার মত যোগ্য ছিলেন না। এমনই পাঁচ ক্রিকেটারকে নিয়েই আমাদের এই আয়োজন।

  • ভিভিএস লক্ষণ (ভারত)

একজন গ্রেট মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ছিলেন ভিভিএস লক্ষণ। যিনি শচিন টেন্ডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলি এবং রাহুল দ্রাবিড়ের মত গ্রেটদের আমলে খেলেছেন। তিনি টেকনিক্যালি উঁচু মানের, প্রতিভাধর এবং আজহার উদ্দিনের মত চটপটে স্বভাবের জন্য পরিচিত ছিলেন।

১৯৯৬ সালে অভিষেক হওয়ার পর দীর্ঘ ১৬ বছর ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। ৪৫.৯৭ গড়ে ১৩৪ টেস্টে লক্ষণ ৮৭৮১ রান করেছেন। তবে ওয়ানডে ক্রিকেটে মধ্য মানের একজন খেলোয়াড় ছিলেন হায়দারাবাদের এই স্টাইলিশ ব্যাটসম্যান। মাত্র ৩০.৭৬ গড়ে ৮৮ ওয়ানডেতে তার রান সংখ্যা ২৩৩৮।

মুলত বীরেন্দ্র শেবাগ, যুবরাজ সিং এবং অন্য আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়রা পছন্দের তালিকায় থাকার কারণেই তিনি কখনো বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে পারেননি। এমনকি কখনো বিশ্বকাপের স্কোয়াডেও রাখা হয়নি তাঁকে।

২০০৩ বিশ্বকাপে তাঁর বিশ্বকাপে খেলাটা ঠিকই হয়ে ছিল অনেকটা। কিন্তু, শেষ মুহূর্তে দলে পরিবর্তন আনা হয়। লক্ষণকে রেখে দলে নেওয়া হয় দিনেশ মঙ্গিয়াকে।

  • অ্যালিস্টেয়ার কুক (ইংল্যান্ড)

২০০৬ সালে অভিষেক হওয়ার পর ১২ বছরের ক্যারিয়ারে ইংল্যান্ডের হয়ে ১৬১ টেস্ট খেলেছেন অ্যালিস্টেয়ার কুক। ছিলেন টেস্ট অধিনায়কও। ৪৫.৩৫ গড়ে ১২৪৭২ রানের বিশাল সংগ্রহ রয়েছে তাঁর। তারকা এই খেলোয়াড় সব সময়ই চ্যালেঞ্জ নিতে এবং নিজস্ব ঢংয়ে খেলতে প্রস্তুত ছিলেন।

তবে তিনি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন মাত্র ৯২ টি। যেখানে ৩৬.৪০ গড়ে তার রান ৩২০৪। কুক ছিলেন কিছুটা ধীরস্থির প্রকিৃতির। অর্থাৎ মাঠে নেমে থিতু হতে কিনি কিছুটা সময় নিতেন এবং আগ্রাসী ছিলেন না। সম্ভবত এ কারণেই তিনি কখনো বিশ্বকাপ খেলতে পারেননি।

  • জাস্টিন ল্যাঙ্গার (অস্ট্রেলিয়া)

অস্ট্রেলিয়ার সর্বকালের সেরা ওপেনারদের একজন ছিলেন জাস্টিন ল্যাঙ্গার। তিনি এবং ম্যাথু হেইডেন ১১৩ টেস্ট ইনিংসে জুটিবদ্ধভাবে ৫১.৮৮ গড়ে ৫৬৫৫ রান করেছেন। একজন কার্যকর ড্রাইভার এবং বল কাটার ছিলেন তিনি। ক্যারিয়ারে ১০৫ টেস্টে ৪৫.২৭ গড়ে ল্যাঙ্গারের রান ৭৬৯৬।

তবে ওয়ানডেতে তিনি কখনোই সাফল্য পাননি। ল্যাঙ্গার মাত্র আটটি ওয়ানডে খেলেছেন। বিশ্বকাপ দল গঠনেও তাই তাঁকে কখনো বিবেচনাই করা হয়নি।

  • ম্যাথু হগার্ড (ইংল্যান্ড)

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০০০ সালে ইংল্যান্ডের হয়ে অভিষেক হওয়ার পর আট বছর খেলেছেন ম্যাথু হগার্ড। এই সময়ে ৬৭ টেস্ট ক্যারিয়ারে ৩.২৬ ইকোনোমি রেটে ৩০.০৫ গড়ে ২৪৮ উইকেট শিকার করেন তিনি। তিনি ছিলেন অসাধারণ একজন টেস্ট খেলোয়াড়। কিন্তু ওয়ানডে ক্রিকেটে একই ধরণের সাফল্য তিনি পাননি। ২৬ ওয়ানডেতে ৩৬ গড়ে তিনি ৩২ উইকেট শিকার রয়েছে হগার্ডের।

দীর্ঘ দেহী এবং পেশীবহুল হওয়ায় তিনি দ্রুত গতিতে বোলিং করার পাশাপাশি উইকেটের যে কোন দিকে বল ঘুড়াতে পারতেন তিনি। ২০০৩ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড দলে জায়গা পান তিনি। তবে কোন ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি হগার্ড।

  • ক্রিস মার্টিন (নিউজিল্যান্ড)

২০০০ সালে অভিষেক হওয়ার পর দীর্ঘ ১৩ বছর নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলেছেন ডান হাতি মিডিয়াম ফাস্ট বোলার ক্রিস মার্টিন। ৭১ টেস্টে ৩.৩৭ ইকোনোমি রেটে এবং ৩৩.৮১ গড়ে ২৩৩ উইকেট শিকার করেন তিনি। তবে ওয়ানডে দলে কদাচিত তিনি নির্বাচকদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন। অর্থাৎ কখনোই বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাননি তিনি।

টেস্টে অনেক ম্যাচ খেললেও মাত্র ২০ টি ওয়ানডে খেলেছেন তিনি। সীমিত ওভারের ম্যাচে ৪৪.৬৬ গড়ে তিনি শিকার করেন ১৮ উইকেট। ইনজুরিতে পড়া ড্যারিল টাফির বদলি হিসেবে একবার তাকে বিশ্বকাপ দলে রাখা হয়েছিল। তবে কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি মার্টিন।

স্পোর্টসকিডা অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।