ইউনিভার্সাল বস ইজ ব্যাক!

‘তোমরা এক মহান ব্যক্তির দিকে তাকিয়ে আছো। আমিই সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়। আর অবশ্যই আমি এখনো ইউনিভার্সাল বস। এটা কখনো বদলাবে না। আমি এ তকমাটা কবরেও নিয়েও যাবো।’

– সিরিজ শুরুর আগেই তিনি এই কথাটা বলে রেখেছিলেন। কার পক্ষে এই কথাটা বলা সম্ভব সেটা নিশ্চয়ই ধরতে পারছেন। তিনি হচ্ছেন ক্রিস গেইল। এই দানবের ব্যাট কিংবা মুখ – কোথাও কখনোই কোনো লাগাম ছিল না।

বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমগুলো ফলাও করে এই খবর প্রচার করলেও আড়ালে আবডালে এই বক্তব্য নিয়ে রসিকতা করার লোকেরও অভাব ছিল না। সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে খেলেছেন গেল জুলাইয়ে। সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) খেলেছেন। সেখানেও তার ব্যাটিং গড় ২০-এর নিচে। ৩৯ বছর বয়সী ক্রিস্টোফর হেনরি গেইল যে ফুরিয়ে যাওয়ার দুয়ারেই দাঁড়িয়ে ছিলেন সেটা বলায় কেউই কোনো রাখঢাক রাখছিলেন না।

এই অবস্থায় বোলাররা কি ভাবতে পারে সেটা বুঝতে পেরেছিলেন গেইল। আগাম হুমকিও দিয়ে রেখেছিলেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে। বলেছিলেন, ‘আমি জানি না ইংল্যান্ডের হয়ে বোলিংয়ের শুরুটা কে করে। তবে বিশ্বের যে কোনো বোলারই গেইলের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বাধ্য। আমার বয়স ৩৯ হয়ে যাওয়ার পরও এর কোনো নড়চড় হয়নি। ওরা হয়তো অন্য কিছু ভাববে— এ লোকটার দাড়িটা ধূসর হতে চলেছে, এবার ওকে বাগে পাওয়া যাবে। এটাই ইউনিভার্সাল বসকে বধ করা সঠিক সময়, এখন ওর বয়স ৩৯!’

ম্যাচের দিন শুরুতেও গেইল ঠিক দানবীয় ছিলেন না। ইনিংসের ৩৭ তম বলে প্রথম ছক্কা হাঁকান। ম্যাচে সেটাই তাঁর প্রথম বাউন্ডারি। আগের ৩৬ টা বলে করেছিলেন মাত্র ১২ রান। এর ৬৩ বল পরই তিনি সেঞ্চুরির দেখা পান। পাবেন না কেন, এর মধ্যে বাউন্ডারিই যে হাঁকিয়েছেন ১২ টি – যার নয়টিই ছিল ছক্কা। এর চেয়েও অবাক করা ব্যাপার হল ০ থেকে ১০০ তে পৌঁছাতে মোট ৫৫ টা ডট বল খেলেছেন গেইল।

গেইলের ইনিংস থামে ১৩৫ রানে। ১২৯ ডেলিভারির ইনিংসটায় ছিল ১২ টি ছক্কা ও তিনটি চার। এর অর্থ হল ৮৪ রানই তিনি করেছেন বাউন্ডারি থেকে।

ডট বল খেলার প্রবণতাটা গেইলের একার নয়, গোটা ওয়েস্ট ইন্ডিজেরই। ২০১৬ সালে যেবার ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ, সেবার সুপার ১০ পর্বে এই ক্যারিবিয়ানরাই সর্বোচ্চ পরিমান ডট বল (৪৫.৪ %) খেলে। এমনকি যে সেমিফাইনালে ভারতের দেওয়া ১৯২ রানের লক্ষ্য তাঁড়া করে জিতে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ সেই ম্যাচেও ছিল ৪৭ টি ডট বল। চার ছক্কা থেকে এসেছিল ১৪৬ রান।

সেবার চার-ছক্কা দিয়ে সাফল্য আসলেও অবশ্য এবার আর আসলো না। কারণ, গেইলের এমন দাপুটে ইনিংসের পরও জেসন রয়, জো রুটদের সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩৬০ রানের পাহাড় তাঁড়া করে আট বল বাকি থাকতে ছয় উইকেটে জিতেছে ইংল্যান্ড!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।