৫৮ রানে অলআউট থেকে ৫১ বল হাতে রেখে জয়!

২০১১ বিশ্বকাপের কথা মনে আছে?

ওই যে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে জমকালো এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল টুর্নামেন্টটা। বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বের ম্যাচে হারিয়েছিল ইংল্যান্ডকে। বিশ্বকাপের শিরোপা হাতে নিয়েছিল ভারত। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অধিনায়কসুলভ এক ইনিংস খেলে নিজেকে সর্বকালের সেরাদের কাতারে নিয়ে গিয়েছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি!

এই বর্ণনা শুনলে সাকিব আল হাসান নিশ্চয়ই হাসবেন। সাকিবের টুর্নামেন্টটা নি:সন্দেহে মনে আছে। তিনিই  যে ছিলেন অধিনায়ক। তার অধিনায়কত্বেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ অল আউট হয়েছিল মাত্র ৫৮ রানে। একই আসরেই দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে দলটিকে অল আউট হতে হয় ৭৮ রানে!

সাকিব কি করে সেই আসরকে ভুলে যান! বিশ্বকাপের পরপরই যে তিনি অধিনায়কত্ব হারিয়ে ফেললেন। এমন একটি আসরের কথা তো চাইলেও ভুলতে পারার কথা না কারোর!

এবারও সেই বিশ্বকাপের প্রসঙ্গ আসছে। কারণ, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের মাটিতে এখনও যে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছে তা তো ওই দুই দলকে হারানোর সুবাদেই। যে দলটার কাছে একদিন সাকিবরা ৫৮ রানে অল আউট হয়েছিল, তাদের বিপক্ষেই এখন ৫১ বল হাতে রেখে জয়টাকে সবার চোখে খুবই স্বাভাবিক মনে হয়।

সেই জয়ও আবার আসলো ৩২২ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে। কেউ কেউ তো মনে করছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে রান তাড়া করে এটাই সেরা জয়! জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন সেদিনের কাণ্ডারী সাকিব।

হ্যা, বাংলাদেশ দল ঠিক এতটাই এগিয়ে গেছে এখন। ২০১৮ সাল এই বিশ্বকাপ অবধি – বাংলাদেশ যে ১০ টা ওয়ানডেতে ক্যারিবিয়ানদের মুখোমুখি হয়েছে – জিতেছে তার মধ্যে আটটিতেও। শুনলে মনে হতে পারে, এর অধিকাংশই হয়তো দেশের মাটিতে।

না, বাংলাদেশের এই আট জয়ের ছয়টিই এসেছে ভিনদেশে, বিরুদ্ধ কন্ডিশনে, মাত্র সাত ম্যাচ খেলে। আর দেশের মাটিতে তিন ম্যাচ খেলে মাশরাফিরা জিতেছে দু’টিতে। বোঝাই যাচ্ছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মত দলের জন্য এখন যেকোনো কন্ডিশনেই বাংলাদেশ বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে, তা সে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে যতই গেইল, রাসেল কিংবা হোল্ডাররা থাকুক না কেন!

এবারের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজারও মনে থাকার কথা সেই ২০১১ বিশ্বকাপের কথা। ইনজুরি আর কান্না নিয়ে তিনি যে ছিটকে গিয়েছিলেন টুর্নামেন্টের আগেই। দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন ছিল নড়াইল এক্সপ্রেসের। সেটা হয়নি।

ভিনদেশে এবার ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে নিশ্চয়ই সেই ছিটকে যাওয়া থেকেই প্রেরণা খুঁজছেন। খর্বশক্তির একটা দলের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন, শেষ করছেন দলটিকে সেরাদের কাতারে নিয়ে যাওয়ার পরই!

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।