ইচ্ছা করে না – এমন ভালোবাসায় আবার সিক্ত হতে!

‘চাক দে ইন্ডিয়া’ সিনেমার ক্লাইম্যাক্সে যখন কবির খান রূপী শাহরুখ খানের চোখের কোনে পানি, বুকের ভেতর গর্ব, মুখ ঠিকরে বের হয়ে আসতে চাইছে খুশি, মাথার উপর থেকে নেমে যাবে কলঙ্কের বোঝা কিন্তু কোথায় যেনো কি একটা আটকে আছে?

একটা সিনেমার ছোট্ট একটা দৃশ্য। অথচ এই এক দৃশ্য দিয়েই বুঝিয়ে দিচ্ছেন কত কি! এ পাশে দর্শকের গায়ের লোম দাঁড়িয়ে গেছে। যেন পর্দার কবির খানের অনুভূতি গুলো অনুভব করতে পারছেন।

‘কাল হো না হো’ সিনেমায় যখন আমান মেহতা তার ভালোবাসার মানুষ কে ভালোবাসা জানাচ্ছিলো কিন্তু রোহিতের হয়ে তখন হৃদয় ছুঁয়ে যায়নি এমন কেউ বুঝি এ তল্লাটে নেই। ভালোবাসা দিয়েছেন, ভালবাসতে শিখিয়েছেন এমনকি ভালবাসাও পেয়েছেনও।

এরকম আরো অসংখ্য সিনেমার নাম নেয়া যাবে তার যা দিয়ে তিনি মানুষ কে সিনেমা দেখাতে শিখিয়েছেন, সিনেমা অনুভব করতে শিখিয়েছেন, পর্দায় অভিনয় করা চরিত্রগুলো কে বাস্তবের কাছাকাছি নিয়ে গেছেন।

কিন্তু বেশ কয়েক বছর হলো শুধু ভক্তদের ভালবাসা পেয়েই যাচ্ছেন কিন্তু নিজে সে ভালোবাসা ফিরিয়ে দিতে পারছেন না। কয়েকটা বছর ভালোবাসা বিমুখ থেকে ভক্তরা ডুবে আছেন হতাশায়। একের পর এক বাজে স্ক্রিপ্ট চয়েজ করার পেছনে তিনি কি ব্যাখ্যা দিবেন তার কোন ঠিক নেই।

শেষ বলার মতো ছবি করেছিলেন ২০১০ সালে ‘মাই নেম ইজ খান’ সিনেমা আর মাঝে ছিলো ‘ডন ২’। একটা মানুষ লাস্ট ৯ বছর ধরে কোন মানের সিনেমা উপহার দিতে পারেননি সেটা ভাবতেই হতাশায় ডুবে যেতে হয়। একটা মানুষ ভারতীয় সিনেমা ইতিহাসের অন্যতম সুপারস্টার, বলিউডের বাদশা যিনি আর তারই কিনা গত ৯ বছরে বলার মতো কোন সিনেমা নেই।

বলিউডে বাবার মতো যাকে শ্রদ্ধা করতেন সেই যশ চোপড়ার সাথে করলেন ‘যাব তাক হ্যায় জান’। রোমান্টিক হিরোর রোল কিন্তু কোথায় যেনো সিনেমাটা কনভিন্সিং কিছু ছিলো না। কিংবা রোহিত শেট্টির সাথে করা ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’ কে যদিও রোহিতিও কমার্শিয়াল ধরি তারপরেও ‘দিলওয়ালে’ আর ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ সিনেমা কেন করেছিলেন আমার মাথায় আসে না। সব শেষে ‘জিরো’!

জিরো দিয়ে তিনি সত্যিই জিরোর কাছাকাছি চলে গিয়েছেন। অন্তত এখন কোন প্রকার সিনেমা হাতে নেই, কোন নতুন কিছু করার ঘোষণা নেই, সব মিলিয়ে হাহাকার।

একটা মানুষ এখনো মাত্র ৪ ঘন্টা ঘুমায়, বই পড়তে খুব ভালোবাসেন যার জন্য নিজের বাসায়ই একটা লাইব্রেরী রয়েছে যেখানে আছে প্রায় ১৫ হাজার বই, প্রতিদিন কমপক্ষে ৩-৪ টা পত্রিকা তিনি পড়ে থাকেন এমনকি তাকে যেকোন টপিক ধরিয়ে দিয়ে একটা মাইক হাতে দিলেই ঘন্টার পর ঘন্টা কথা চালিয়ে যেতে পারেন সেই মানুষ টা গত ৯ বছরে কেন ভক্তদের হতাশায় রেখেছেন এই প্রশ্নের উত্তর আমি খুঁজে পাই না!

সব সেরা সেরা পরিচালকগণ তাদের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে সিনেমাগুলো কেন যেন শাহরুখের জন্যই তুলে রেখে দেন, সেটাও বুঝে উঠতে পারি না।

ভালোবাসার মানুষ, আপনার সিনেমা দিয়েই সিনেমা দেখা শুরু করেছি। আপনিই সিনেমা দেখিয়েছেন, সিনেমার প্রতি ভালোবাসা গড়ে তুলেছেন, সিনেমা বুঝতে শিখিয়েছেন। এতো কিছু করেছেন যে এখন সিনেমা খাই, সিনেমা পড়ি, সিনেমা ঘুমাই।

কিন্তু যে মানুষটার কারণে এই অবস্থা সেই মানুষটা সিনেমা থেকে দূরে থাকবে, একটার পর একটা বাজে সিনেমার স্ক্রিপ্ট বাছাই করবেন – তা মেনে নেয়া যায় না, মানতে পারি না। আবার ফিরে আসুন স্বমহিমায়। আবার আপনার করা চরিত্রের অনুভূতির সাথে নিজের অনুভব কে রাঙিয়ে দেই। আপনার কি ইচ্ছা করে না – এমন ভালোবাসায় আবার সিক্ত হতে?

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।