মুগ্ধতা জাগানিয়া এক ফুলের বাগান ও তার মালি

সংখ্যাটির দিকে যতবার তাকাতাম, ততই অবিশ্বাস্য লাগত। এটা সত্যিই সম্ভব!

বলছিলাম ছেলে বেলার কথা, যখন ক্রিকেটের রেকর্ড-পরিসংখ্যান-স্কোর, সব টুকে রাখতাম ঢাউস সাইজ রেজিস্টার খাতায়। একটি রেকর্ড ছিল টানা টেস্ট ম্যাচ খেলার। রেকর্ডটি টুকে রেখেও বিশ্বাস হতে চাইত না। কত জায়গায় যে রেফারেন্স দেখতে চেয়েছি, আসলেই টানা ১৫৩ টেস্ট খেলেছিলেন অ্যালান বোর্ডার!

স্যার ডনের ব্যাটিং গড়, জ্যাক হবসের ১৯৯ সেঞ্চুরি, হেডলি ভেরিটির ১০ রানে ১০ উইকেট, উইলফ্রেড রোডসের প্রায় ৪০ হাজার রানের পাশে ৪ হাজার ২০০ উইকেট… এরকম অবিশ্বাস্য যত রেকর্ড আছে ক্রিকেটের, বোর্ডারের রেকর্ডটিকে সেসবের শুরুর দিকে রাখতাম। কতজন তো নেটে গেলেও ইনজুরিতে পড়ে।

সেখানে কোনো চোট-টোট নেই, অফ ফর্মের কারণে বাদ পড়া নেই। অন্য কোনো কিছুও বাধা হতে পারেনি। অধিনায়কত্বের তুমুল চাপ, অস্ট্রেলিয়াকে নতুন যুগ এনে দেওয়ার লড়াইয়ে অবসাদের শঙ্কা, এসব তো ছিলই। সব কিছুই জয় করে বোর্ডার খেলেছিলেন টানা ১৫৩ টেস্ট। সত্যি জেনেও কেমন বিশ্বাস হতে চাইত না।

রেকর্ডটিকে একসময় অমর বলেই মনে হতো। তবে গত কয়েক বছরে সেই অমরত্বকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ছুটছিলেন অ্যালিস্টেয়ার কুক। অবশেষে পেলেন চূড়ার দেখা। বোর্ডারের সেই অবিশ্বাস্য রেকর্ডকেও ধরে ফেলার অভাবনীয় কীর্তি গড়লেন কুক। পাকিস্তানের বিপক্ষে লর্ডস টেস্ট তার টানা ১৫৩ তম টেস্ট!

২০০৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ছিলেন একাডেমি দলের হয়ে। জাতীয় দল তখন ভারত সফরে। হুট করে মানসিক অবসাদ নিয়ে ছিটকে গেলেন মার্কাস ট্রেসকোথিক। চোট বাধালেন অধিনায়ক মাইকেল ভন। ডাক পড়ল কুকের। একাডেমি দলের একটি ম্যাচের মাঝপথেই এক ইনিংস খেলে ছুটলেন ভারতের পথে। নাগপুরে টেস্ট অভিষেকেই ৬০ ও অপরাজিত ১০৪।

খেলেছিলেন মোহালিতে পরের টেস্টেও। তবে ছিলেন না সিরিজের শেষ টেস্টে। ক্যারিয়ারে ওই একটি টেস্টই খেলতে পারেননি।

ওই বছরই মে মাসে লর্ডসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে যে পথচলা শুরু হলো, এক যুগ পর এই মে মাসে সেই লর্ডসেই যেন পূর্ণ হলো একটি বৃত্ত। ধরা দিল অসাধারণ এক মাইলফলক। টানা ১৫৩ টেস্ট

বোর্ডারও ক্যারিয়ারে কেবল একটি টেস্টই মিস করেছিলেন। ১৯৭৮-৭৯ অ্যাশেজের দ্বিতীয় টেস্টে অভিষেক। টানা তিনটি খেলার পর ছিলেন না ষষ্ঠ ও শেষ টেস্টে। পরের মাসেই পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট দিয়ে আবার ফেরা, টানা খেলেছেন অবসর নেওয়ার আগ পর্যন্ত।

কুকও এগোচ্ছেন সেই পথেই, অবসর পর্যন্তই টানা! পরের টেস্টেই হয়ত রেকর্ডটি শুধু নিজের করে নেবেন। এরপর নিজেকে আরও উঁচুতে তুলে নেওয়ার পালা।

আপাতত, তার জন্য থাকল অভিনন্দনের মালা। সামনের প্রতিটি টেস্টে সেই মালায় যোগ হবে মুগ্ধতা জাগানিয়া একেকটি ফুল।

– ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।