ইতিহাসের খোঁজে: ঢাকার যত ঔপনিবেশিক স্থাপত্য

প্রায় ৪০০ বছরের গৌরব এবং সমৃদ্ধের ইতিহাস নিয়ে ঢাকা শহরের বেড়ে ওঠা। মোঘল সাম্রাজ্যের শুরু থেকে বাংলার অন্যতম সমৃদ্ধশালী শহর এবং বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত বলে বাণিজ্যিক ভাবে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর হিসেবে ঢাকার পরিচিতি সুদূর পারস্য থেকে ইউরোপ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে মসলিন কাপড়ের প্রসার এই শহরের বাণিজ্যিক গুরুত্ব বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়।

ফলস্বরপ, ঢাকা অতিদ্রুত তৎকালীন সমগ্র বাংলার বাণিজ্যিক রাজধানীতে পরিণত হয়। দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের পদচারনায় মুখরিত হতে থাকে শহরটি। ১৭ থেকে ১৮ শতকের মাঝে ইংরেজ,  ওলন্দাজ, ফরাসীসহ আরো অনেক  ইউরোপীয় বণিকগণ ঢাকায় তাদের ব্যবসার সম্প্রসারণ করে এবং তারা তাদের নিজ নিজ দেশের নামে এই দেশে তাদের নিজস্ব ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ স্থাপন করে ব্যবসার তদারকি শুরু করে।

তৎকালীন সময়ে ইউরোপীয় বণিক সমাজ তাদের ব্যবসার সম্প্রসারনের উদ্দেশ্যে ঢাকায় কলকারখানার পাশাপাশি বেশ কিছু স্থায়ী স্থাপনা গড়ে তুলে, যা মূলত ‘কলোনিয়াল’ বা ঔপনিবেশিক স্থাপনা নামে পরিচিত। কলকাতার মত ঢাকায় এই ধরনের স্থাপনার উপস্থিতি তেমন একটা না দেখা গেলেও, শহরতলীর আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বেশ কিছু মনোমুগ্ধকর ও ঐতিহাসিক স্থাপনা।

যান্ত্রিক ঢাকার বহুতল ভবনগুলোর মাঝে নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রাখা এমন কিছু ঔপনিবেশিক স্থাপনা নিয়ে আজ আমাদের এই আয়োজন।

  • গ্রীক মেমোরিয়াল

অষ্টাদশ শতাব্দীর শুরুতেই বাংলাতে গ্রীক ব্যবসায়ীদের আগমন শুরু হয়।প্রথম দিকে কোলকাতাকে কেন্দ্র করে তাদের ব্যবসা বানিজ্য চালু হলেও পরবর্তীতে তা ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম প্রভৃতি স্থানে বিস্তৃত হয়। ব্যবসায়িক, সামাজিক নানাবিধ কারণে তারা ঢাকা এবং এর আশেপাশে বেশকিছু স্থায়ী স্থাপনা গড়ে তুলে। ১৮২১ সালে পুরান ঢাকার ‘মুকিম কাটরা’ (চকবাজারের পাশে)-তে একটি গ্রীক গীর্জার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। যা ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে বিলীন হয়ে যায়। সুজাতপুরে (রমনা এরিয়া) আরো একটি গ্রীক  সমাধির কথা শোনা যায়।

ডেভিডসন নামক একজন ব্রিটিশ আর্মি অফিসার,  ১৮৪০ সালে  ঢাকা ভ্রমণ করতে এসেছিলেন, তিনিই এই গ্রীক সমাধির দুরবস্থার কথা উল্লেখ করেন।পরবর্তীতে কোলকাতা কেন্দ্রিক দৈনিক “দি স্টেটসম্যান” ১৯১৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এই সম্পর্কিত একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করে,  যেখানে উল্লেখ করা হয়েছিল সেই সমাধি এখন ধ্বংসাবশেষ  এবং আশেপাশের এলাকাবাসী কবরোপরি স্মৃতি স্তম্ভ গুলো চুরি করে ফেলেছে।

অবশেষে, তৎকালীন বাংলার গভর্নর লর্ড কারমাইকেল(১৯১২-১৯১৭) আদেশ করেন ঐ স্থানের সমাধিসমূহের স্মৃতির উদ্দেশ্যে একটি সমাধিস্তম্ভ তৈরী করার। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯১৫ সালে গ্রীক প্রতিষ্ঠান MANGOES AND RALLI BROTHERS (ম্যাঙ্গোজ এন্ড রাল্লি ব্রাদার্স) এর আর্থিক সহযোগিতায় ঐ স্থানে সমাধিস্তম্ভ নির্মিত হয়। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে স্থানটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার অধীনে চলে যায়। বর্তমানে এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিএসসি)-এর ভিতর অবস্থিত।

ছোট্ট হলুদাকৃতির এই স্মৃতিস্তম্ভটি প্রাচীন গ্রীক মন্দিরের আদলে তৈরী। বহু গ্রীক ব্যবসায়ী এবং তাদের পরিবার পরিজনের মৃত্যুর স্মৃতি বহন করা এই স্মৃতিস্তম্ভ বর্তমানে ঢাকায় অবস্থিত একমাত্র গ্রীক স্থাপনা যা ঢাকা তথা সমগ্র পুর্ব বাংলায় গ্রীকদের উপস্থিতির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

  • নর্থ ব্রুক হল

পুরান ঢাকার ফরাশগঞ্জ রোডের ঠিক উপরে বুড়িগঙ্গা নদীর ওয়াইজ ঘাট নামক স্থানে ব্রিটিশ আমলের এক অনবদ্য স্থাপত্য নিদর্শন নর্থব্রুক হল। মোঘল এবং ব্রিটিশ শিল্পশৈলীর সংমিশ্রণে তৈরী ভবনটি ১৮৭৪ সালে ঢাকার তৎকালীন গভর্নর জেনারেল জর্জ ব্যারিং নর্থব্রুকের ঢাকা সফরকে স্মরণীয় করে রাখার উদ্দেশ্যে তৈরী করা হয়ে ছিলো।তৎকালীন ঢাকার রায় বাহাদুর, প্রভাবশালী জমিদার এবং উচ্চবিত্তদের অর্থায়নে গড়ে তোলা হয়েছিল এই অসাধারণ সুন্দর স্থাপনাটি। স্থানীয়ভাবে স্থাপনাটি লালকুঠী নামেও পরিচিত এর গাঢ় লাল রঙের ইমারতের জন্য।

এ ভবনের দুই পাশে দুটি করে মোট চারটি সুশোভিত মিনার আছে। অষ্টভুজাকৃতির মিনারগুলো মোঘল স্থাপত্যের অনুরূপে তৈরী। ভবনের উত্তর দিকে রয়েছে প্রবেশ দরজা। সবগুলো দরজাই অশ্বখুরাকৃতি ও অর্ধ-বৃত্তাকার। তখনকার দিনে ভবনটি দক্ষিণ দিক থেকে দেখতে একরকম এবং উত্তর দিক থেকে দেখতে ছিল সম্পূর্ণ অন্যরকম। ফলে নতুন কোনো দর্শনার্থী হঠাৎ চমকপ্রদ ভবনটি দেখে ঠিক বুঝে উঠতে পারতো না। ভবনটিতে তৎকালীন মোঘল তথা মুসলিম ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়েছে মোঘল স্থাপত্য এবং ব্রিটিশ স্থাপনার সুচারু সংমিশ্রণে।

নর্থব্রুক হল প্রথমদিকে টাউন হল হিসেবে ব্যবহৃত হলেও পরবর্তীতে তা পাবলিক লাইব্রেরী হিসেবে পরিচিতি পায়। শোনা যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ঢাকা পৌরসভা এই হলেই সংবর্ধনা দিয়েছিল। একসময় বুড়িগঙ্গার বুক থেকে দেখা যেত নর্থব্রুক হল  আপন জৌলুসে দাঁড়িয়ে আছে তার গৌরবময় ইতিহাস নিয়ে।কালের বিবর্তনে এখন আর সেই দৃশ্য খুব একটা দেখা যায় না।

  • আর্মেনিয়ান অ্যাপোস্টোলিক চার্চ

আর্মেনিয়ানদের বাংলায় আগমন ঘটে প্রায় সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝা মাঝিতে।পাট এবং চামড়ার ব্যবসা করে অল্পদিনেই তারা ঢাকায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করে নেয়।ঢাকার আরমানিটোলা নামক স্থানে আরমানিয়ানরা তাদের একটি সমৃদ্ধ কলোনি গড়ে তোলে। বর্তমান আর্মেনিয়ান চার্চ নির্মানের পূর্বে তারা একটি ছোট্ট উপাসনালয়তে উপাসনা করত।

 

১৭৮১ সালে, আরমানিটোলাতে তৈরী করা হয় বর্তমানের আর্মেনিয়ান চার্চ। এই গীর্জা নির্মানের পূর্বে স্থানটি আর্মেনিয়ানদের কবরস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হত। জানা যায়, আগ্রামিন ক্যাটাচিক, জনৈক আর্মেনীয়, গির্জা নির্মাণের জন্য জমি প্রদান করে। মিশেল সার্কেস, ওকৌতাত্তা সেতুর সেভরগ, আগা আমিনিয়াস এবং মরকার্স পোগেস গির্জার নির্মাণে সার্বিক সহায়তা করেছিলেন।

১৮৩৭ সাল নাগাদ গীর্জাটিতে ঘড়িসহ একটি বৃহৎ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়। বলা হয়ে থাকে, প্রায় চার মাইল দূর থেকে মানুষ সেই ঘড়ির আওয়াজ শুনতে পেত। তবে ঘড়িটি ১৮৮০ সাল নাগাদ বন্ধ হয়ে যায় এবং ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে টাওয়ারটি সম্পূর্ণ নিঃশেষ হয়ে যায়। আর্মেনিয়ান গীর্জাটিতে  সুপরিচিত ইউরোপীয় শিল্পী দ্বারা আঁকা চার্চ বিশপের একটি তৈলচিত্র ছিল, কিন্তু প্রয়াত আর্কবিশপ সাহাক আয়ভাডিয়ান ১৯০৭ সালে উক্ত পেইন্টিং তার সাথে করে নিয়ে যান।

৭৫০ফিট দীর্ঘ এই গীর্জাটি ঢাকায় আরমেনিয়ানদের সরব উপস্থিতিকেই শুধু জানান দেয় তাই নয়, সেই সাথে এই গীর্জার অনিন্দ্যসুন্দর কারুকার্য আর্মেনিয়ানদের শৈল্পিক মনোভাবেরও জানান দেয়।

 

গীর্জার সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে নিজের অজান্তেই হারিয়ে যেতে হবে ইতিহাসের অতল গভীরে। গীর্জায় অবস্থিত শতবর্ষী কবর গুলোর মধ্যে পুরানো একটি কবর ক্যাটাকিক এভাটিক টমাসের কবর। কবরের উপরে কোলকাতা থেকে কিনে আনা তার স্ত্রীর অবয়বের আদলে তৈরী মূর্তি এবং কবরে লেখা ‘শ্রেষ্ঠ স্বামী’ শব্দটি জানান দেয় ভালোবাসার মানুষকে হারানোর বেদনা কতটুকু।

বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সার্বিক সহযোগিতায় আর্মেনিয়ান অ্যাপোস্টোলিক চার্চ আজো তার  নিজস্ব মহিমাকে ধরে রেখে আর্মেনিয়ানদের গৌরব গাথা ছড়িয়ে দিচ্ছে সারাবিশ্বের বুকে।

  • ক্রিশ্চিয়ান সিমেট্রি, নারিন্দা

নারিন্দাতে অবস্থিত ক্রিশ্চিয়ান সিমেট্রি এই নগরের উত্থান পর্বের এক গৌরবময় নিদর্শন। সমৃদ্ধ ঢাকা নগরীর বাণিজ্যিক সমৃদ্ধির টানে ইংরেজ বণিকদের নিকট বাংলার রাজধানী ঢাকা তখন বাণিজ্যের তীর্থক্ষেত্র। তৎকালীন ইংরেজ বণিক এবং তাদের পরিবার পরিজনদের সমাহিত করার উদ্দেশ্যে নারিন্দা রোড, ওয়ারীতে গড়ে উঠে এই সমাধি ক্ষেত্র। ১৮২৪ সালে বিশপ হেবার এর দ্বারা সমাধিক্ষেত্রটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশপ হেবার এর বর্ণণা অনুযায়ী নারিন্দা ছিল জনমানব শুন্য এক বিরানভূমি। তাঁর বর্ণণামতে, সেই সময় তিনি নারিন্দা এলাকায় মাহুতসহ হাতি ঘুরে বেড়াতে দেখেছেন।

সিমেট্রিটিতে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এবং কারুকার্যখচিত অনেক সুন্দর কিছু কবর দেখা যায়। ধারণা করা যায়, কবরগুলো তৎকালীন ইংরেজ ব্যবসায়ী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের। ঢাকা পোগোজ স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা নিকোলাস পোগোজ এর কবর এই সিমেট্রিতে রয়েছে। জেমস র‍্যানাল, যিনি সর্বপ্রথম বাংলার নির্ভুল ম্যাপ এঁকেছিলেন, তার মেয়ে জেনি র‍্যানাল এর কবর এই সিমেট্রিতে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কবর গুলো ব্রিটিশ স্থাপত্যকলার এক অনন্য নিদর্শন।নানান ধরনের বৈশিষ্ট্যময় এবং কারুকার্যকখচিত কবরগুলো মনে করিয়ে দেয় প্রিয়জনদের শেষচিহ্নটুকু সংরক্ষণে ব্রিটিশরা কতোটা সচেতন ছিলো। কালের বিবর্তনে অনেক কবর আজ চিহ্নিত করার অযোগ্য কিন্ত চিহ্নিতযোগ্য বেশ কিছু কবরের স্মৃতিফলকে লেখা আছে হৃদয়স্পর্শী স্মৃতিচারণা।

হাঁটতে হাঁটতে সিমেট্রির ঠিক মধ্যখানে চলে এলে চোখে পড়বে অশ্বখুরাকৃতির স্মৃতিস্তম্ভ বিশিষ্ট একটি অনিন্দ্যসুন্দর কবর। ‘মুরিশ’ স্থাপত্যকলার অনুসরণে বানানো এইধরনের স্থাপনা ১৩শ’-১৬শ’ খ্রিস্টাব্দে স্পেনে বহুল প্রচলিত ছিলো। স্থানীয়ভাবে কবরটি মি.কলোম্বো এর কবর নামে পরিচিত। এখনো অবশিষ্ট রয়েছে এমন কিছু কবরের স্মৃতিফলক পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় সেই কবরগুলো ১৭শ’ শতাব্দীর মাঝামাঝিতে তৈরি, যা প্রমাণ করে বাংলায় ইংরেজদের উপস্থিতি কত আগে থেকে।

সঠিক পরিচর্যার অভাবে সিমেট্রিটি আর আগের জৌলুশে নেই।কবরগুলো ঢাকা পড়েছে ঘাসের চাদরে, মধ্যিখানের রাস্তাগুলো এখন আর রাস্তার পর্যায়ে নেই। তার পরেও কবরগুলো মনে করিয়ে দেয় শত বছরের পুরানো দূর আকাশের তারা হয়ে যাওয়া সেই মানুষগুলোর কথা যারা আজো তাদের প্রিয়জনদের ছেড়ে বহুদূরের এই কবরে শায়িত।

হলি রোজারি চার্চ (পর্তুগীজ চার্চ), তেজগাঁও

১৪৯৮সালে পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামা সর্বপ্রথম একজন ইউরোপীয় হিসেবে ভারতীয় উপমহাদেশে পা রাখেন। বলা হয়, পর্তুগীজরা হল প্রথম ইউরোপীয় যারা ঢাকায় ব্যবসা বানিজ্য শুরু করে এবং স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করে। ষোড়শ শতাব্দীর শেষের দিকে কিংবা সপ্তদশ শতাব্দীর শুরুতে তারা ভাওয়াল এলাকায় দুইটি গ্রাম কিনে নেয়, যার মধ্যে একটি অংশ বর্তমান নারিন্দা এলাকার অন্তর্গত ছিলো।

ধারণা করা হয়, সপ্তদশ শতাব্দীর শুরুতে এই এলাকায় পর্তুগীজরা একটি চার্চ গড়ে তোলে। বর্তমানে সেই চার্চের কোন হদিশ না মিললেও ধারণা করা যায় সেই চার্চটি বর্তমানে নারিন্দায় অবস্থিত ক্রিশ্চিয়ান চার্চের একটি অংশ ছিলো। এটিই ছিলো ঢাকার প্রথম গীর্জা। পর্তুগীজরা ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে একটি মিশন স্থাপন করে ১৬১৬ সালে, যা কিনা শায়েস্তা খানের সুবেদারি আমলেরও(১৬৬৪-১৬৮৮) প্রায় ৫০ বছর আগে।

কিন্তু এখনো যে গীর্জা বাংলায় পর্তুগীজদের একসময়ের গৌরবময় উপস্থিতি জানান দেয় তা হল তেজগাঁওয়ে অবস্থিত হলি রোসারি চার্চ। পর্তুগীজ অগাস্টিন মিশনারিজ কর্তৃক নির্মিত গীর্জাটি উপমহাদেশের অন্যতম পুরাতন গীর্জা হিসেবে পরিচিত। গীর্জা হতে প্রাপ্ত শিলালিপি থেকে জানা যায় যে এটি ১৬৭৭ খ্রিস্টাব্দে তৈরী। মতান্তরে বলা হয় গীর্জাটি ষোড়শ শতাব্দীতে তৈরী। সপ্তদশ শতকে ঢাকার ভ্রমণকারী সেবাস্তিয়ান মানিকী এবং ট্র্যাভেনার তাদের জার্নালগুলিতে উক্ত গীর্জার উল্লেখ করেছেন।

সপ্তদশ শতকের প্রথমার্ধে নেস্টোরিয়ান খ্রিস্টানরা গীর্জাটি শ্যাপেল তথা ছোট্ট উপাসনালয় হিসেবে ব্যবহার করার জন্য নির্মাণ করে। গীর্জার পশ্চিম অংশের দেয়ালটি ৪৮ ইঞ্চি পুরু। পূর্ব অংশটি ৮৩ ফুট এবং ৬ ইঞ্চি দীর্ঘ এবং ৩২ ফুট এবং ৩ ইঞ্চি প্রশস্ত,  দেয়ালটি ১৫ ইঞ্চি চওড়া। এর মূল অংশটি দীর্ঘ আয়তক্ষেত্র হল যেখানে উভয় পাশে সুশোভিত করিডোর রয়েছে। হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টীয় এবং আঞ্চলিক স্থাপত্যশৈলীর সংমিশ্রণে তৈরি গীর্জাটির মোট পাঁচটি প্রবেশদ্বার রয়েছ।

সম্প্রতি উক্ত এলাকায় নতুন একটি গীর্জা নির্মাণ করা হলেও পুরাতন গীর্জাটি আজো তার অনিন্দ্যসুন্দর স্থাপত্যকলা নিয়ে স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।