সাকিব-শিশিরের মেয়ে ও কুরুচিপুর্ণ বাংলাদেশি পুরুষ

সবাই কমবেশি জানেন সাকিব আল হাসানের মেয়ের ছবিতে চার বাংলাদেশি পুরুষের কুরুচিপুর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদ অনেকেই করেছেন। এ ব্যাপারে উম্মে আহমেদ শিশির একটি পোস্ট দিয়ে বলেছেন তারা এই চার জনের কমেন্টে কোন গা করছেন না এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন যারা এই চারটি কমেন্ট তুলে ধরেছেন তারা নিজেদের প্রচারণার তা তুলেছেন!

এবার দেখি এই কথার যৌক্তিকতা কোথায়ঃ

১.

‘অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে’ – উনার প্রতিবাদ না করার মনোভাব ইটসেলফ সমস্যাজনক। তবে প্রতিবাদ না করার অধিকার তাঁর আছে তা মানতে হবে। অধিকার না বলে এখানে ব্যক্তি স্বাধীনতা বা প্রাইভেসিও বলা যায়।

২.

সন্তানদের মালিক বাবা-মা এই ধারনা থেকে বাংগালিরা অচিরে বের হতে পারবে বলে মনে হয় না। মনে রাখবেন আপনি আপনার মেয়ের মালিক নন।

৩.

আমরা যারা এই ঘটনার প্রতিবাদ করেছি, অধিকাংশের কাছে এটা খারাপ এই জন্য নয় যে এটা সাকিবের মেয়ের প্রতি করা হয়েছে। বরং এজন্য যে বাঙালি অনেক পুরুষেরাই এ ধরনের কুরুচিপুর্ণ মনোভাব পোষণ করে। এই কেইসটা ব্যবহার করেছি মানুষের চোখে আঙুল দিয়ে দেখাতে। আপনি আপনার পরিবারকে এই কজে ব্যাবহৃত হতে নাই দেখতে চাইতে পারেন। আপনি সেটুকু বলেই থামতে পারতেন। কিন্তু না! আপনি ইঙ্গিত করলেন নিজেদের প্রচারণার জন্য মানুষ এর প্রতিবাদ করেছে/ ভাইরাল করছে। আপনি বাংলাদেশের মত দেশের মানুষদের সহজেই এভাবে বলতে পারলেন। কিন্ত যদি উন্নত বিশ্বে এধরনের কমেন্ট করতেন তাহলে ক্ষমা চেয়ে কুল পেতেন না। হয়তো আপনার নামে মানহানি মামলাও হত।

৪.

আপনি সমাজে একটা পরিস্কার মেসেজ দিলেন যে কুরুচিপুর্ণ কমেন্টে ভিকটিমের সম্মানহানী হয়! এটা একটা সুদুরপ্রসারী ভাবনা। এই ভাবনার কারনেই এখনো অনেক রেইপ-ভিক্টিম রিপোর্ট করে না। শুধু সেখানেই শেষ নয়! আপনি সমাজকে উৎসাহিত করলেন ভিক্টিমকে অবমাননা করতে।

৫.

অনেকে উনার পোস্ট শেয়ার করে প্রতিবাদীদের গুষ্টি উদ্ধার করলেন –

  • তাঁদের দের মধ্যে অনেকের নিজের/ নিজের পরিবারের মধ্যে এ রকম মনোভাব থাকতে পারে। উনাদের জন্য প্রতিবাদ দমায় রাখাটা খুবই ইম্পর্টেন্ট।
  • তাঁরা ‘ভদ্র মোরা, শান্ত বড়ো, পোষ-মানা এ প্রাণ বোতাম-আঁটা জামার নীচে শান্তিতে শয়ান’- এ বিশ্বাসী। প্রতিবাদ উনারা পছন্দ করেন না
  • সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল তারা পোস্টের অর্ধেক বুঝেনই নি।

মনে রাখবেন পৃথিবীর অর্ধেক মানুষ মেয়ে, যদি মেয়েরা জাগতো কোন পুরুষই তাদের দাবায় রাখতে পারতো না। কিন্তু তা হয় না কেনো? কারণ, নিন্দুকেরা বলেন নারী অধিকারের সবচেয়ে বড় বাধা নারীরাই। তারা তাদের সমাজ প্রদত্ত বিশ্বাস থেকে বেড়িয়ে আসতে পারেন না।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।