অতি অহংকারী একজন ‘স্বস্তা ভাঁড়’-এর মানসিকতা!

নির্মাতা রেদওয়ান রনি ও ইফতেখার আহমেদ ফাহমির ধারাবাহিক ‘হাউজফুল’-এ অভিনয় করে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বা জনপ্রিয় হয়েছে কে?

এই প্রশ্নে সবাই নির্দ্ধিয়ায় একজনের নাম-ই উত্তরে আসবে। তিনি হলেন সিদ্দিকুর রহমান। পুরো ধারাবাহিকে তাঁর হাসিমাখা কথায় সবাই হাসতো,তাঁর হাসিটাই বিশেষ হয়ে গিয়েছিল হাউজফুলে। শেষের দিকে যখন হাসি বন্ধ করে দিলেন তখন নাটকের অন্যান্য কুশলীদের মত দর্শকদেরও একটাই জিজ্ঞাসা ছিল – ‘সিদ্দিক কেন হাসি বন্ধ করে দিল!’ এর উত্তর যখন সিদ্দিক বলেছিল তখন তাঁর সাথে সাথে সবাই চোখের জল ফেলেছিল।

হাউজফুলের পর মূল অভিনেতা না হয়েও সিদ্দিক হয়ে উঠলেন দর্শকদের অত্যন্ত প্রিয় তারকা। অনেক প্রধান অভিনেতাদেরও তখন এত এত জনপ্রিয়তা ছিল না। মোশাররফ করিমের সঙ্গে জুটি তখন বেশ হিট হয়ে গিয়েছিল। জাহিদ হাসানের সঙ্গে জমে উঠেছিল ‘গ্র‍্যাজুয়েট’।

এর মধ্য দিয়ে সিদ্দিক আরো জনপ্রিয় হয়ে গেলেন। সবাই যেমন জনপ্রিয়তার ভার সহ্য করতে পারেন না, তিনিও পারেন নি। এই জনপ্রিয়তাই অহংকার হিসেবে চলে এলো তাঁর মনে। মোশাররফ, ছবিয়াল ছেড়ে তিনি নিজেই হয়ে উঠলেন প্রধান চরিত্র। সেটা সমস্যা ছিল না, কিন্তু নাটক বাছাইয়ে গোলমাল করে ফেললে। সেগুলো হয়ে উঠলো সস্তা নাটক।

নিজে অভিনয় করছেন, নির্মাণ করছেন। দিনশেষে হয়ে উঠছে সস্তা নাটক। সেই ধারায় এখনো আছেন তিনি। আগের সেই রসিক সিদ্দিকুর রহমান নেই, এখন তিনি স্বস্তা ভাঁড় সিদ্দিকুর রহমান। এমনকি ২০১৩ সালে নায়িকা নিপুণের বিপরীতে ‘এই তো ভালবাসা’ নামের একটা সিনেমাতেও তিনি অভিনয় করেছেন।

তাঁর নাটক যে এখন আর কেউই দেখে না – এটা বলা মনে হয় ভুল হবে। নিশ্চয়ই কেউ না কেউ দেখে, কিন্তু দশ বছর আগের যে দর্শকরা তাঁকে পছন্দ করতেন, তাঁরা কেউই যে তাঁকে এখন পছন্দ করেন না এটা সুনিশ্চিত ভাবে বলা যায়।

অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান হারিয়ে গেছেন অহংকার, স্বস্তা কৌতুকের ভিড়ে। আর মানুষ হিসেবে সম্প্রতি তিনি সমালোচিত হলেন স্ত্রীর সাথে সাংসারিক টানাপোড়েনের ঘটনায়। সিদ্দিক ২০১২ সালের ২৪ মে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত স্পেনের নাগরিক ও মডেল মারিয়া মীমকে বিয়ে করেন। কিন্তু, বছর ‍দুয়েক হল আলাদা থাকছেন তাঁরা।

স্ত্রীর দাবী, সিদ্দিক মিডিয়া অঙ্গনে তাঁর কাজের মূল বাঁধা। আড়ালে প্রযোজকদের গিয়ে বলে আসেন যেন কোনো ভাবেই তাঁর স্ত্রীকে কাজ দেওয়া না হয়। সিদ্দিক সেই অভিযোগ অস্বীকার করেন না।

তবে, তিনি যা বললেন তাতেই তাঁর মানসিকতাটা পরিস্কার, ‘আমার আর্থিক অবস্থা এতটা খারাপ না যে আমার বউকে মিডিয়াতে কাজ করে রোজগার করতে হবে। আমি তাকে শতবার বুঝিয়েছি, মিডিয়াতে কাজ করা লাগবে না। সংসার, সন্তান দেখাশোনা করুক। আমার ঘরের রানী হয়েই থাকুক। সে মানতে রাজি না।’ মানে, স্ত্রী যত যোগ্যই হোক না কেন তাঁকে জীবন কাটাতে হবে স্বামী-সংসার নিয়েই। জ্বি, আজকের দিনে বসেও মিডিয়াতে কাজ করা পরিচিত এক ব্যক্তির মুখের কথা এটা।

অভিনেতা হিসেবে সিদ্দিক যে জায়গাটা হারিয়েছেন, আর কখনো সেটা ফিরে পাবেন কি না জানা নেই। কোনো একজন জনপ্রিয় নির্মাতা নজর দিলেই হয়তো চিত্রটা একটু পাল্টাবে। কিন্তু, মানসিকতার যে করুণ দশা, তার থেকে আদৌ কি কখনো উত্তরণ ঘটবে?

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।