চুমা বাবা উপাখ্যান

আসাম সম্প্রতি মিডিয়ার লাইমলাইটে এসেছে ৪০ লাখ সাত হাজার সাতশ সাত বাঙালিকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে। সম্প্রতি সেই আসামের একটি খবর আমাদের সবাইকে অবাক করে দিয়েছে। আসামের ‘অলৌকিক ক্ষমতাবিশিষ্ট’ এক ‘চুমা বাবা’ নাকি চুমুর সাহায্যে সর্ব রোগের নিরাময় করেন! তার ‘চমৎকার চুমু’র কথা আন্তর্জাতিক মিডিয়া ফলাও করে প্রচার করে। আসামের ‘চুমু বাবা’ তার চুমুর সাহায্যে নাকি নারীদের দুরারোগ্য ব্যাধি নিরাময় করেছেন!

এই ‘চুমা বাবা’র আসল নাম রামপ্রসাদ চৌহান। অনেক জল ঘোলার পর এই ‘চুমা বাবা’কে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই চুমা বাবা দাবি করতেন তার অলৌকিক ক্ষমতা আছে। তিনি আরো দাবি করেন তিনি তার চুমু দ্বারা নারীদের সমস্যা দূর করতেন। তার চুমু নাকি পারিবারিক অশান্তিও দূর করত!

আসামের মরিগাঁও জেলার ভোরালটাপ গ্রামে তিনি তার আস্তানা গেড়েছিলেন। তিন মাসের মধ্যেই চতুর্দিকে এই চুমু বাবার নাম ছড়িয়ে যায়। স্থানীয় জনগণ জানায়, তারা তাদের সমস্যা নিয়ে ‘চুমু বাবা’র কাছে হাজির হতেন। নিজেকে সাধু দাবি করা এই চুমু বাবা নাকি নিজেকে ভগবান বিষ্ণুর আশীর্বাদপুষ্ট মনে করতেন। তিনি আরো দাবী করতেন যে, তার চুমু সব অশান্তি দূর করে দিবে!

বার্তা সংস্থা এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল এক টুইট বার্তায় জানায়, এই সাধু গেল ২২ আগস্ট গ্রেফতার হয়েছেন। দ্য হিন্দুতে আসা প্রতিবেদনে মরিগাঁও-এর কর্তব্যরত পুলিশ বলেছে, ‘আমরা তার নামে নারীদের জড়িয়ে ধরা ও চুম্বন করার মত অভিযোগ আসার পর গ্রেফতার করেছি। তিনি তার নারী ভক্তদের উপর যৌন নির্যাতন চালিয়েছেন।’

এই ‘বাবা’ একটি মন্দিরও বানিয়েছিলেন, যেখানে তার ভক্তকুল তার দর্শন লাভ করত। স্থানীয় কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলে বাবার এই অদ্ভূত চুম্বনের আড়ালে যৌন-লালসা চরিতার্থ করার অভিযোগ নিয়ে খবর প্রকাশ হয়। তারপর নড়েচড়ে বসে স্থানীয় পুলিশ। এরপরই তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এখানেই শেষ নয়, ‘চুমা বাবা’র মাকেও পুলিশ কাস্টডিতে নেওয়া হয়েছে। তাকে তার ছেলের ‘অলৌকিক ক্ষমতালাভ’ এর বিষয়টা ছড়ানোর জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকগণ মনে করছেন, পিছিয়ে থাকা আসাম রাজ্যের মরিগাঁও জেলার নিম্ন শিক্ষার হারই এই ‘বাবা’র উত্থানের কারণ। এই আসামে একবিংশ শতাব্দীতেও চর্চা করা হয় কুসংস্কারের। বছরের পর বছর ধরে সেখানে চলে আসছে কালো জাদুবিদ্যার চর্চা।

বিশ্বের দ্বিতীয় জনবহুল রাষ্ট্র ভারতের মঙ্গলযান যখন মঙ্গলে অবতরণ করছে, ঠিক তখন রাম রহিম সিং, আশারাম বাপু, চুমু বাবাদের উত্থান কি পর্দার অন্তরালের অন্ধকারে ডুবে থাকা ভারতকে নির্দেশ করে না?

– বিয়িং ইন্ডিয়ান ও টাইমস নাও অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।